বিদায়ী হজ্জের বাণী

0
86
Print Friendly, PDF & Email

“হে জনগন, আমার কথা মনযোগ দিয়ে শুনো, কেননা আমি জানি না এ বছরের পর তোমাদের মাঝে আমি আরও বেশিদিন থাকবো কিনা। সুতরাং আমি যা বলি তা খুবই সতর্কতার সাথে শুনো এবং যারা আজ এখানে উপস্থিত নেই তাদের কাছে এই বাণী পৌছে দিও।”

“হে জনগন! তোমরা যেমন এই মাস, এই দিন এবং এই শহরকে পবিত্র বলে গণ্য করো, একইভাবে প্রতিটি মুসলিমের জীবন এবং সম্পত্তিকেও পবিত্র বিশ্বস্ততার সাথে বিবেচনা করবে। তোমাদের কাছে অর্পিত মালামাল তাদের সঠিক মালিকের কাছে হস্তান্তর করবে। কাউকে আঘাত করো না, যেন (পরিণামে) তুমিও আঘাতপ্রাপ্ত না হউ। মনে রেখ তুমি অবশ্যই তোমার প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত হবে, এবং তিনি তোমার কর্মফলের জবাবদিহি করবেন।”

“আল্লাহ তোমাদের জন্যে সুদ নেয়া নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন, অতএব এখন থেকে প্রত্যেকের সুদের দায়বদ্ধতা মওকুফ করে দেয়া হলো। তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা না কোন অসমতা বিধান করবে, না তা মেনে নেবে।…”

“শয়তান থেকে সাবধান থেকো, তোমাদের নিজের ধর্মের নিরাপত্তার জন্যে। সে তোমাদের বড় কোন বিষয়ে ধবংসের পথে পরিচালিত করার আশা ছেড়ে দিয়েছে, তাই ছোট বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণের ব্যপারে সাবধান থেকো।”

“হে জনগন, এটা সত্য যে তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে, কিন্তু তাদেরও তেমনি তোমাদের উপর অধিকার রয়েছে। মনে রেখ তোমরা তাদের স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেছো একমাত্র আল্লাহর উপর বিশ্বাস এবং তাঁর অনুমতির ভিত্তিতে। তারা যদি তোমাদের অধিকার মেনে চলে, তবে তাদেরও অধিকার রয়েছে তোমাদের পক্ষ থেকে নম্রতার সাথে তাদের খাদ্য এবং বস্ত্র সংস্থানের। তোমাদের স্ত্রীদের সাথে ভাল আচরণ করো এবং বিনম্র হও, যেহেতু তারা তোমাদের অংশীদার এবং বিশ্বস্ত সহকারী। এবং তোমাদের অধিকার এই যে তারা কারও সাথে বন্ধুত্ব করবে না যে ক্ষেত্রে তোমরা অনুমোদন না দাও, সেই সাথে কখনোই অন্য কারও সাথে অবৈধ যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ তো বটেই।”

“হে জনগন, আমার কথা নিশ্চিতরূপে শুন, আল্লাহর ইবাদত করো, প্রাত্যহিক তোমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করো, রমজান মাসে রোজা রাখো, এবং তোমাদের সম্পত্তি থেকে যাকাত দান করো। হজ্জ্ব আদায় করো যদি তোমাদের সামর্থ্য থাকে।”

“সমগ্র মানবজাতি আদম এবং হাওয়া থেকে সৃষ্ট, কোন আরবীয়ের প্রাধান্য অনারবীয়ের উপর বেশি না, না বেশি কোন অনারবীয়ের প্রাধান্য কোন আরবীয়ের উপর; তেমনি একজন শেতাঙ্গের প্রাধান্যও একজন কৃষ্ণাঙ্গের বেশি না যেমন একজন কৃষ্ণাঙ্গের প্রাধান্য বেশি না কোন শেতাঙ্গের উপর, একমাত্র তাদের ধর্মপরায়ণতা এবং ভাল কাজ ব্যতীত। জেনে রাখো যে প্রত্যেক মুসলমান প্রত্যেক মুসলমানের ভাই এবং সকল মুসলমান একক ভার্তৃত্ত্ব বন্ধনে আবদ্ধ। একজন মুসলমানের অধিকার নেই কোনকিছুর উপরই যা অপর কোন মুসলমানের সম্পত্তি, যদি না তা স্বাধীন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে প্রদান করা হয়ে থাকে। সুতরাং (এভাবে) নিজের প্রতি অবিচার করো না।”

“মনে রেখো, একদিন তুমি আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে এবং তোমার কৃতকর্মের জবাবদিহিতা করতে হবে। অতএব সাবধান, আমার প্রয়াণের পর সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ো না।”

“হে জনগন, আমার পরে আর কোন নবী বা রাসুল আসবেন না এবং নতুন কোন (সত্য ধর্মের) বিশ্বাসের জন্ম হবে না। সুতরাং ভালমতো বিবেচনা করো, হে জনগন, এবং অনুধাবন করো যেসব কথা আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করছি তা। আমি আমার পিছনে দু’টো জিনিস রেখে যাচ্ছি, ক্বোরান এবং আমার সুন্নাহের দৃষ্টান্তসমূহ, এবং তোমরা যদি এসবের অনুসরণ করো তবে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না।”

“যারা আমার কথা শুনছো তারা সবাই আমার কথাগুলো অন্যদের কাছে পৌছে দেবে এবং তারাও যেন আবার তা অন্যের কাছে পৌছে দেয়; এবং তোমরা যারা আমার কথা সামনাসামনি শুনছো তাদের থেকে হয়তো শেষের ব্যক্তিরা আমার কথার অর্থ আরও ভালভাবে বুঝতে পারবে। আমার সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ, যে আমি আপনার বার্তা আপনার বান্দাদের কাছে (ঠিকমতো) পৌছে দিয়েছি।”

মহানবী মুহম্মদ (সঃ)-এর বিদায়ী হজ্জ্বের বাণী অনলাইনে ইংরেজীতে অনেক সাইটে থাকলেও বাংলায় একসাথে কোথাও খুঁজে পেলাম না। তাই নিজের চেষ্টাতেই বিভিন্ন সাইট ঘেঁটে বিশ্বস্ততা যাঁচাই করে একে ইংরেজী থেকে বাংলায় অনুবাদ করে পোষ্ট করলাম। অনুবাদের ক্ষেত্রে শব্দের যাথার্থ অর্থ বজায় রাখার চেষ্টা থাকলেও আমার ক্ষুদ্র ভাষাজ্ঞানের বদৌলতে হয়তো এদিক সেদিক একটু হেরফের হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া মূল ভাবার্থ ঠিক রাখতে কোথাও কোথাও শাব্দিক রূপেরও কিছু সংযোজন বিয়োজন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন