এবারের বাজেট এনবিআরকে চাপে ফেলবে

0
75
Print Friendly, PDF & Email

এবারের বাজেট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)কে চাপে ফেলবে। তাই এনবিআর এখনই দীর্ঘ দীর্ঘ নি:শ্বাস ফেলছে।

এ বিষয়ে এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুল্ক তিন হাজার কোটি ও ভ্যাট দুই হাজার কোটি টাকা। বাজেট পেশের পর এনবিআর-এর একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, বাজেট প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে সব বিচার বিশ্লেষণ করে আমরা রাজস্ব এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছি। কিন্তু কতটুটু কার্যকর হবে তা বলতে পারছেনা এনবিআর।
 
এদিকে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা।যা চলতি অর্থ বাজেটের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি।

২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজস্ব জিডিপি ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ ও কর জিডিপি ছিল ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ২০১২ সালে হয়েছে রাজস্ব জিডিপি ১২ দশমিক ৮৪ শতাংশ ও কর জিডিপি ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০১৩ অর্থবছরে রাজস্ব জিডিপি ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গত চার বছরে রাজস্ব বেড়ে দ্বিগুণ ও কর-রাজস্ব জিডিপি গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ বলে অর্থমন্ত্রী বলেছেন।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি যাই হোক না কেন, বিশাল এ রাজস্ব কোনোভাবেই অর্জন সম্ভব নয় বলে অভিমত দিয়েছেন দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদেরা।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় আরো জানিয়েছেন, আয়কর খাতে চলতি বছরের তুলনায় প্রায় ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৪৮ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ভ্যাট বাবদ আদায় করতে হবে ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা।
 
আর শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। অন্যান্য কর বাবদ আরো এক হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রা থেকে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে এনবিআর। এ বিবেচনায় আদায়ের ওপর প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা ২৫ শতাংশের ওপরে ঠেকবে বলে এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করেন।

অর্থনীতিবিদদের অভিমত, আগামী অর্থবছর নির্বাচনি বছর হওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা মোকাবেলার ফলে গতি হারাবে অর্থনীতি। রাজস্ব আদায়ের বেশ বড় কিছু খাত যেমন মোবাইল ফোন ও সিগারেট কোম্পানি ছাড়া দৃশ্যমান বড় ধরনের কোনো করারোপ হয়নি।
 
এসব বিবেচনায় রাজস্ব আদায়ের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২১ শতাংশ দেখানো হলেও অর্জনের ওপর প্রকৃত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ শতাংশ হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজেটে ঘাটতির মাত্রা বাড়বে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেয়ে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অথচ আদায় হয়েছে মাত্র ৮৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের শেষ সময় হয়ত তা এক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

তিনি বলেন, সুতরাং বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আগামী বছরে এনবিআরের কর রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি হতে হবে ২০ শতাংশ বেশি। যেখানে গত বছরের লক্ষ্যমাত্রাই অর্জিত হয়নি, সেখানে এই বিপুল প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।
 
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বাজেটে রাজস্ব আদায়ের দিকগুলোকে দুর্বল করা হয়েছে। আগামী বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত ১০ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা কম আদায় হতে পারে।

শুক্রবার বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, রাজস্ব বোর্ডকে যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, তা ভেবেচিন্তে দেওয়া হয়েছে। এটি অর্জন করা মোটেই অসম্ভব নয়।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, বড় ধরনের করারোপ ছাড়া বিশাল এ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। চলতি অর্থবছরের ঘাটতি রয়েছে, প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। বিশাল এ রাজস্ব আদায়ের জন্য আগামী অর্থবছরে আরো বেশি ঘাটতি থাকবে।

শেয়ার করুন