পদ্মা সেতু নির্মাণে সমর্থন-সহায়তা প্রত্যাশা অর্থমন্ত্রীর

0
89
Print Friendly, PDF & Email

ভারতের ২০০ মিলিয়ন ডলারের অনুদান পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যবহার করবে সরকার। পদ্মা সেতু নির্মাণে দেশের জনগণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হলেও এই প্রকল্পে ‘যথাসময়ে’ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক এবং আরও কিছু উন্নয়ন সহযোগীর সমর্থন আদায় করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা জানান।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পের জন্য ভারতের অনুদান ২০০ মিলিয়ন ডলার আমরা ব্যবহার করব। আমি এ-ও আশা করছি যে, এই প্রকল্পের জন্য ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক এবং আরও কতিপয় উন্নয়ন সহযোগীর সমর্থন আমরা যথাসময়ে আদায় করতে পারব। নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ যে শুরু করেছি, সেটিই একমাত্র উপায় বলে আমার মনে হয়।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নানা কারণে আমরা পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে যে নির্ঘণ্ট প্রণয়ন করি, তা বিশ্বব্যাংকের নির্ঘণ্টের সামঞ্জস্য ছিল না। আমরা এ প্রকল্পে অধিকতর বিলম্ব পরিহার করার জন্য নিজস্ব অর্থায়নে এর প্রাথমিক কাজ শুরু করেছি।’
মুহিত বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ প্রমাণে বা খণ্ডনে এবং কানাডার মামলা শেষ হতে অনেক সময় লাগবে। এ জন্য অপেক্ষা করা ঠিক হবে না।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা হলো, দুর্নীতি দমন কমিশন এই মামলাটির দ্রুত তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন ত্বরান্বিত করবে।’ তিনি জানান, জাজিরা সংযোগ সড়ক এবং সংশ্লিষ্ট নদী শাসনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরায় নির্মাণ ঘাঁটি স্থাপন এবং মাওয়া সংযোগ সড়কের ক্রয় প্রস্তাব অচিরেই নির্দিষ্ট হবে।
মুহিত বলেন, ‘৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতু ও নদী শাসনের কাজটি সারাবিশ্বে শুধু কয়েকজন ঠিকাদারই করতে সক্ষম। এ জন্য পূর্ব-নির্বাচিত এসব ঠিকাদারদের প্রস্তাব অতিসত্বরই আমরা আহ্বান করছি। তাই আমি মনে করি যে এই দুই কাজের জন্য চুক্তি সম্পাদন সরকারের বর্তমান মেয়াদকালেই সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, ‘এত লম্বা এবং প্রকৌশলী বিবেচনায় এত জটিল প্রকল্প একমাত্র আন্তর্জাতিক ঠিকাদারদের প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা শুধু উচিতই নয়, বরং অপরিহার্য।’
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণ। সরকারের আশা ছিল, কাজ শুরু করে মেয়াদের মধ্যেই এর নির্মাণকাজ শেষ করবে। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ আনলে কাজ স্থগিত হয়ে যায়।
সহজ শর্তে ঋণ না পেয়ে সরকার দেশীয় উদ্যোগে পদ্মা সেতু করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। অর্থেরও বড় জোগান দেওয়া হবে দেশীয় উত্স থেকে। কিছু অংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি দায় সৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার এখনো পুরো পরিকল্পনার কথা জানায়নি। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে বর্তমান মেয়াদেই পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করবে সরকার।
সম্প্রতি পদ্মা সেতু প্রকল্পে ছয় হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে সরকার।

শেয়ার করুন