কোটি টাকার মুচলেকায় চিকিৎসক সুরমানের জামিন

0
69
Print Friendly, PDF & Email

অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শরীরে সুই রেখে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা চিকিৎসক মো. সুরমান আলী এক কোটি টাকার মুচলেকায় জামিন পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মজিবুর রহমান ১০ জুন পর্যন্ত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখা অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যক্তিগত চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে।
আজ দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত আদালতে জামিনের বিষয়ে শুনানি হয়। এ সময় বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের শতাধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।
আজকের শুনানিতে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার বিষয়ে আদালত বিএমএর চট্টগ্রাম শাখার যুগ্ম সম্পাদক ফয়সল ইকবালের কাছে জানতে চান, ‘আপনারা কেন রোগীদের জিম্মি করেছেন?’ এরপর ফয়সল এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন।
আদালতে শুনানির একপর্যায়ে ভুক্তভোগী রোগী আমিনুলের মা দেলোয়ারা বেগম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আদালত এ সময় চিকিৎসক সুরমান আলীর কাছে জানতে চান, এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত কি না। সুরমান আলী নিজের দোষ স্বীকার করে ঘটনার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। পরে আদালতে তাঁকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না করতে সতর্ক করেন এবং ১০ জুন পর্যন্ত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
সুরমান আলী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাপারোস্কপিক, কলোরেক্টাল ও জেনারেল সার্জন। জি এম জাকির হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। ২০১২ সালের ৩০ মে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমিনুল ইসলামের মলদ্বারে অস্ত্রোপচারের সময় শরীরের ভেতরে সুই রেখে দেন সুরমান আলী। এরপর ওই সুই বের করতে জি এম জাকির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দুই দফা অস্ত্রোপচার করেন সুরমান আলী। কিন্তু সুই বের করতে না পারায় আমিনুলের নিতম্বে পচন ধরে। আমিনুলের অবস্থার অবনতি হলে ভারতের কলকাতায় অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত বছরের ৩০ জুন তাঁর সুই বের করা হয়। এ ঘটনায় আমিনুলের মা দেলোয়ারা বেগম নগরের পাঁচশাইশ থানায় একটি মামলা করেন।
গত বছরের ১৭ জুলাই প্রথম আলোয় ‘অস্ত্রোপচারের পর শরীরে নিডল, জীবনাশঙ্কায় এক যুবক’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

শেয়ার করুন