কেসিসি নির্বাচন: বিএনপি-জামায়াত নীরব দ্বন্দ্ব

0
71
Print Friendly, PDF & Email

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থন করা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে নীরব দ্বন্দ্ব চলছে। ১৮ দলের অন্যতম শরীক দল জামায়াতকে তাদের দাবি মতো ৩১টির মধ্যে ১০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে একটিতেও ছাড় না দেওয়ায় বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে তাদের।

কয়েক দফা চেষ্টার পরও দুই পক্ষের সমঝোতা না হওয়ায় উভয় দলের কাউন্সিলর প্রার্থীরা এ ১০টি ওয়ার্ডে আলাদা প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত এ ক্ষোভের কারণে ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামানের পক্ষে মাঠে কাজ করছে না। এ দ্বন্দ্বের ফলে ১৪ দল সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দল হিসাবে জামায়াত রাজনৈতিকভাবে দুর্বল থাকায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীরা তাদের মাঠ পর্যায়ে সঙ্গে না পাওয়ায় তেমন ক্ষতি হবে না বলে মনে করছেন।

জানা গেছে, কেসিসি নির্বাচনে ১০টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী মুখোমুখি হয়েছেন।

ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে- ১নং ওয়ার্ডে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী আবুল কালাম শিকদারের বিরুদ্ধে জামায়াতের ডা. কাজী ইয়াসিন উদ্দিন, ৩নং ওয়ার্ডে বিএনপির শেখ গাউস হোসেনের বিরুদ্ধে জামায়াতের আব্দুল খালেক হাওলাদার, ৪নং ওয়ার্ডে বিএনপির মো. কবির হোসেন বাবু মোল্লার বিরুদ্ধে জামায়াতের মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, ৬নং ওয়ার্ডে বিএনপির শেখ শওকত আলীর বিরুদ্ধে জামায়াতের আল ফিদা হোসেন, ৯নং ওয়ার্ডে বিএনপির শেখ জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জামায়াতের হাফেজ মাওলানা নাসিরউল্লাহ খান, ১২নং ওয়ার্ডে বিএনপির মনিরুজ্জামান মনির বিরুদ্ধে জামায়াতের মাস্টার শফিকুল আলম, ১৮নং ওয়ার্ডে বিএনপির হাফিজুর রহমান মনি ও রাজুল ইসলাম রাজুর বিরুদ্ধে জামায়াতের মিজানুর রহমান কবির, ১৯নং ওয়ার্ডে বিএনপির আশফাকুর রহমান কাকনের বিরুদ্ধে জামায়াতে মনিরুল ইসলাম পান্না, ২৭নং ওয়ার্ডে বিএনপির হুমায়ূন কবীরের বিরুদ্ধে জামায়াতের এসএম আক্তারুজ্জামান এবং ৩১নং ওয়ার্ডে বিএনপির জালাল উদ্দিন জালু মিয়ার বিরুদ্ধে জামায়াতের জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এসব ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের বেশ কয়েকজন বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীদের পক্ষে শিবিরের অনেক বহিরাগত প্রভাবশালী নেতারা কাজ করছেন। ফলে তারা আতঙ্কগ্রস্থ রয়েছেন।

এদিকে সর্বশেষ ২০০৮ সালে জামায়াত সমর্থিত ১৫নং ওয়ার্ডে মো. আশরাফ হোসেন ও ২৯নং ওয়ার্ডে খান মুনসুর আলী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এছাড়া দলটির বর্তমান কারাবন্দি নেতা খুলনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ১৯৯৪ সালে মেয়র পদে নির্বাচন করে ২৮ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।
জামায়াতের দলীয় সূত্র দাবি করে কেসিসি নির্বাচনে জামায়াতের ভোটব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। দলটি কোনো মেয়র প্রার্থী দেয়নি। তারা শুধু ৩১টির মধ্যে ১০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চেয়েছিল।

দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন, অতীতের তুলনায় নগরীতে এখন তাদের ভোট কয়েক গুণ বেড়েছে। জামায়াত দাবি করে, ১০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫-৬টিতে এবার তারা বিজয়ী হবেন।

এবারের কেসিসির নির্বাচনে ১৮ দল ভুক্ত দু’টি প্রধান শরিক দল একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ায় দু’দলের নেতাদের মধ্যে নীরব ক্ষোভ বিরাজ করছে। যার কারণে কয়েকটি জায়গায় লিফলেট-পোস্টার ছেড়ার ঘটনা ঘটেছে।

ক্ষোভের সঙ্গে কয়েকজন জামায়াত নেতা বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা বিএনপির আন্দোলর সংগ্রামে জোটবদ্ধ ১৮ দলের একটি দল হিসাবে রাজপথে অনেক আন্দোলন করেছি। অথচ বিএনপি একটি অকৃতজ্ঞ দল। তারা আমাদের ত্যাগের কথা মনে রাখেনি। ১০টি ওয়ার্ডে আমরা নিজেদের কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে বিএনপির সমর্থন চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপি একটিও দিতে রাজি হয়নি। এ কারণে আমরা নিজেদের মতো কাজ করছি।”

ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার দিনও সংবাদ সম্মেলনে যাননি বলে জানান তারা।

তারা আরও জানান, কাউন্সিলর প্রার্থীর বিষয়ে সমঝোতা না হলে মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামবেন না।

তবে বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাংলানিউজকে বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসাবে জামায়াত এখন রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা। মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির ভয়ে তারা প্রকাশ্যে আসতে পারছে না। আমরা তাদের কাউন্সিলর পদে বিজয় নিয়ে সংশয়ে থাকায় সর্মথন করতে পারছি না।”

এদিকে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির নির্বাচনী কাজে জামায়াত-শিবিরের কেউ উপস্থিত না থাকার প্রতিনিয়ত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে।

কেউ কেউ মনে করছেন, জামায়াতকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ছাড় না দেওয়ায় তারা বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষেও কাজ করছে না।

খুলনা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা বিএনপির সকল আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সঙ্গে থেকেছি। আমাদের অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। কারাবরণ করেছেন। এখনও অনেকে বন্দি রয়েছেন। আমাদের সে ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন কেসিসি নির্বাচনে আমরা পাইনি।”

তিনি দাবি জানান, বিএনপি যেন তাদের এ নির্বাচনে সঠিক মূল্যায়ন করে।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও ১৮ দলের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি বাংলানিউজকে বলেন, “কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে এখনো সমঝোতা হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি দ্রুতই একটি সমাধানে আসতে পারবো।”

উল্লেখ্য, ১৫ জুন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৪র্থ দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন