সংসদে ফিরেই বিএনপির ওয়াকআউট

0
125
Print Friendly, PDF & Email

নিয়ম অনুযায়ী সদস্য পদ বাঁচাতে সংসদে ফেরার কোনো বিকল্প ছিল না বিরোধী দলের সাংসদদের সামনে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলেছে, সদস্যপদ ও বেতন ভাতা ঠিক রাখতেই প্রধান বিরোধী দল সংসদে এসেছিল।

বিরোধী দল বেরিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতাসীন দলের সাংসদরা এর সমালোচনায় কিছুক্ষণ বক্তব্য দিলেও নিরুত্তাপভাবেই শেষ হয় নবম জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনের প্রথম দিন। 

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নতুন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারের শেষ বছরের এই বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। এর ২০ মিনিটের মাথায় বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ও শরিক দলগুলোর ৩৮ সংসদ সদস্য অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন।

সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদসহ ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্যরা এ সময় টেবিল চাপড়ে তাদের স্বাগত জানান।

স্পিকার শিরীন শারমিনও বিরোধী দলীয় নেতাকে অভিনন্দন জানান। খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেতা আসনে বসার আগে নতুন স্পিকার হাত তুলে তাকে সালাম জানান।

সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে মাগরিবের নামাজের জন্য স্পিকার ২০ মিনিটের বিরতি দিলে খালেদা জিয়া দলীয় সাংসদের সঙ্গে কথা বলার জন্য লবিতে যান। এর কিছুক্ষণ পর তিনি রওনা হন গুলশানের বাসার দিকে।

বিরোধী দলীয় নেতা এদিন অধিবেশনে কাটান ৫১ মিনিট। এই প্রথমবারের মতো সংসদের কর্তৃত্বময় তিন পদ- সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা ও স্পিকারের আসনে তিনজন নারীকে দেখল বাংলাদেশ। 

মাগরিবের বিরতির পর বিরোধী দলের প্রথম সারিতে উপস্থিত ছিলেন মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার ও এম কে আনোয়ারসহ সাংসদরা। তারা প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নেন।

এক পর্যায়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ সাংসদ মওদুদ আহমদ সভা সমাবেশে ‘সরকারের নিষেধাজ্ঞা’ এবং এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘‘ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এহেন ঘোষণা বেআইনি, অসাংবিধানিক ও অনৈতিক। আমরা এর নিন্দা জানাই। এর প্রতিবাদে আমরা আজকের বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করছি।’’

তার এই বক্তব্যের সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীরও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে মওদুদ সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আমরা অধিবেশনে ফিরে যাচ্ছি না। কাল মঙ্গলবার আবার সংসদে যাব।”

পয়েন্ট অব অর্ডারে মওদুদ বলেন, দেশে সভা-সমাবেশ বন্ধ করার কোনো আইন নেই। কেবল জরুরি অবস্থায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া যায়।

“তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে, দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। তাহলে এক জনের মুখের ঘোষণায় জরুরি আইনে চলবে?”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এই বিএনপি নেতা বলেন, “আমি তার প্রতি অনুরোধ রাখব, এহেন ঘোষণার জন্য আপনি সংসদে ভুল স্বীকার করে ঘোষণাটি প্রত্যাহার করে নেবেন। এতে আপনার সন্মান কমবে না।  বরং আপনার সরকারের সন্মান বৃদ্ধি পাবে।’’

অধিবেশনের স্বাগত বক্তব্যে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে আলোচনার মাধ্যমেই গ্রহণযোগ্য সমাধান আসতে পারে।

 “আমি বিশ্বাস করি আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো রাজনৈতিক সংকট ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্যের গ্রহণযোগ্য সমাধান আমরা বের করতে পারি।”

তার ওই বক্তব্যের সূত্র ধরে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘‘ আপনার বক্তব্যের সময়ে আমরা হাউজে ছিলাম না। তবে শুনেছি-আপনি গণতন্ত্র, মূল্যবোধ, আইনের শাসনের কথা বলেছেন। এটা শুনতে আমাদের ভালোই লেগেছে। তবে আপনার বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল দেখি না।

“বিএনপি দেশের একটি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। তাকে সভা-সমাবেশ-মিছিল করতে দেয়া হবে না। এ অবস্থায় দেশে গণতন্ত্র এখন নেই বলে জনগণ মনে করে।’’

গত ১৯ মে চট্টগ্রামে এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, রাজধানীতে একমাস সভা-সমাবেশ-মিছিলের অনুমতি দেয়া হবে না।

তার ওই বক্তব্যের পর ক্ষমতাসীন মহাজোটের নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে উল্লেখ করেন মওদুদ।

বিএনপি ওয়াক আউট করার পর আরো ঘণ্টাখানেক অধিবেশন চলে।

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সাংসদ তোফায়েল আহমেদ বলেন, “আজ প্রমাণ হয়ে গেছে, বেতন ভাতা ও সদস্য পদ রাখতে তারা (বিএনপি) সংসদে এসেছেন। আর আট দিন অনুপস্থিত থাকলে তাদের সদস্য পদ বাতিল হয়ে যেত।”

মওদুদকে উদ্দেশ্য করে তোফায়েল প্রশ্ন রাখেন, তার বক্তব্যের সময় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না হলেও বিএনপি ওয়াক আউট করল কেন?

রাত ৯টা পর্যন্ত অধিবেশনে সন্ত্রাসবিরোধী বিলের সংশোধনী সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

এরপর অধিবেশন মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

শেয়ার করুন