প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার স্বতন্ত্র বোর্ড

0
80
Print Friendly, PDF & Email

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় একটি স্বতন্ত্র বোর্ড গঠনের কথা ভাবছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী বছর এই বোর্ড গঠনের কাজ শুরু হবে।

প্রাথমিক স্তরে দেশের সর্বাধিক পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সব থেকে বড় প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণ, পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল প্রদানসহ পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কাজ এই বোর্ডের আওতায় পরিচালিত হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. মোতাহার হোসেন জানান, “প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এই বোর্ড গঠন করা হবে।”

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালে। প্রথমবার সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৩ হাজার ৪৬৫ জন। উত্তীর্ণ হয় ১৬ লাখ ২০ হাজার ৫৪ জন।

পরের বছর শুরু হয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা।

২০১০ সালের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনীতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মোট ২৪ লাখ ৮৮ হাজার ১৪৮ জন। ২০১১ সালে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ীর সমাপনীতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মোট ২৪ লাখ ৮৮ হাজার ১৪৮ জন। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ২১ লাখ ৫৬ হাজার ৭২১ জন।

২০১১ সালে দুই পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৬ লাখ ৩৭ হাজার ২৩৫ জন। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ২৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৮৫ জন ও ইবতেদায়ীতে তিন লাখ ২১ হাজারের মতো শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

সর্বশেষ ২০১২ সালে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ২৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। ফলে এই পরীক্ষা গ্রহণেও নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক স্তরের এই পাবলিক পরীক্ষায় ফলাফল তৈরিতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার উত্তরপত্র সংশ্লিষ্ট জেলায় চলে যায়। রেজাল্ট শিট তৈরি হয় উপজেলা শিক্ষা অফিসে। ফলে বৃত্তি প্রাপ্তির আশায় ভাল ফলাফলের জন্য উত্তরপত্রে নম্বর বেশি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এই বিষয়টি নিরসনেও স্বতন্ত্র বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. মোতাহার হোসেন বলেন, “জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (ন্যাপ) একটি উইংয়ের মাধ্যমে বোর্ড গঠনের প্রাথমিক কাযর্ক্রম শুরু করা হবে।”

আগামী অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ পেলে অবকাঠামোসহ অন্যান্য কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

শেয়ার করুন