সংসদে বিরোধী দলের ২ ঘণ্টা, খালেদার ৫০ মিনিট

0
56
Print Friendly, PDF & Email

দুই ঘণ্টা ১০ মিনিট সংসদ অধিবেশনে অবস্থান করে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় সাংসদেরা। এর মধ্যে অবশ্য মাগরিবের নামাজের জন্য সংসদের কার্যক্রমে প্রায় ২৫ মিনিট বিরতি ছিল। এই সংসদে আর যোগ না দিলেও বিরোধী দলের সাংসদদের সদস্যপদ বাতিল হবে না।
সংসদে যোগ দিয়েই বিরোধী দলের সাংসদেরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া প্রায় ৫০ মিনিট অধিবেশন কক্ষে ছিলেন। মাগরিবের নামাজের বিরতিতে তিনি সংসদ ভবন ত্যাগ করেন। রাত আটটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে বাকি সাংসদেরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
সংসদ সদস্যপদ রক্ষা করতে হলে বিএনপিকে এই সংসদে যোগ দিতেই হতো। বিএনপি টানা ৮৩ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত ছিল। আজ সংসদে হাজির হয়ে নবম সংসদে বিএনপির সাংসদেরা তাঁদের সদস্যপদ রক্ষা করছেন। খালেদা জিয়াও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে পদ রক্ষা করেছেন।
আজ প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অর্ডারে আলোচনায় অংশ নেন মওদুদ আহমদ। সভা-সমাবেশের ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে তাঁদের দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছে বলে জানান তিনি। এই নিষেধাজ্ঞার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে সংসদে ক্ষমা চাইতে বলেন মওদুদ।
মওদুদ আহমদ বলেন, ‘ঢাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার আদেশ অনৈতিক, বেআইনি ও অসাংবিধানিক। মন্ত্রিসভা, মন্ত্রণালয় আদেশ দেয়নি। ১৪ দলের বৈঠকে শরিক রাশেদ খান মেনন এর নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা কোন দেশে বাস করছি। এটাই কি গণতন্ত্র? গণতন্ত্রের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। বিএনপির মতো দেশের সর্ববৃহত্ রাজনৈতিক দলকে সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়া মানে দেশে গণতন্ত্র নেই”।’
মওদুদ বলেন, ‘তাহলে কি ধরে নেওয়া হবে দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। মৌখিক আদেশে এমন জরুরি অবস্থা হয় না। দেশ কি এখন মুখের কথায় চলছে? মুখের কথায় মৌলিক অধিকার হরণ এই সরকারের কলঙ্কজনক কাজ হয়ে থাকবে।’ তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কোনো সরকার শেষ সরকার নয়। বিএনপিও আজীবন বিরোধী দলে থাকবে না, আওয়ামী লীগও সরকারে থাকবে না। বিএনপি যদি ক্ষমতায় এসে এমন সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে আওয়ামী লীগের কী প্রতিক্রিয়া হতো?’ তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সংসদে ক্ষমা চাইলে বলেন। মওদুদ বলেন, ‘এতে লজ্জার কিছু নেই। বরং এটা করা হলে সরকারের সম্মান বাড়বে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটা করলে সংসদ কার্যকর করতে বিএনপি ভূমিকা রাখবে।’

বিএনপি পদ রক্ষার জন্য সংসদে
বিএনপি ওয়াকআউট করার পর আওয়ামী লীগের সাংসদ ও দলটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমদ বলেন, এই ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, বিএনপি সংসদ সদস্যপদ রক্ষার জন্য সংসদে এসেছে। আর সাত দিন অনুপস্থিত থাকলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হয়ে যেতো। তিনি বলেন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেননা, তাদের বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া হয়নি। মাইকও বন্ধ করা হয়নি।
মওদুদকে উদ্দেশ করে তোফায়েল আরও বলেন, ‘মওদুদ আহমেদ সাহেব উইথআউট অ্যানি ইন্টারাপশন বক্তব্য দিলেন। উনারা ওয়াকআউট করলেন কেন?’ তিনি বলেন, ‘মওদুদ সাহেব এখন বিরোধীদলীয় নেতার পাশে বসেন। ওনার কি মনে আছে, উনি যখন আইন শিখাচ্ছিলেন, তখন এরশাদ সাহেব পদত্যাগ করেন। ৯১ সালে কি জাতীয় পার্টিকে সমাবেশ করতে দেওয়া হয়েছিল?’
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশের আগের দিন একই জায়গায় বিএনপির মহাসমাবেশ থেকে খালেদা জিয়ার আলটিমেটাম এবং হেফাজতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া ভেবেছিলেন তারা ৫ তারিখে অবস্থান করবে, আর ৬ তারিখ সব তছনছ করে দেবে। বিএনপি এ ধরনের সভা-সমাবেশ করার অনুমতি চায়? এ ধরনের সভা-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া যায় না।’ তিনি বলেন, ‘আজকে সিগনেচার করে চলে গেলেন, আর ইচ্ছে করলে না-ও আসতে পারেন। আর দেখা না-ও হতে পারে।’
তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘অসত্ উদ্দেশে ৪ মে বিএনপি শাপলা চত্বরে সমাবেশ করেছিল। সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছিল। এর আগে একবার সেনাবাহিনীকে ইঙ্গিত করেও বলেছিলেন, সেনাবাহিনী সময়মতো দায়িত্ব পালন করবে।’

শেয়ার করুন