ব্রিটেনে হুমকির মুখে বাংলাদেশি সব ব্যাংক

0
56
Print Friendly, PDF & Email

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর সব এক্সচেঞ্জ হাউস (শাখা) বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। অর্থ পাচারের ঝুঁকির কথা জানিয়ে দেশটির কোনো ব্যাংক আর বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্ট রাখতে চাইছে না।

এর  ফলে বাংলাদেশের ১৮টি ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউস নিয়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্যবসা গুটিয়ে দেশে ফেরত আসতে হচ্ছে তাদের। এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রায় আট হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠানোর বৈধ পথ বন্ধ হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টির একটি সন্তোষজনক সুরাহা করতে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় লন্ডনে যাচ্ছেন খোদ বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। আর এরই মধ্যে অনেক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সেখানে গিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফেরত এসেছেন। অনেকেই সেখানে অবস্থান করে সমাধানের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, এ মুহূর্তে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ১৮টি ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউস রয়েছে। যাদের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে। কিন্তু এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো বন্ধ হয়ে গেলে সব রেমিট্যান্স অবৈধ পথে হুন্ডির মাধ্যমে আসবে। এতে করে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি নতুন করে বাড়বে বাংলাদেশে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সবশেষ গভর্নরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা শঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে এব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চান।

 তারা বলেন, তাদের এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো বন্ধ হয়ে গেলে যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসী আয় যেমন কমে যাবে, আবার তাদেরও ব্যবসায়িক ক্ষতির মধ্যে পড়তে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, এরপর গভর্নর সমস্যার সমাধানে লন্ডনে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৮ তারিখ তিনি লন্ডনে যাবেন। সেখানে বাংলাদেশের হাই কমিশনারকে নিয়ে তিনি বৈঠক করবেন। এরই মধ্যে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশন এব্যাপারে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র বলছে, এরই মধ্যে বার্কলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে সব ব্যাংককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তারা আর বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে অ্যাকাউন্ট রাখবে না। বার্কলের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলো অ্যাকাউন্ট রক্ষা করে এক্সচেঞ্জ হাউস পরিচালনা করে। সূত্র বলছে, অর্থ পাচারের ঝুঁকি দেখিয়ে মূলত বার্কলেস ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, এরপর বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর পক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে হাবীব ব্যাংকের সঙ্গে অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করা হয়। তবে হাবীব ব্যাংক জানিয়েছে দিয়েছে, বার্কলে ব্যাংক যে ঝুঁকি বিবেচনা করে হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে সেই ঝুঁকি তারা নিতে আগ্রহী নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ মুহূর্তে সোনালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, যমুনা ব্যাং, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, এবি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিউটুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউস রয়েছে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে।

জানতে চাইলে, একটি ব্যাংকের এমডি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যুক্তরাজ্যের বার্কলে ব্যাংকের সিদ্ধান্তে আমরা বিপদের মধ্যে আছি। চেষ্টা করছি অন্য কোনো ব্যাংকের সঙ্গে অ্যাকাউন্ট খুলতে। তবে কেউ রাজি হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে যদি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো বন্ধ হয়ে যায় তবে চরম ক্ষতি গুনতে হবে আমাদের। তাছাড়া দেশের ভাবমূর্তিরও বিষয় রয়েছে এখানে।”

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছি। সোনালী ব্যাংক ও হাই কমিশন চেষ্টা চালাচ্ছে। আশা করি, একটি সুরাহা হবে।”

শেয়ার করুন