ঢাবিতে বহুরূপী প্রেমিককে গণপিটুনি

0
79
Print Friendly, PDF & Email

‘পাপ বাপকে ছাড়ে না’- এ প্রবাদ বাক্যের প্রমাণ পাওয়া গেলো আরেকবার। সময় দুপুর ১২টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সামনে ডেটিং করছে প্রেমিক-প্রেমিকা। প্রেমিকা শামসুন্নাহার হলেরই ছাত্রী। প্রেমিকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাদের প্রেমের সম্পর্ক প্রায় ৫ বছরের। বিভিন্ন জায়গায় স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়েও ঘোরাফেরা করেছে। করেছে মেলা-মেশা। করেছে ভুয়া কাবিন। কিন্তু বহুরূপী এ প্রেমিকের বিয়ে ঠিক হয়েছে আরেক জায়গায়। শনিবার রাজধানীতে বাজার করতেও এসেছে সে। সঙ্গে নিয়ে এসেছে হবু শ্যালককে।

শ্যালককে অন্য জায়গায় রেখে পুরোনো প্রেমিকার সঙ্গে ডেটিং করছে শামসুন্নাহার হলের সামনে। শ্যালক হবু দুলাভাইকে খোঁজে হয়রান। ফোনের পর ফোন। না পেয়ে ঘোরাঘুরি। একপর্যায়ে এসে দেখে তার হবু দুলাভাই অন্য মেয়ের সঙ্গে ডেটিং করছে শামসুন্নাহার হলের সামনে। আর যায় কোথায়! কথা কাটাকাটি। একপর্যায়ে বিষয়টি জেনে যায় ঢাবির ওই ছাত্রী।

এতোদিন তার সঙ্গে প্রতারণা করছে বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক জানায় কয়েকজন বন্ধুকে। বাংলা সিনেমার ভিলেনের মতো ৫/৬ বন্ধু চলে আসে শামসুন্নার হলের সামনে। চলে গণপিটুনি। রক্তাক্ত প্রেমিক। হবু শ্যালক তখন দর্শক। সব ঘটনা জানাজানি হয়ে যায় ঢাবি এলাকায়। বাড়তে থাকে উত্তম-মধ্যম। শেষ পর্যন্ত প্রতারিত ঢাবি ছাত্রীই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মুক্ত করে প্রতারক প্রেমিককে। বাঙালি মেয়ে বলে কথা! মুক্ত হয়েই প্রতারক প্রেমিক ক্যাম্পাস ছাড়ে।

ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শামসুন্নাহার হলের মাস্টার্সের এক ছাত্রী বলেন, এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অনেক ছাত্র-ছাত্রী একত্রিত হয়। প্রতারককে মারধর করেন অনেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই ছাত্রীর অনুরোধে প্রতারক প্রেমিক মুক্তি পায়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন