কামারুজ্জামানের পক্ষে ১০৯ যুক্তি

0
53
Print Friendly, PDF & Email

অভিযোগ ছিলো সাতটি। দু’টিতে ফাঁসি, দু’টিতে যাবজ্জীবন আর একটিতে ১০ বছরের জেল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানকে এ সাজা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অবশিষ্ট দুই অভিযোগ প্রমাণ হয়নি।

কিন্তু দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ অভিযোগের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে ১০৯টি যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

জানা গেছে, ১০৯টি যুক্তিতে তৈরি হয়েছে আপিল আবেদন। এ আপিলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের বেকসুর খালাস চাওয়া হবে।

জামায়াতের আইনজীবীরা প্রায় একমাস পরিশ্রমের পর কামারুজ্জামানকে দেওয়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে এসব যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন।

দু’একদিনের মধ্যেই তা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জমা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে তৃতীয় মামলা স্তানান্তর হবে সুপ্রিম কোর্টে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার পরপরই কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনাল থেকে কড়া পুলিশি পাহারায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের বিধি অনুযায়ী, দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যেই আপিল করতে হয়। সে সময়ের প্রতি লক্ষ্য রেখেই জামায়াতের আইনজীবীদের একটি বড় দল এ আবেদন তৈরি করেন।

জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবী ব্যরিস্টার রাজ্জাক বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা কামারুজ্জামানের পক্ষে আপিল করব। আপিলে তার বেকসুর খালাস চাওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেন নি। আমরা আশা করব, আপিল বিভাগের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কামারুজ্জামান সাহেব সব অভিযোগ থেকে খালাস পাবেন।”

কামারুজ্জমানের মামলার অন্যতম আইনজীবী শিশির মুনীর বলেন, “কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের পর্যালোচনা করে আমরা তার খালাস আবেদন তৈরি করেছি। সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রায় ১০৯টি যুক্তিতে আমরা এ জামায়াত নেতার খালাস চাইব।”

তিনি বলেন, “প্রধান যুক্তিগুলোর মধ্যে আমরা উল্লেখ করেছি যে, কামারুজ্জামান সাহেবের বিরুদ্ধে আনা চার্জে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’র অভিযোগ ছিল না। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে সে অপরাধে শাস্তি দিয়েছেন। এটি হতে পারে না।”
 
ট্রাইব্যুনালে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া সাক্ষীদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেখা যায়। ৪১ বছর পরের ঘটনায় এমনটি হতে পারে উল্লেখ করে সেগুলোকে আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

শিশির বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার সুযোগ আসামি পক্ষকে দেয়নি ট্রাইব্যুনাল। এর ফলে আসামি ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়েছেন।”

রায়ে জামায়াতের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ অযাচিত মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, “বিচারকরা রায়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছেন। যার সবই অপ্রয়োজনীয়। কারণ, জামায়াতের বিরুদ্ধে এ মামলায় কোন অভিযোগ ছিল না। কেউ ডিফেন্ডও করেন নি। তাহলে রায়ে জামায়াতের কথা কেন আসবে?”

উল্লেখ্য, কামারুজ্জাম‍ানের রায়ে জামায়াতের নানাবিধ অপকর্ম তুলে ধরে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “পাকিস্তানি বাহিনীর সহায়তার মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে জামায়াত।”

এছাড়া  এ দুই অভিযোগে কামারুজ্জামানের ফাঁসি, দু’টিতে যাবজ্জীবন ও একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১০ বছরের জেল দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে প্রসিকিউশনের আনা আরো দু’টি অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন তারা।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৩ বছর দেড় মাস পার করে ৪র্থ রায় ঘোষণা করেন।

কামারুজ্জামানের আগে আরো তিনটি রায় ঘোষিত হয়েছে। এগুলোতে জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে মৃত্যদণ্ড এবং যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন দেন ট্রাইব্যুনাল।

এদের মধ্যে সাঈদী ও কাদের মোল্লার মামলা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এখনো বিচারাধীন।

শেয়ার করুন