বাড়তি চুল পড়া হতে পারে রোগের লক্ষণ

0
138
Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিন গড়ে ৫০-১০০ চুল ঝরে যাওয়াটা স্বাভাবিক। স্বাভাবিক নিয়মে তা পূরণ হয়ে যায়। কিন্তু তা অতিরিক্ত হলে দুশ্চিন্তার কারণ। অযত্ন, অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার, রং ও রাসায়নিকের ব্যবহার, ঘন ঘন স্টাইল পরিবর্তন ইত্যাদি চুলের ক্ষতি করে। বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়, বিশেষ করে কেমোথেরাপির পর চুল ঝরে যেতে পারে।
কখনো অতিরিক্ত চুল পড়া হতে পারে জটিল কোনো রোগের লক্ষণ। চিনে নিন রোগগুলো।
হাইপোথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোনের ঘাটতি হলে দেখা দেয় নানা উপসর্গ, যেমন ওজন বাড়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্লান্তি, দুর্বলতা, বিষণ্নতা, কাজে ধীর গতি, মনোযোগের অভাব, মাসিকের অনিয়ম, পা ফোলা ইত্যাদি। একই সঙ্গে চামড়ার খসখসে ভাব, নখের ভঙ্গুরতা ও অতিরিক্ত চুল পড়া।
হাইপার থাইরয়েডিজম: থাইরক্সিন হরমোনের আধিক্যেও চুল ঝরতে পারে। সঙ্গে ওজন হ্রাস, অস্থিরতা, খিটখিটে ভাব, বুক ধড়ফড় করা, ডায়রিয়া, অতিরিক্ত গরম লাগা, হাতের তালু ঘামা ইত্যাদি।
এসএলই বা লুপাস: এ রোগে শরীরের নিজস্ব কোষ কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নাক ও গালে র‌্যাশ, মুখে ঘা, জ্বর, গিরা ব্যথা এবং চুল পড়া এ রোগের লক্ষণ।
রক্তশূন্যতা: অপুষ্টি, কৃমি, মাসিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা পরিপাকতন্ত্রে আলসারের দরুন রক্তক্ষরণের জন্য লৌহের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। ফ্যাকাশে ভাব, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা, অতিরিক্ত চুল পড়া এ রোগের লক্ষণ।
পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম: পারিবারিক ইতিহাস ও অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের অসামঞ্জস্যের ফলে বয়ঃসন্ধির সময় মেয়েদের ওজন বেড়ে যায়, মাসিক অনিয়মিত হয়, শরীরে অতিরিক্ত লোম গজায়। সেই সঙ্গে মাথার চুল অতিরিক্ত ঝরে যেতে পারে।
মাথার ত্বকের রোগ: সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস, টিনিয়া ক্যাপিটিস ইত্যাদি ত্বকের রোগে অতিরিক্ত চুল ঝরে।
এলেপেসিয়া এরিয়েটা: রোগ প্রতিরোধক্ষমতার অস্বাভাবিকতা চুলের গোড়া বা ফলিকল ধ্বংস করে। শারীরিক ও মানসিক চাপ এ রোগ বাড়িয়ে দিতে পারে। এ রোগের কারণে মাথার চামড়ার বিভিন্ন স্থান থেকে চুল ঝরে যেতে পারে।  মেডিসিন বিভাগ, ইউনাইটেড হাসপাতাল।

শেয়ার করুন