প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত নেতাদের ছবি ব্যবহারের অভিযোগ

0
121
Print Friendly, PDF & Email

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ও নাগরিক কমিটির মেয়র পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে তাঁর চারটি নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে ডিজিটাল ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রার্থীর বাবা প্রয়াত জাতীয় নেতা এ এইচ এম কামরুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপি-সমর্থিত ও সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের মেয়র পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন গতকাল শনিবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ছবিসহ এ অভিযোগ করেন।
অপরদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন।
মোসাদ্দেক হোসেন অভিযোগ করেন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের সামনে ডিজিটাল ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রার্থীর বাবার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগে আরও বলা হয়, একই রকম ছবি ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের সামনে কদমগাছের সঙ্গে, বিন্দু হোটেলের নিচে ‘অবৈধ’ কার্যালয়ের সামনে ও সাহেব বাজার এলাকায় আরডিএ মার্কেটের সামনে লাগানো রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খায়রুজ্জামান ১৭০টি নতুন কার্যালয় স্থাপন করেছেন এবং তাঁর স্ত্রী শাহীন আক্তার সিটি করপোরেশন পরিচালিত বেসরকারি সংস্থা সিডিসির সভানেত্রী পদে থেকে কর্মচারীদের প্রচারণার কাজে ব্যবহার করছেন। এ ছাড়াও গত বৃহস্পতিবার সিটি করপোরেশনের সীমানাসংলগ্ন হরিয়ানে রাজশাহী চিনিকলের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তিনজন প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের ১৭ জন সাংসদের বৈঠকের কারণে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মোসাদ্দেক হোসেনের পক্ষে তোফাজ্জল হোসেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এসব অভিযোগ দাখিল করেন। জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিলেন মোসাদ্দেক: খায়রুজ্জামানের ধ্বংস চেয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতার মোনাজাত ও একাধিক নির্বাচনী কার্যালয় করার ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। এতে বলা হয়, মোনাজাত পরিচালনাকারী সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের কেউ নন। তাই যিনি মোনাজাত করেছেন, দায়দায়িত্ব তাঁর ব্যক্তিগত।
একটি ওয়ার্ডে দুই থেকে ১১টি পর্যন্ত নির্বাচনী কার্যালয় করার অভিযোগের জবাবে বলা হয়েছে, নগরের চারটি থানায় মোসাদ্দেক হোসেনের চারটি কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এর বাইরে সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের কোনো কার্যালয় স্থাপন করা হয়নি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের নামে কোনো কার্যালয় স্থাপন করলে তার দায়দায়িত্ব সম্মিলিত নাগরিক ফোরাম বা ফোরামের মনোনীত প্রার্থীর নয়। জবাবের ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, মোসাদ্দেক হোসেনের জবাবগুলো তাঁরা হাতে পেয়েছেন। রাতে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন