মালালার চরিত্রে বাংলাদেশের ফাতিমা

0
142
Print Friendly, PDF & Email

অবশেষে মালালা ইউসুফজাইকে খুঁজে পেলেন চলচ্চিত্রনির্মাতা আমজাদ খান। ‘গুল মাকাই’ চলচ্চিত্রে পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করবে বাংলাদেশের ফাতিমা শেখ। সে ঢাকায় থাকে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, মালালার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রায় দেড় মাস আগেই ফাতিমাকে খুঁজে পান চলচ্চিত্রনির্মাতা আমজাদ খান। তবে সংগত কারণেই তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়। এমনকি লুক টেস্ট ও স্ক্রিনিং টেস্টের সময়েও ফাতিমার পরিচয় জানানো হয়নি। আমজাদ খান জানান, পরিচয় গোপন রাখার দুটি কারণ ছিল। প্রথমত, মালালার চরিত্রে ফাতিমা অভিনয়ের ব্যাপারে একেবারেই রাজি ছিলেন না তার বাবা-মা। দ্বিতীয়ত, ফাতিমা এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়ে কাজ করার (ওয়ার্ক পারমিট) জন্য আদৌ অনুমতি পাবে কি না, তা-ও নিশ্চিত ছিল না। ফাতিমা শেখ বাংলাদেশের নাগরিক। তাই ভারতে গিয়ে মালালার চরিত্রে অভিনয় করার জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। মাত্র ১০ দিন আগে সেই অনুমতি পেয়েছে ফাতিমা।
এসব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে মালালার চরিত্রে ফাতিমার অভিনয় করা এখন নিশ্চিত। এজন্য কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি চলচ্চিত্রনির্মাতা আমজাদ খানকে। তাঁর ভাষ্য, ‘ফাতিমাকে প্যারেন্টস কো মানানে মে বহুত ওয়াক্ত লাগ গ্যায়ে।’ শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের দ্বিতীয় অংশের শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফাতিমার চেহারা দেখানো যাবে না, এই শর্তে রাজি হন তার মা-বাবা। শুধু ফাতিমার কাজের অনুমতি নয়, শুটিংয়ের অনুমতির জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছেও ছোটাছুটি করতে হয়েছে চলচ্চিত্রনির্মাতা আমজাদ খানকে। ইসলামাবাদ ও করাচিতে শুটিংয়ের অনুমতি পেতে তিন মাস সময় লেগেছে বলে জানান তিনি। শুটিংয়ের জন্য আগামী নভেম্বর মাসে পাকিস্তানে যাবেন আমজাদ খান। তিনি জানান, কাজটি কঠিন। কারণ, তালেবানদের কর্মকাণ্ড শুটিং করতে হবে। কীভাবে তালেবানরা নতুনদের প্রশিক্ষণ দেয়, তা-ও শুটিং করতে হবে। মধ্যপ্রদেশেও চলচ্চিত্রের শুটিং হবে। ২ জুন থেকে শুটিং শুরুর কথা থাকলেও, পরে তা পিছিয়েছে।
ফাতিমার বয়স খুবই অল্প। বেশ কিছুদিন ফাতিমাকে শুটিং সেটে রাখার কথা ভাবছেন আমজাদ খান, যাতে সে সবার সঙ্গে অভ্যস্ত হতে পারে এবং সহজভাবে মিশতে পারে।
গত বছরের ৯ অক্টোবর পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাই পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় বিদ্যালয়ের বাসে করে বাড়ি ফিরছিল। পথে সেই বাসে উঠে তার মাথায় গুলি করে তালেবান জঙ্গিরা। তালেবানের বিপক্ষে কথা বলা ও সোয়াতে নারীশিক্ষার পক্ষে কাজ করায় মালালার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল তালেবানরা। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে পাকিস্তানে ও পরে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হয়ে আবার পড়াশোনায় মনোযোগী হয়েছে মালালা। বার্মিংহামের এজবাস্টনে বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় মালালা।

শেয়ার করুন