সংসদে প্রস্তাব দেবে না বিএনপি: মওদুদ

0
76
Print Friendly, PDF & Email

আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রস্তাব সংসদে তুলতে সরকারের আহ্বানের জবাবে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেছেন, তারা কোনো প্রস্তাব সংসদে তুলবেন না।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের একথা বলার সময় মওদুদের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি রাজনৈতিক সংলাপ না হওয়ার জন্য সরকারকে দায়ী করেন। সংলাপের ‘পরিবেশ’ সৃষ্টির জন্য বিরোধী দলের নেতাদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।

মৃত্যুবার্ষিকীতে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফুল দেন মওদুদ, ফখরুলসহ বিএনপি নেতারা।

সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ বলেন, “সংসদে আমরা গেলেও নির্দলীয় সরকারের প্রস্তাব তুলবো না। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, সংবিধানে নির্দলীয় সরকারের যে কাঠামো ছিলো, তা রাখতে হবে।

“শুধু নির্দলীয় সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, তা নিয়ে সরকার যদি আলোচনা করতে চায়, আমরা তাতে সাড়া দেবো।”

বিএনপি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পদ্ধতির দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দলের নেতারা বলে আসছেন, কোনো প্রস্তাব থাকলে তা সংসদে দিতে হবে।

তবে সংসদে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় কোনো প্রস্তাব তা তুলে বিরোধী দল চাইছে, সরকারি দলের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত বিল তোলা হোক।

নির্বাচন নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বিপরীত অবস্থানে সংলাপের যে কথা হচ্ছে, সরকার চাইলেই তা সফল হবে বলে মনে করেন ফখরুল।

“আমাদের নেত্রী বার বার বলে আসছেন, সঙ্কট নিরসনে আলোচনা বসার। কিন্তু সরকার তাতে কান দিচ্ছে না। তাদের একগুয়েমির কারণেই দেশে আজ চরম সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে।”

বিরোধী দলের নেতাদের কারাগারে রেখে সংলাপের সম্ভাবনা নস্যাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংলাপে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন,  “তারা মুখে সংলাপের কথা বলে। কিন্তু আলোচনার বিষয়ে তাদের কোনো সদিচ্ছা নেই। বাস্তবে তারা সংলাপ চায় না।”

“সংলাপ চাইলে সংসদ অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে এভাবে আমাদের সংসদ সদস্য সিনিয়র নেতা এম কে আনোয়ার ও সংসদ সদস্য বরকতউল্লাহ বুলুকে গ্রেপ্তার করতো না।”

সিঙ্গাপুর থেকে একদিন আগে দেশে ফেরা ফখরুল বলেন, “অতীতের মতো এবারো সরকার একদলীয় বাকশালের মতো নতুন আঙ্গিকে দেশ পরিচালনা করছে। যারাই তাদের সমালোচনা-প্রতিবাদ করছে, তাদের হত্যা, নির্যাতন ও কারাবাস করতে হচ্ছে।”

সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা, দুটি টেলিভিশন ও একটি সংবাদপত্র বন্ধের নিন্দা জানান তিনি।

নির্দলীয় সরকারের দাবি সরকার মেনে নেবে বলে আশা প্রকাশ করে বিএনপি নেতা বলেন, না হলে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বিরোধী নেতা-কর্মীরা প্রস্তুত।

মৃত্যুবার্ষিকীতে জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফখরুল বলেন, “যারা বাংলাদেশকে শক্তিশালী দেখতে চায় না, সেই আধিপত্যবাদের দোসরাই সেদিন জিয়াকে হত্যা করেছিলো।”

শেয়ার করুন