রাসিক নির্বাচন : নাগরিকরা যা ভাবছেন

0
98
Print Friendly, PDF & Email

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর মাত্র ১৬ দিন বাকি। তাই নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটারদের মধ্যে ততই কৌতুহল বাড়ছে। চুলচেরা হিসাব নিকাশ করছেন কি উন্নয়ন হয়েছে, আর কি হয়নি। কে উন্নয়ন করেছেন, আর কে করেননি। আগামী দিনে কাকে দিয়ে উন্নয়ন হবে এমন সব ভাবনা। এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়নের জন্য প্রথমেই উঠে এসেছে সেই সদ্য সাবেক বিদায়ী মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের নাম।      

খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে গঠিত পরিষদের উদ্যোগে মহানগরীতে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নগরীর শোভাবর্ধন, আলোকায়ন, গ্যাস সংযোগ, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ধূমকেতু ও পদ্মা ট্রেন চালু, নগরীর পদ্মা পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে নান্দনিক বিনোদন স্পট গড়ে উঠেছে।

এছাড়াও নগরীতে রাত্রীকালীন ময়লা আর্বজনা অপসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে যুগান্তকারী সাফল্যও তার নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে। ২০০৮ সালের মহানগরী আর ২০১৩ সালের মহানগরীর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য সাধিত হয়েছে। নাগরিকদের অভিমত এই যে, বাড়ির বাইরের প্রথম পদক্ষেপটি উন্নয়নের ওপর ছাপ ফেলে। অর্থাৎ ছোট থেকে বড় রাস্তাগুলোই বলে দেয় খায়রুজ্জামান লিটনের আমলে রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার কথা। রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়ন কর্মকান্ডের উপর ভিত্তি করে নগরীতে বসবাসরত মানুষের মতামত তুলে ধরা হলো।

নগরীর তেরখাদিয়ার বাসিন্দা বেসরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের সদ্য বিদায়ী মেয়র নগরীর যে উন্নয়ন ঘটিয়েছেন তাতে আমি অভিভূত এবং স্বপ্নের যে গ্যাস বাস্তবে চলে এসেছে, তাই আমি খুশি। তবে অনেক ওয়ার্ডে এখনো ভালোমতো উন্নয়ন হয়নি।’   ছোট বনগ্রাম এলাকার রিক্সাচালক আব্দুর রহিম বলেন, ‘দীর্ঘ বিশ বছর যাবৎ আমি ছোট বনগ্রাম এলাকায় বাস করছি। আমাদের এলাকায় আগে কোনো রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভাল ছিল না। সাবেক মেয়র লিটন এই এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তার আলোকবাতি করায় আমাদের রাত্রিকালীন চলাফেরা করতে কোন অসুবিধা হয় না। আগে রাস্তা ঘাট ভালো না থাকায় এবং উন্নত আলোকবাতি না থাকার কারণে রাতের বেলায় প্রায়ই ছিনতাই রাহাজানি হতো। এখন আর ছিনতাই এর মতো কোন ঘটনা ঘটে না।’

উপশহর এলাকার এক নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা গৃহিণী তহুরা বেগম বলেন, ‘পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ পেতে যাচ্ছি। আমাদের আর রান্না করতে কোনোরকম ঝামেলা পোহাতে হবে না।’ এ কারণে আগামী নির্বাচনে যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সেতু বলেন, ‘প্রতিদিন বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে শহরে পদ্মা পাড়ে বেড়াতে আসি এবং মনোরম পরিবেশে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যাই।’ এই মনোরম পরিবেশের কারণে আগামী মেয়র নির্বাচেনে সদ্য বিদায়ী মেয়র জনতার রায় পাবেন বলে তিনি আশা করেন।

শিরোইল কলোনির বাসিন্দা অটো রিক্সাচালক আনছার আলী মোল্লা বলেন, ‘রাজশাহীর বিদায়ী মেয়র লিটন ভাইয়ের নিকট অটোরিকশা চালক ও মালিকদের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাই। কেননা সিটি কর্পোরেশন থেকে অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদান করায় হাজার হাজার লোকের কর্ম সংস্থানের সুযোগ হয়েছে।’
রাজশাহী আরডিএ মার্কেটের বেনেতি ব্যবসায়ী খোকন জানান, রাজশাহীর ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে রাজশাহীর নন্দিত মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বিভিন্ন মার্কেট তৈরি করছেন। এতে করে ব্যবসা-বাণিজ্যের আরো সম্প্রসারণ হবে।
রাজশাহী সাগরপাড়া এলাকার মিঠু নন্দী জানান, ‘লিটনের সময়ে থাকাকালীন সবচাইতে বেশি মসজিদ, মন্দির ও গীর্জার উন্নয়ন হয়েছে। পাঠানপাড়া ফায়ার বিগ্রেড ঘোষপাড়া মোড় হয়ে সিটি বাইপাস সংযোগ সড়কের যে উন্নয়ন হয়েছে, এতে করে আমাদের চলাফেরায় আমাদের কম সময়ে নিজ গন্তব্যে পৌঁছতে পারি।’

সপুরা এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, ‘সাবেক মেয়র লিটন যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র হয়েছিলেন, তিনি তার মেয়াদকালে সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে নগরীর সৌন্দর্য আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।’
টিকাপাড়া নিবাসী রুহুল আমিন বলেন, ‘নগরীর কেমন উন্নয়ন হয়েছে তা রাস্তাঘাট ও ফুটপাত দেখলেই বোঝা যায়। আগে প্রাতঃভ্রমণ করার জন্য ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যেত না। এখন আর ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে আর অসুবিধা হয় না। তিনি বলেন এ কারণেই আগামী নির্বাচন নিয়ে ভাবছি।’

হাদিরমোড় এলাকার আমজাদ হোসেন জানান, ‘আমি প্রতিদিন শহীদ মিনার হতে দরগাপাড়া মোড় পর্যন্ত হাঁটাহাটি করি। আমি ডায়াবেটিক এর রোগী এ কারণেই হাঁটাহাটি করি। আগে শহররক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে এতো সুন্দর রাস্তা ছিলনা। সাবেক মেয়র লিটন এর আমলে বাঁধের উপর রাস্তার কারণে আমার মতো শত শত রোগী হাঁটাহাটি করেন। এই বাঁধের উপর দিয়ে রঙিন আলোকবাতি দিয়েছেন। যার কারণে দেখতে ভালো লাগে।’ দড়িখরবনা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহাব জানান, ‘নগরীর কি উন্নয়ন হয়েছে তা রাস্তাঘাট দিয়ে হাঁটলে টের পাওয়া যায়।’

 

শেয়ার করুন