পদত্যাগ করছেন ছাত্রদলের ৩০ কেন্দ্রীয় নেতা!

0
173
Print Friendly, PDF & Email

অর্থ কেলেঙ্কারী, বুড়োদের প্রাধ্যান্য, নিবেদিতদের অবমূল্যায়ন সহ নানা অনিয়মের প্রতিবাদে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলে বিদ্রোহের আভাস পাওয়া গেছে। যে কোনো সময় নতুন এই কমিটির ৩০ কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করতে পারেন। ইতমধ্যে এসব নেতা তাদের পদত্যাগ পত্র প্রস্তুত করেছেন বলে প্রমান এসেছে ডিফারেন্ট নিউজ-এর হাতে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পূর্নাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হয়েছে গত ১৬ই এপ্রিল। কিন্তু নানা কারণে এই কমিটি থেকে নিবেদিত নেতা-কর্মীরা মূখ ফিরিয়ে নেওয়ায় এই কমিটি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পর্যন্ত ফুল দিতে পারেনি গত ৪৫ দিনেও।
অভিযোগ এসেছে, ২৯১ সদস্যর কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাই হয়নি অনেক ত্যাগী নেতার। আর অবমূল্যায়ন করা হয়েছে অন্তত ২০০ জন নেতাকে। তাইতো কমিটি ঘোষণার পর থেকে জেল, জুলুম, নির্যাতন ভোগকারী ত্যাগী নেতারা বিক্ষোভ শুরু করেছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অনানুষ্ঠানিক ভাবে বিদ্রোহ শুরু করে তারা। পরে দলের চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও জুয়েল গ্র“পের এক নেতাকে পিটিয়ে আহত এবং দলীয় কার্যালয়ের সামনে জুয়েল হাবীবের কুশপত্তিলাকা দাহ সহ আবার ও ককটেল বিস্ফোরন ঘটায় তারা। সর্বশেষ সাভার ট্রাজেডির ঘটনার আগের দিন চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের সামনে প্রায় ২ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল করে বিদ্রোহীরা। তারপর সাভার ট্রাজেডীর কারনে দীর্ঘ সময় বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকলেও দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জেল থেকে মুক্ত হলে বিদ্রোহী নেতারা তার সাথে দেখা করেন। এময় এ্যানি তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই আশ্বাস দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনের একটি হোটেল সভা করে। সেখানে ত্যাগী ও পদবঞ্চিত নেতারা বাদেও বর্তমান কমিটি সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ৩০জন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই এই কমিটিতে অবমূল্যায়িত হয়েছেন বলে সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পদবঞ্চিত নেতাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা দু-একদিন মাঝেই পদত্যাগ করবেন বলে ঐ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম আজম সৈকত।
তিনি বলেন, এতদিন আমরা বিক্ষোভ করে তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য সুযোগ চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমনকি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকও এব্যাপারে নিশ্চুপ।
ঐ নেতা জানান, আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন অনুসারী ১০জন কেন্দ্রীয় নেতা, আলিম গ্র“পের ৫ জন সাংগঠনিক সম্পাদক, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এর অনুসারী ১০ জন সহ হাসান মামুন গ্র“প ও নুরুল ইসলাম নয়ন গ্র“পের অবমূল্যায়িত কেন্দ্রীয় নেতারা। যাদের সবাইকে এই কেন্দ্রীয় কমিটিতে রেখে অপমান করা হয়েছে।
পদবঞ্চিতদের আরেক নেতা সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুবুর রহমান সিকদার জানান, যেহেতু এই কমিটি ম্যাডাম জিয়ার দেওয়া এবং তার নির্দেশে আমরা কোনো বিদ্রোহ না করে এই কমিটির নেতৃত্ব মেনে নিয়েছিলাম। তাই ৫ সদস্যর কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পরে কোন ধরনের মিছিল মিটিং এ অনুপস্থিত না থেকেও বর্তমান কমিটি থেকে বাদ পড়েছি। বর্তমান কমিটি হয়েছে অর্থ ও লবিংয়ের জোরে। তাই অর্থ দিতে না পারায় কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত হতে পারিনি। কমিটির ঘোষণার পরদিন থেকে বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে বিক্ষোভ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকের আশ্বাস পেয়ে দীর্ঘদিন বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকি কিন্তু তাদের কোন পদক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, এখন আমরা সবাই বৈঠকে মিলিত হয়ে একমত হয়েছি বিদ্রোহের জন্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ত্যাগী নেতা আব্বাস আলী বলেন, আমি দীর্ঘ নয় বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করি। ম্যাডাম জিয়ার দেওয়া কমিটির নেতৃত্ব মেনে নিয়ে এই কমিটির জন্য আমি ও আমার এক সহকর্মী সর্ব প্রথম তাদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্ত ঝরাই, কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনো মূল্যায়ন পাইনি। পূর্নাঙ্গ কমিটিতে ঠাই হয়নি আমাদের।
তাইতো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী দিয়ে তাদের কাছে দাবি দাওয়া পেশ করে আসছিলাম, কিন্তু তারা যেহেতু দীর্ঘ ৪৫ দিনেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি, সেহেতু বিদ্রোহ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
ঐ নেতা জানান, সম্প্রতি ছাত্রদল নেতাদের অর্থ কেলেঙ্কারী, বুড়োদের প্রাধ্যন্য, নিবেদিতদের অবমূল্যায়ন সহ নানা অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধরা একটি বৈঠক করেছে। ঐ বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে কোনো সময় নতুন এই কমিটির খলিলুর রহমান খলিল ও ফারজানা ইয়াসমিন লিপিসহ ৩০ কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করতে পারেন যে কোনো সময়। ইতমধ্যে এসব নেতা তাদের পদত্যাগ পত্র প্রস্তুত করেছেন বলে প্রমান এসেছে ডিফারেন্ট নিউজ-এর হাতে।
এব্যাপারে বর্তমান কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান খলিল বৃহস্পতিবার ডিফারেন্ট নিউজকে বলেন, আমি আমার পদত্যাগ পত্র প্রস্তুত রেখেছি। যে কোন সময় আমি তা ম্যাডামের কাছে পৌছে দেব। কেন পদত্যাগ করছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান কমিটিতে আমাকে রেখে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রদল প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এবারই নজীরবিহীন দূর্নীতি হয়েছে। এসব বিষয় ছাত্র রাজনীতির জন্য কলঙ্কজনক। আমি একজন নিবেদিত ছাত্র নেতা হিসেবে এদের দায় নিতে পারি না।
বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমান কমিটির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম ওবায়দুল হক নাসিরকে টেলিফোনে পাওয়া গেলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।

শেয়ার করুন