বরিশালে কামালের আনারস হিরনের টেলিভিশন মামুনের দোয়াত-কলম

0
76
Print Friendly, PDF & Email

তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ-দাখিল-বাছাই প্রত্যাহারের পাশাপাশি দলীয়ভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত—সবই শেষ। গতকাল প্রতীক পেয়ে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। মাইকের শব্দে জেগে উঠেছে নগর। নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ৩০টি ওয়ার্ডের সবখানে। এর মধ্যে গতকাল বিকালে হঠাত্ তিন মাসের জন্য বিসিসি নির্বাচন বন্ধ হয়েছে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতীক বরাদ্দ : গতকাল বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিন মেয়র ও ১৬০ কাউন্সিলরপ্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় রিটার্নিং অফিসার মো. মুজিবর রহমান এ প্রতীক বরাদ্দ করেন। মেয়র পদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট-সমর্থিত আহসান হাবিব কামাল আনারস, ১৪ দল-সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন হিরন টেলিভিশন ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন দোয়াত-কলম প্রতীক পেয়েছেন। এ ছাড়া ৩০টি ওয়ার্ডের ১১৫ জন এবং ১০ সংরক্ষিত আসনের ৪৫ জন কাউন্সিলরপ্রার্থীর মধ্যে টিউবওয়েল, হাতি, বৈদ্যুতিক পাখা, মোরগ, চান-তারা প্রভৃতি প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।
কামালের নির্বাচনী প্রচারণা : প্রতীক বরাদ্দ শেষে অফিস থেকে বিপুলসংখ্যক কামাল-সমর্থক আনারস নিয়ে নগরে প্রচারণা চালায়। প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল সকালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজশিক্ষার্থীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সন্ধ্যায় তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে কামাল জানান, তাদের আমলের উন্নয়নের গায়ে রঙ লাগিয়ে গত পাঁচ বছর পার করা হয়েছে। নগরের প্রকৃত উন্নয়নে এবং নগরবাসীকে উত্তম নগরজীবন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সবার কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় জেলা বিএনপির সমপাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনসহ বিএনপির একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে নগরের বিভিন্ন স্থানে আহসান হাবিব কামালের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি। তিনি গতকাল সকালে পলাশপুর এলাকায় একাধিক সভা ও গণসংযোগ করেন। সন্ধ্যায় নগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ শেষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। এ সময় তিনি তারেক রহমানের নামে ইন্টারপোলের গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে সরকার গদি ঠিক রাখতে যা খুশি তাই করছে। ভবিষ্যতেও ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার কুচিন্তায় এরই মধ্যে সর্বজনস্বীকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে দেশনেতা বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের ওপর হয়রানিমূলক মামলা-হামলা অব্যাহত রয়েছে। তিনি সরকারের এসব ফ্যাসিস্ট কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে অবিলম্বে জিয়া পরিবার ও বিরোধী দলের সব নেতাকর্মীর নামে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। সরোয়ার বলেন, সিটি নির্বাচন দিয়ে দেশজুড়ে চলমান সরকার পতন আন্দোলন স্থগিত করতে চেয়েছে। কিন্তু জিম্মি দেশবাসী এ সরকারের পতন ছাড়া রাজপথ ছাড়বে না। সরোয়ার সিটি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করে সরকারবিরোধী আন্দোলন মজবুত করার আহ্বান জানান।
হিরনের নির্বাচনী গণসংযোগ : প্রতীক হাতে নিয়েই মাঠে নেমে পড়লেন মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন হিরন ও তার সমর্থকরা। দিনভর নগরজুড়ে ব্যাপক গণসংযোগ আর ভোট প্রার্থনা করেন তারা। প্রতীক পেয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, টেলিভিশন আমার বিজয়ের প্রতীক। এ প্রতীকে জনগণের রায় নিয়ে ২০০৮ সালে আমি মেয়র নির্বাচিত হই। মেয়র হিসেবে পুরো চার বছর সাত মাস জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেছি। আবারও জনগণের রায় নিয়ে জনসেবা করতে পারব বলে আশা করি। প্রতীক বরাদ্দ শেষে হিরন নথুল্লাবাদ থেকে শুরু করে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সড়ক, অমৃত লাল দে সড়ক, বিএম কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারী, কলেজিয়েট বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারিগর বিড়ি ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। গণসংযোগকালে শওকত হোসেন হিরন নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, আমাকে আর একবার সুযোগ দিন। আমি নগরবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি নগরের চিত্র আরও বদল করে দেব।
শওকত হোসেন হিরন নগরবাসীর সঙ্গে গণসংযোগকালে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মাদ ইউনুচ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুল করিম, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান হাওলাদার, সাইদুর রহমান রিন্টু, আমান সেরনিয়াবাত, কাউন্সিলর গাজী নঈমুল হোসেন, বিএম কলেজের ভিপি মঈন তুষার, জিএস নাহিদ সেরনিয়াবাতসহ ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

শেয়ার করুন