রাজশাহীতে লিটনের তালা বুলবুলের আনারস হাবিবুরের চশমা

0
70
Print Friendly, PDF & Email

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ‘আনারস’, এএইচএম খাইরুজ্জামান লিটন ‘তালা’ ও হাবিবুর রহমান ‘চশমা’ প্রতীক পেয়েছেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ সময় তিনি বলেন, গতকাল সকাল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবার পেয়েছেন ‘আনারস’ প্রতীক। গত নির্বাচনে তার প্রতীক ছিল ‘বাঘ’। তবে এবার নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ দেয়া প্রতীকের মধ্যে ‘বাঘ’ না থাকায় তিনি ‘আনারস’ প্রতীক নিয়েছেন। মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন গতবারের মতো এবারও পেয়েছেন তালা। এছাড়া মেয়র পদে রাজশাহী সচেতন নাগরিক সমিতি সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান পেয়েছেন, ‘চশমা’ প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, গতকাল দুপুর ১২টায় মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয় হয়। এছাড়া সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়া দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত সাধারণ কাউন্সিলরদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে এবারের রাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৫৪ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৬ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। তফশিল অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বুলবুলের প্রতি ১৮ দলীয় জোটের সমর্থন : আসন্ন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে রাজশাহী সম্মিলিত নাগরিক ফোরাম মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও রাজশাহী ১৮ দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু এ ঘোষণা দেন।
এ সময় জোট নেতা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, দুর্নীতিবাজ, অযোগ্য, ব্যর্থ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির প্রেক্ষিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাসিক নির্বাচনের রাজশাহী সম্মিলিত নাগরিক ফোরাম মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে ১৮ দলীয় জোট। এ সময় তিনি রাজশাহী সম্মিলিত নাগরিক ফোরাম মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে নির্বাচিত করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র নির্বাচিত হলে নগরীর উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে জোট নেতারা আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মেয়র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমীর প্রফেসর এম. নজরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর রাজনৈতিক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহানগর সভাপতি হাফেজ আব্দুস সামাদ, এনপিপি’র মহানগর সভাপতি শওকত হোসেন বাদল, রাজশাহী সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের সভাপতি ও ইবি’র সাবেক ভিসি প্রফেসর রফিকুল ইসলাম ও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাইনুল আহসান পান্না প্রমুখ।
বুলবুল-লিটনের শুরুতেই মাজার জিয়ারত : হযরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে অংশ নেয়া হেভিওয়েট দুই মেয়র প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সকাল সাড়ে আটটার দিকে এবং এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাজার জিয়ারত করেন।
সকালে সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের ও ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মাজার জিয়ারত শেষে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন। পরে মোনাজাত শেষে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও গণসংযোগ করেন তিনি।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, সাবেক মেয়রের সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় নগরীর স্বাভাবিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে তিনি নগরবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। আর এজন্য নগরবাসীর দোয়া চান তিনি।
এর আগে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নগরীর সাহেববাজার মনিচত্বরে সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও রাজশাহী ১৮ দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনুসহ ১৮ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, বিকাল থেকে নগরীর ১০ ও ১১নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। রাত নয়টায় প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল তার নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন শেষ করেন বলে সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন নাগরিক কমিটি ও মহাজোট সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। পরে তিনি তার বাবা এএইচএম কামারুজ্জামানের কবর জিয়ারত করেন।
এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আজ নগরবাসী বুঝতে পেরেছেন, গত ৫ বছর আগে নগরবাসী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা ভুল ছিল না। এ সময়ের মধ্যে নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। আগামীতেও উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এ সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান বলে জানান।
এই দুই হেভিওয়েট মেয়রপ্রার্থী ছাড়া রাজশাহী সচেতন নাগরিক সমাজ সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রহমানও অংশ নিচ্ছেন এবারের নির্বাচনে। তবে গতকাল তার কোনো প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়নি।
এদিকে, সোমবার সকাল থেকেই নগরীতে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ব্যস্ততা বেড়ে গেছে নেতাকর্মীদের। প্রতীক বরাদ্দের আগেই অনেক স্থানে পোস্টার সাঁটিয়েছেন কর্মী-সমর্থকরা।
দুপুর ১২টার দিকে রাসিক নির্বাচনের রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত ঘোষণা আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই নগরীতে শুরু হয় মাইকিং। মোড়ে মোড়ে টাঙানো হয় প্রার্থীদের নির্বাচনী পোস্টার।
প্রার্থিতা ফিরে পেলেন প্যানেল মেয়র বাবু : আসন্ন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন রাসিকের প্যানেল মেয়র ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সরিফুল ইসলাম বাবু। গতকাল দুপুরে উচ্চ আদালতের রায়ে তিনি তার প্রার্থিতা ফিরে পান। তবে এ সংক্রান্ত কোনো ফ্যাক্স বার্তা রাসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী সরিফুল ইসলাম বাবু জানান, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত আপিলের রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র ফ্যাক্সযোগে রাসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে রাসিক নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো ফ্যাক্স বার্তা কার্যালয়ে এসে পৌঁছেনি। বাকি সময়ের মধ্যে এসে পৌঁছতে পারে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ৩৩ লক্ষাধিক টাকা ঋণ খেলাপির দায়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে গত ১৬ মে প্যানেল রাসিকের মেয়র-১ ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সরিফুল ইসলাম বাবুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। পরে তিনি আপিল করলে নির্বাচনের আপিল কর্তৃপক্ষ রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমদ তার আবেদন খারিজ করে দেন। শেষে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।

শেয়ার করুন