রাজনীতিবিদেরা এখন কী করবেন?

0
124
Print Friendly, PDF & Email

আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরা অন্যান্য দেশের রাজনীতিবিদদের মতো আরাম-আয়েশে দিন কাটান না। গণমানুষের জন্য, দেশের জন্য রাত-দিন তাঁরা কাজ করে যান। চাকরিজীবীদের দুই দিন ছুটি আছে, কিন্তু রাজনীতিবিদদের কোনো ছুটি নেই। কীভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায়, জীবনযাত্রার মান আরও বৃদ্ধি করা যায়, এ নিয়েই তাঁদের যত চিন্তা।
নিয়মিত সভা-সমাবেশ, মিছিল করে তাঁরা এ বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরেন। কিন্তু কোনো এক রহস্যময় কারণে, বর্তমান সরকার এক মাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদেরা। মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন করাই রাজনীতিবিদদের প্রধান কাজ। এগুলো বন্ধ করে দিলে তাঁরা করবেনটা কী? দেশের উন্নয়নে অংশ না নিয়ে দীর্ঘ এক মাস কাটানো কি তাঁদের পক্ষে সম্ভব? অসম্ভব! সরকার তথা সুশীল সমাজ কত কিছু নিয়ে ভাবছে, অথচ রাজনীতিবিদেরা সভা-সমাবেশ ছাড়া কীভাবে সময় কাটাবে তা নিয়ে কিছুই ভাবছেন না। তার পরও রাজনীতিবিদদের উচিত এই দীর্ঘ ছুটিটা কাজে লাগানো।
দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম আর মনোবল নিয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা রাজনীতিবিদেরা জনগণের প্রতি খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজেদের প্রতি একটুও নজর দেন না। তাই এক মাসের এই ছুটিতে তাঁদের উচিত সর্দি-কাশির মতো মারাত্মক অসুখ সারাতে মাউন্ট এলিজাবেথ থেকে একটা চেকআপ করে আসা; এর ফলে ফিরে এসে আবার নতুন উদ্যমে দেশের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবেন তাঁরা। আর রাজনীতিবিদদের একটু-আধটু অভিনয় তো জানতেই হয়। এই এক মাসে তাঁরা বেশ কয়েকটা নাটক-চলচ্চিত্রে অভিনয় করে চলমান শিল্পীসংকট কাটাতে সাহায্য করতে পারেন। তা না চাইলে টক শো করতে পারেন। এমনিতেই দেশের চ্যানেলগুলোতে দিনের বেলা তেমন কোনো অনুষ্ঠান থাকে না। রাতে যে টক শোগুলো হয়, ঘুরে-ফিরে সেই একই বক্তা।
রাজনীতিবিদেরা চাইলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিডিউল ভাগ করে দিনে-রাতে টক শো করতে পারেন। টক শোয়ের মাধ্যমেও দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন সম্ভব। তাও যদি পছন্দ না হয়, তাহলে ‘ফান ম্যাগাজিন হিসেবে রস+আলো দেশের জন্য কী করছে?’ টাইপ গবেষণামূলক সমালোচনা করতে পারেন। এতেও দেশের মঙ্গল হওয়ার সুযোগ আছে। আর দেশের উন্নয়ন করাই যে রাজনীতিবিদদের মূল লক্ষ্য, তা কে না জানে? আশা করছি কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে সভা-সমাবেশের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেশসেবার সুযোগ করে দেবে।

শেয়ার করুন