জেনেভায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে রাজি : সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0
85
Print Friendly, PDF & Email

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল মুয়াল্লেম বলেছেন, তার দেশ আগামী মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠেয় সিরিয়া বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবে। তিনি বাগদাদে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুশিয়ার যিবারির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেনেভায় বৈঠকে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেছেন, তাদের একটি প্রতিনিধি দল জেনেভায় যাবে। কারণ এই সম্মেলনকে তারা সিরিয়া সমস্যা সমাধানের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে মনে করে।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল মুয়াল্লেম আরো বলেছেন, সিরিয়ার বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই কেবল সে দেশের সমস্যার সমাধান হতে পারে এবং বিদেশিরা তাদের ইচ্ছার বিষয়টি সিরিয়ার জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। কারণ কেবল সিরিয়ার জনগণেরই নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার রয়েছে।

এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুশিয়ার যিবারিও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সিরিয়া সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি সিরিয়ার জনগণের ওপর বাইরের কারো মত চাপিয়ে দেয়া কিংবা বিদেশিদের মোড়লিপনার বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, সহিংসতা সিরিয়া সমস্যার কোনো সমাধান করবে না এবং কেবলমাত্র সিরিয়ানরাই বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই বিরাজমান সংকটের অবসান ঘটাতে পারে।

আগামী মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠেয় সিরিয়া বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে সিরিয়ার আগ্রহ থেকে বোঝা যায়, এ দেশটি সিরিয়া সমস্যা সমাধানের জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যে কোনো প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায়। তবে আন্তর্জাতিক সমাজের এ প্রচেষ্টার প্রতি সিরিয়ার স্বাগত জানানোর অর্থ এ নয় যে, সিরিয়ার ভবিষ্যত নির্ধারণের ব্যাপারে বিদেশিদের নাক গলানোর তারা সুযোগ দেবে। সিরিয়া সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রধান লক্ষ্য এবং সিরিয়ানরাই নিজেদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ করা যায়, বিদেশিদের মদদপুষ্ট সিরিয়ার সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি সেনাবাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে পিছু হটে যায় এবং পর্যুদস্ত হওয়ায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে সিরিয়া সমস্যা সমাধানের সুযোগ বা সম্ভাবনা বেড়ে গেছে। সিরিয়ার সরকার বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এবং আরব ও পাশ্চাত্যের দেশগুলো গত দুই বছর ধরে সিরিয়ায় সহিংসতা উস্কে দিয়ে এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বাশার আসাদ সরকারকে উতখাত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং সিরিয়ার জনগণের পরিবর্তে নিজেরা সেদেশটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু সিরিয়ার সরকার, সেনাবাহিনী ও জনগণের প্রতিরোধের কারণে বিদেশিদের এ চেষ্টা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি।

গত দুই বছরে সিরিয়ার ঘটনাবলীতে প্রমাণিত হয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উপেক্ষা করে কেবল সামরিক বা সন্ত্রাসী ততপরতার মাধ্যমে সমস্যার কোনো সমাধান করা যাবে না এবং সিরিয়ার জনগণই কেবল অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে নিজ দেশের ভবিষ্যতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ কারণে বিশ্লেষকরা বলছেন, জেনেভা সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের উচিত হবে সিরিয়ার জনগণের ইচ্ছার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে দেশটির সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া। তাদের মতে, সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র দেয়া বন্ধ করা,  বিভিন্ন দেশ থেকে সন্ত্রাসীদের সিরিয়ায় যাওয়ার পথ বন্ধ করা, সিরিয়ার ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের সমর্থক দেশগুলোর নীতিতে পরিবর্তন আনা প্রভৃতি পদক্ষেপ নেয়ার ওপরই সমস্যা  সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সফলতা অনেকখানি নির্ভর করছে।

সিরিয়া সরকার বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা, সব পক্ষের অংশগ্রহনের মাধ্যমে ২০১৪ সালের মধ্যে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে জেনেভায়ও আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কারণে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেনেভা সম্মেলনকে রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়া সমস্যা সমাধানের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

শেয়ার করুন