তারেককে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ নেই : টবি কেডম্যান

0
119
Print Friendly, PDF & Email

 বিশ্বখ্যাত বৃটিশ আইনজীবি, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিষ্টার টবি কেডম্যান বলেছেন, তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরত নেয়া এতো সহজ নয়। আমি যতটুকু জানি গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার উপর অমানবিক নির্যাতন ও বাংলাদেশে ফিরে গেলে তার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে এই ধারায় তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় (পলিটিক্যাল এসাইলাম) দেয়া হয়েছে। কোন এসাইলাম প্রার্থীর নিজ দেশে জীবনের ঝুঁকি থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার চাইলেও বৃটেন তাকে ফেরত দিবে না। সুতরাং তারেককে দেশে ফিরিয়ে নেবার কোন সুযোগ নেই। গত রোববার যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে ঢাকার একটি আদালত পরোয়ানা জারি করে। গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পর কিউসী ব্যারিষ্টার টবি কেডম্যানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন। টবি কেডম্যান বলেন, আমি তারেক রহমানের আইনজীবি নই, তাই বেশী কিছু বলতে চাইনা। আমি স্বাভাবিক আইনগত দিক সম্মন্ধে দৃষ্টিপাত করছি। তিনি বলেন, তারেককে ফিরিয়ে নেয়া খুবই কঠিন। এতে প্রথম বাধা হলো বৃটেন ও বাংলাদেশের মধ্যে কোন অপরাধী বিনিময় চুক্তি না থাকা। অপরাধী বিনিময় চুক্তি না থাকলে কোন দেশ অপরাধীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠায় না। এছাড়া তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হতে হবে। তারপরও সরকার আলোচনার মাধ্যমে তারেককে ফিরিয়ে নিতে চাইলে এক্সট্রাডিশন এক্ট-২০০৩ এর ধারায় প্রথমে বৃটিশ সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। টবি কেডম্যান বলেন, সরকারকে আবেদনের সাথে তারেক রহমান যে বিভিন্ন অপরাধে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন এই মর্মে বিভিন্ন দলিল উপস্থাপন করতে হবে। দোষী প্রমাণিত না হলে তারেককে ফেরত দিবে না বৃটেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উপস্থাপন করা হবে তা বৃটিশ আইনেও অপরাধ বলে গণ্য হতে হবে। সরকারকে এই মর্মে লিখিত দিতে হবে যে, দোষী সাব্যস্থ হলে তারেককে মৃত্যুদন্ড দেয়া যাবে না। যদিও তারেক রহমান মৃত্যুদন্ড পাবার মতো কোন অপরাধ করেননি। টবি কেডম্যান ইউরোপীয়ান কনভেনশন আর্টিকেল-৬ এর উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে এই মর্মে বৃটিশ সরকারকে আশ্বস্থ্য করতে হবে যে, দেশে ফেরত পাঠালে একটি নিরপেক্ষ আইনী প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের উপর আনিত অভিযোগের বিচার সম্পন্ন করা হবে এবং ইউরোপীয়ান কনভেনশন আর্টিকেল-৬ এর মতে তার মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সুরক্ষা করা হবে। টবি কেডম্যান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্ইাব্যুনালের কথা উল্লেখ করে  বলেন, যদি তারেক রহমানকে ফেরত দেয়া হয় তাহলে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হয়তো তিনি ন্যায় বিচার পাবেন না। রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় তারেক রহমানের দলীয় সভায় যোগদান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন আইনের ৩৪৪ এর বি ধারা মতে সেক্রেটারী অব স্টেট রাজনৈতিক আশ্রয় প্রাপ্ত কোন ব্যাক্তির কাজের বা পেশার উপর শর্তারোপ  করেন না। আমার জানা মতে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তারেক রহমানের জড়িত থাকায় আইনগত কোন বাঁধা নেই।  এ বিষয়টিতে আমার পুরোপুরি নিশ্চিত নই। তিনি বলেন, সবকিছুর পর সরকারী পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে যদি বৃটেন তারেককে ফিরিয়ে দিতে রাজীও হয় তবে বৃটেনে আদালতের মাধ্যমে তা চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় লন্ডনে যান তারেক রহমান । প্রায় ৫ বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করলেও কখনো প্রকাশ্যে জনসম্মুখে বা কোন জনসভায় উপস্থিত হননি তিনি। গত এপ্রিল মাসে ওমরাহ পালনকালে সৌদি আরবে তিনি একটি কর্মীসভায় যোগ দেন। দীর্ঘ ৫ বছর পর গত ২০ মে লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির আসন্ন কমিটি সম্পর্কে নেতাকমীদের মতামত জানতে এক কর্মী সভায় যোগ দেন।

শেয়ার করুন