অবশেষে ৪ সিটিতে বিএনপি জোটের একক প্রার্থী : দুই সিটিতে মহাজোটের একাধিক প্রার্থী

0
183
Print Friendly, PDF & Email

রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের একক প্রার্থী। তাদের সমর্থনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অন্য প্রার্থীরা সরে দাঁড়িয়েছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে রোববার বিএনপি ও জামায়াত নেতারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। অপরদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির খুলনা জেলা সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে মুখ খোলেনি জাতীয় পার্টি। বরিশালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পাশাপাশি যুবলীগের নেতা একই পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন রোববার পর্যন্ত মেয়র পদ থেকে ১২ জন, কাউন্সিলর পদ থেকে ৮৬ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদ থেকে ৬ জনসহ ১০৪ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। প্রত্যেকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দুইজনসহ মোট ১৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। খুলনায় মেয়র পদে ৩ জন, সংরক্ষিত আসনে ২ জন ও সাধারণ ওয়ার্ডে ৪৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আজ চার সিটিতে ১০ জন করে মোট ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামবেন। তাদের সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের সাজা দেয়ার ক্ষমতা দিয়েছে ইসি। রাজশাহী অফিস জানায়, রাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে দুইজনসহ মোট ১৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও সতন্ত্র প্রার্থী মীর মোজাম্মেল আলী, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৫ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে একজন রয়েছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষ দিন গতকাল বিকাল সাড়ে পাঁচটায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেয়র পদে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও সতন্ত্র প্রার্থী মীর মোজাম্মেল আলী নিজ নিজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া কাউন্সিলর পদে রাসিকের ৬নং ওয়ার্ডে সেলিম আক্তার বুলবুল ও সৈয়দ আসাদুজ্জামান, ১৬নং ওয়ার্ডে আবুল কামাল ও কাব্বার আলী, ১৭নং ওয়ার্ডে জিল্লুর রহমান ও সাইদ মাহমুদ ইলইয়াস, ১৮নং ওয়ার্ডে আতিকুর রহমান, মো. মাসুদ, এমরান আলী ও মনিরুজ্জামান, ২০নং ওয়ার্ডে সাইফুল ইসলাম, ২৬নং ওয়ার্ডে আসলাম উদ্দিন, মীরজাহান আলী ও জাহাঙ্গীর আলম এবং ৩০নং ওয়ার্ডে নাজমুল হক তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। একই সঙ্গে সংরক্ষিত মহিলা আসন-১ এ সফুরা আক্তার লাকি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
এদিকে, জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মীর মোজাম্মেল আলী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় মেয়র পদে এ পর্যন্ত তিনজন প্রার্থী রইলেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও নগর যুবদলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান। এছাড়া প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে কাউন্সিলর পদে রইলেন ২২০ জন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৫৪ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬৬ জন।
খুলনা অফিস জানায়, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, সংরক্ষিত আসনে ২ জন ও সাধারণ ওয়ার্ডে ৪৫ জন কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এর ফলে মেয়র পদে ৩ জন, ১০টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিল পদে ৪৫ জন ও ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩৭ জন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল তিন মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে রইলেন সদ্যবিদায়ী মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক, মহানগর বিএনপির সদ্য পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ও জাতীয় পার্টির (এ) জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু।
এদিকে গতকাল রোববার মেয়র পদে যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন তারা হলেন—খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা সেকেন্দার জাফর উল্লাহ খান সাচ্চু ও মহানগর মুসলিম লীগের সভাপতি শেখ সিরাজুল ইসলাম। সংরক্ষিত আসনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ইয়াসমিন আরা ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে লিভানা পারভিন। সাধারণ ওয়ার্ডে ১ নম্বর ওয়ার্ড মো. মহিউদ্দিন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড মো. আনিসুর রহমান, ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাহ মো. ওয়াজেদ আলী মজনু, ৭ নম্বর ওয়ার্ড রেহেনা বেগম, মো. মোশাররফ হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, শেখ জাকির হোসেন, মো. রিয়াজ পারভেজ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড শেখ ফজলে বারী লিপন, ১০ নম্বর ওয়ার্ড সৈয়দ হাসান উল্লাহ, মুরাদ হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর আলম, ১১ নম্বর ওয়ার্ড মো. হুমায়ুন কবীর খান, ১২ নম্বর ওয়ার্ড মো. শাহজাহান, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড মো. শাহিন তালুকদার, শেখ শাহিনুল ইসলাম, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদী, মো. সাইফুল ইসলাম খন্দকার, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড মো. হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, এস এম আবদুর রহমান, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আপেল বিশ্বাস, শেখ আবিদ উল্লাহ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মো. আলতাফ হোসেন, ২০ নম্বর ওয়ার্ড চ ম মুজিবুর রহমান, মো. হোসেন চৌধুরী, মো. কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলী মিন্টু, মীর মোহাম্মদ লিটন, ২১ নম্বর ওয়ার্ড জামিরুল হুদা জহর, ২২ নম্বর ওয়ার্ড আফজাল হোসেন, ২৩ মো. সাব্বির হোসেন সাব্বির, ফয়েজুল ইসলাম লিটন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড শেখ শহীদ আলী, মো. শরিফুল ইসলাম, কাজী মো. রাশেদ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড শেখ জামাল উদ্দিন, এস এম মনিরুল ইসলাম, মুন্সী মো. মাহবুবুল আলম সোহাগ, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড মশিউর রহান যাদু, মো. মনিরুজ্জামান মামুন, শেখ রবিউল ইসলাম, মো. হাসান মেহেদী রিজভী, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড জিএম রফিকুল হাসান, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড মো. মনিরুল ইসলাম খান, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড মো. আলম হাওলাদার।
রিটার্নিং অফিসার মোস্তফা ফারুক জানান, গতকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত তিন মেয়র প্রার্থীসহ মোট ৪৭ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এ সময় ৪২ সাধারণ ও ২ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ফলে ৩১ সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪০ ও ১০ সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৪৫ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আজ সোমবার নগরীর জিয়া হল মিলনায়তনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এরই মধ্যে মেয়র পদে তালুকদার আবদুল খালেক তালা, মনিরুজ্জামান মনি আনারস ও শফিকুল ইসলাম মধু দোয়াত-কলম প্রতীক চেয়েছেন।
সিলেট অফিস জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাত মেয়র প্রার্থীর মধ্যে চারজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। রোববার দুপুরে চার মেয়র প্রার্থী ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার এমএম এজহারুল হক। তিনি জানান, দুপুর সাড়ে ১২টায় মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নাসিম হোসাইন ও বেলা ১টায় মহানগর বিএনপির সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জানান। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান তার প্রতিনিধি মারফত এবং সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব কারাগারে থাকায় তার প্রতিনিধি দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। চারজন প্রত্যাহারের ফলে সিটি নির্বাচনে এবার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তিনজনের মধ্যে। তারা হচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং নাগরিক কমিটি ও ১৪ দল সমর্থিত বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য এবং সম্মিলিত নাগরিক জোট ও ১৮ দল সমর্থিত আরিফুল হক চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহ উদ্দিন রিমন। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হন। এর মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরীকে কেন্দ্র থেকে দলের মনোনয়নপত্র দেয়া হয়। আর বাকি তিন প্রার্থী নাসিম হোসাইন, আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকি ও অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামানকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেয়া হয়। এ অনুযায়ী তারা রোববার দুপুরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৮ মে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা হবে, আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জুন।
এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে ১৮ দলের নেতারা সমর্থন করেছেন। শনিবার রাতে ১৮ দলীয় জোটের মহানগর সভাপতি এমএ হকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জামায়াত নেতা হাফিজ আবদুল হাই হারুনের পরিচালনায় এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে আবুল কাহের শামীম, বদরুজ্জামান সেলিম, জামায়াতের মাওলানা হাবীবুর রহমান, ডা. সায়েফ আহমদ, মাওলানা সোহেল আহমদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আছলাম রহমানী, মুফতি ফয়জুল হক জালালবাদী, জমিয়তের মাওলানা আবদুর রহমান সিদ্দিকী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, খেলাফত মজলিসের অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান ও আবদুল হান্নান তাফাদার, লেবার পার্টির মাহবুবুর রহমান খালেদ, এলডিপির সায়েদুর রহমান চৌধুরী রূপাসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল অফিস জানায়, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহিন নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। দুপুরের আগে বিএনপির অপর প্রার্থী এবায়দুল হক চানের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেন তার ছেলে আমানুল হক চিশতী। কিন্তু জমা দেয়ার ক্ষমতাপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় এ আবেদন গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে বরিশাল আসেন এবায়দুল হক চান। দুপুরের পর সশরীরে নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে তিনি তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এদিকে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির একক প্রার্থী নিশ্চিত হলেও আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এ ছাড়া ২৬ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এর মধ্যে দু’জন সংরক্ষিত আসনের ও বাকি ২৪ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ প্রার্থী।

শেয়ার করুন