গণতন্ত্রের জন্য চাই সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী: প্রধানমন্ত্রী

0
126
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুসংহতকরণে দক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের আওতায় একটি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী প্রয়োজন। দেশে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে একটি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি গতকাল রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর অফিসার্স মেসে সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৩ উদ্বোধন উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন। খবর বাসস ও ইউএনবির।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্বারা সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ গঠিত। এই পর্ষদ তাদের পাঁচ দিনব্যাপী বৈঠকে সেনা কর্মকর্তাদের লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল এবং কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নেতৃত্ব ন্যস্ত করতে হবে তাঁদেরই হাতে, যাঁরা সুশিক্ষিত, কর্মক্ষম, সচেতন, বুদ্ধিমান এবং সর্বোপরি গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ের অধিকারী।’ তিনি আরও বলেন, আদর্শগতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সামরিক বাহিনীর জন্য অত্যন্ত মৌলিক ও মুখ্য বিষয়।
সেনা সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া এবং আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিকুল হক স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের নির্বাচিত করা খুবই জটিল কাজ। তবে কাজটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে করতে হবে। উল্লেখ্য, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের প্রজ্ঞা, বিচার-বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে আপনারা উচ্চ প্রশিক্ষিত, কর্মোদ্যমী, সচেতন, প্রত্যুৎপন্ন ও সর্বাবস্থায় গণপ্রজাতন্ত্রের মূল নীতির প্রতি অবিচল থাকার ভিত্তিতে উপযুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচনে সর্বতোভাবে সফল হবেন।’ তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তা সামরিক জীবনের নানা পর্যায়ে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নৈতিকভাবে বলীয়ান ও বিশ্বস্ততায় প্রশ্নহীন, তাঁদের পদোন্নতি প্রদানে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নয়নে তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক করতে এনডিসি, এমআইএসটি, এএফএমসি, বিআইপিএসওটি, এনসিও একাডেমি বিআইআরসি ইত্যাদি উদ্যোগ আমাদের সরকার নিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া তাঁর সরকার দুটি পদাতিক ব্রিগেড ও স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনসহ ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৩৬টি ইউনিট প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প তত্ত্বাবধানের জন্য একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন ও দুটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে একটি কম্পোজিট ব্রিগেট প্রতিষ্ঠার জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর উদ্ধার অভিযানে নবম পদাতিক ডিভিশনের ত্যাগের প্রশংসা করেন।

শেয়ার করুন