পলাতক আশরাফ-মাঈনুদ্দীনের বিচার শুরুর আদেশ

0
102
Print Friendly, PDF & Email

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় পলাতক আসামী চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ সোমবার এ আদেশ দেন।

এ-সংক্রান্ত আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানকে উপস্থিত হওয়ার জন্য ইতিমধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা দুজন ওই সময়ের মধ্যে উপস্থিত হননি। পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনেও তাঁরা দুজন পলাতক। ট্রাইব্যুনাল মনে করছেন, আন্তর্জাতিক (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া যায়।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের পক্ষে আইনি লড়াই চালানোর জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের দুজন আইনজীবীকে নিয়োগ দেওয়া হলো। এই দুজন হলেন আবদুস শুকুর খান ও সালমা হাই টুনি।

এদের মধ্যে আব্দুস শুকুর খান এর আগে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন  আবুল কালাম আযাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসাবে কাজ করেন। আর সালমা হাই টুনি এখনো সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী হিসাবে কাজ করছেন।
এর আগে চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাঁরা হাজির না হওয়ায় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। কিন্তু এতেও তাঁরা দুজন হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত সংস্থা ২০১১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। গত বছরের ৯ অক্টোবর তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়।
পলাতক আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মাঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় জন শিক্ষক, ছয় জন সাংবাদিক ও তিনজন চিকিৎসকসহ ১৮ বুদ্ধিজীবীকে অপহরণের পর নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে ৫ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ১৬টি অভিযোগ রয়েছে।

আশরাফুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বেজড়া ভাটরা (চিলেরপাড়) গ্রামে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মো. শাহজাহান কবীর।
আর চৌধুরী মাঈনুদ্দীনের বাড়ি ফেনীর দাগনভুঞার চানপুরে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করেন মো. আতাউর রহমান।

তদন্ত সংস্থা সূত্র জানায়, একাত্তরের ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী নিধনের যে নীলনকশা হয়েছিল, ঘাতক আলবদর বাহিনী তা বাস্তবায়ন করে। মুঈনুদ্দীন ছিলেন আলবদর বাহিনীর ‘অপারেশন ইনচার্জ’, আর আশরাফুজ্জামান ছিলেন ‘চিফ এক্সিকিউটর’।

শেয়ার করুন