লিচুতে বিষ খাচ্ছি

0
90
Print Friendly, PDF & Email

দিনাজপুরের বিরলে প্রাকৃতিক রসগোল্লা ও মধুফল নামে খ্যাত লিচুতে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কীটপতঙ্গের ছোবল থেকে রক্ষা পেতে মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করায় কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনসহ লিচু চাষীদের বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে শেষ মুহূর্তে প্রশাসন সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনিভাবে লিচু মৌসুমের শুরুতে প্রশাসন সক্রিয় হলে মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহৃত লিচু ফল বাজারজাত বন্ধ হবে বলে প্রত্যাশা সচেতন মহলের।
বিরল উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ২৪১টি গ্রামেই কম-বেশি নতুন-পুরনো মিলে প্রায় সাড়ে ১ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯শ’ হেক্টর জমিতে লিচু ফল হয়েছে। বাগানের মালিকরা লিচুর মুকুল আসার আগেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে বাগান বিক্রি করে থাকেন। লিচু ব্যবসায়ীরা গাছে মুকুল আসার আগ থেকেই লিচু গাছের নিবিড় পরিচর্যা শুরু করে লিচু ভাঙা পর্যন্ত বিভিন্ন রোগবালাই নাশক ও ভিটামিন প্রয়োগ করেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম জানান, গত বছর লিচু মৌসুমে ‘দিনাজপুরে লিচুতে বিষাক্ত কেমিক্যালে ১৩ শিশুর মৃত্যু’ শীর্ষক সংবাদ জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার ভিত্তিতে দিনাজপুর ও বিরল উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এখন লিচু বাজারে ওঠা শুরু হয়েছে। মানবদেহের ক্ষতি করে এমন কীটনাশক ব্যবহার না করার জন্য কৃষি অফিসকে সতর্কাবস্থায় থাকার জন্য অবগত করা হয়েছে। গত বছরের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে চলতি মৌসুমে লিচুতে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে উপজেলা কৃষি অফিসারের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দফতরে সদয় অবগতির জন্য অনুলিপি পাটানো হয়েছে। তাছাড়া লিচুসমৃদ্ধ এলাকা মাধববাটি, পূর্ব মহেশপুর, রবিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে লিচু চাষী ও লিচু ব্যবসায়ীদের কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে লিচুতে কীটনাশক ব্যবহারে সতর্ক করা হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, কৃষি অফিসের কোনো পরার্মশ ছাড়াই লিচু চাষীরা তাদের ইচ্ছামত কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন।
উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবু মো. মহসিন জানান, লিচু ব্যবসায়ীরা লিচু পাকানো এবং লিচুর রং ভালো করতে কার্বোরাইড ওষুধ ব্যবহার করেন। কার্বোরাইড মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। মিনকারা, ব্যাভিস্টিন পাউডার ছত্রাক নাশক, ভিটামিন নাফা, ওকোজিম, ফ্লোরা ও ট্রমিস্ট্রিন লিচু বড় করার জন্য ব্যবহার করলে মানবদেহের কোনো ক্ষতি হয় না। সচেতন মহল লিচু মৌসুমের শুরুতেই কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

শেয়ার করুন