সিটি করপোরেশন নির্বাচন : সিলেট-বরিশালে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি খুলনায় সেনা মোতায়েনের দাবি : রাজশাহীবাসীর প্রশ্ন এবারও লিটনের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি আসছে!

0
105
Print Friendly, PDF & Email

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সিলেটে বিএনপির দলীয় সমর্থন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার রাতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গুলশান কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী চার প্রার্থীর বৈঠকের পর আরিফুল হককে সমর্থনের কথা জানানো হয়।
এদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বিস্তৃত হচ্ছে জল্পনা-কল্পনার ডালপালা। নির্বাচনী আচরণবিধি, প্রার্থীদের যোগ্যতা, রাজনৈতিক দলের সমর্থন, আগের নির্বাচনগুলোতে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের পরিসংখ্যান ইত্যাদি নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এসব ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় এ মুহূর্তে বরিশালে সিটি করপোরেশনে বেকায়দায় রয়েছে ক্ষমতাসীন ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী সদ্য পদত্যাগ করা মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন হিরন।
অন্যদিকে একই আসনে মেয়র পদে দলের কেন্দ্রীয় মত্স্যবিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামালকে মেনে নিয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য সব প্রার্থী প্রচার-প্রচারণায় একাট্টা হওয়ায় বিএনপিসহ ১৮ দলের নেতাকর্মীদের মনোবল অনেকটা চাঙ্গা মনে হচ্ছে। এর প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে কামালের পক্ষে বিভিন্ন শোডাউনে। প্রতিটিতেই ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে। এদিকে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করার আরও দু-এক দিন বাকি থাকলেও এরই মধ্যে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।
এ ধরনের অভিযোগ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি, শাসকদল সমর্থিত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে তিনি সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি করেছেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবারও প্রার্থী হয়েছেন সদ্যবিদায়ী নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম খায়রুজ্জামান। গত নির্বাচনের আগে তার দেয়া ২৩ দফা প্রতিশ্রুতির বেশিরভাগই আলোর মুখ না দেখায় ফের তার প্রার্থী হওয়া নিয়ে ভোটারদের মাঝে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-জল্পনা।
নগরবাসীর প্রশ্ন—এবারও খায়রুজ্জামানের মুখ থেকে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিই শুনতে পাবেন, নাকি বাস্তাবেও সেসবের কিছু দেখবেন।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে খবর পাঠিয়েছেন আমার দেশ-এর প্রতিনিধিরা। তাদের পাঠানো বিস্তারিত খবর :
সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির একক প্রার্থী : সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির দলীয় সমর্থন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় বিএনপি চেয়ারপারসন আরিফকে দল সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে অন্য তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ূম জালালী পংকী ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে অন্য প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। ২৬ মে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটে গিয়ে শমসের মুবীন চৌধুরী মনোনয়নপ্রত্যাশী চার প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে ঢাকায় ফিরে আসেন। এ অবস্থায় একক প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব নেন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
তিনি বৃহস্পতিবার রাতে চার প্রার্থীকে তার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। মনোনয়নপ্রত্যাশী চার প্রার্থী বৃহস্পতিবার রাতে প্রথমে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবীন চৌধুরীসহ চার সিনিয়র নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে রাত ১১টায় তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
ওই বৈঠকে খালেদা জিয়া আরিফুল হককে দলীয় সমর্থন দিয়ে বাকি সবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে তার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন।
আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যলয়ে সিলেট সিটি নির্বাচনে বিএনপির চার মেয়র প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়া ও খন্দকার মোশারফের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে এ সিন্ধান্ত হয়। তবে বিএনপি দলীয়ভাবে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেবে না। এরই মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরী তার দলীয় পদবি ত্যাগ করেছেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ১৪ দলের একক প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। বিএনপির চার প্রার্থী ছাড়াও জামায়াতের অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিমন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে দলের পদ-পদবি ছেড়ে প্রার্থীদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে নমনীয় রয়েছে দলের হাইকমান্ড।
রাসিকে লিটনের ২৩ দফা বাস্তবায়িত না হলেও আবারও প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি আসছে : ২০০৮ সালের রাসিক নির্বাচনের আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের দেয়া ২৩ দফা ইশতেহারের প্রধান প্ল্যানগুলোর মেয়াদ শেষ হলেও বাস্তবায়িত হয়নি। তবে আসন্ন নির্বাচনে আবারও আসছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। নাগরিক কমিটি বলছে, এক মেয়াদে এসব ইশতেহার পূরণের কথা ছিল না। অনেকগুলোই পূরণ হয়েছে, আর অনেকগুলো এখনও চিন্তাভাবনার পর্যায়ের রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের জন্য ইশতেহার এখনও তৈরি হয়নি। তবে ইশতেহারে বেশ কিছু নতুন প্রতিশ্রুতি তো থাকবেই।
২০০৮ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি নির্বাচনে নগরবাসীর সমর্থন আদায়ের জন্য ২৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন নাগরিক কমিটির সমর্থিত প্রার্থী ও মহানগর আ.লীগের সাধারণ সম্পদক এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তার পক্ষে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ১৮ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন নাগরিক কমিটির নেতাকর্মীরা। ওই ইশতেহার ঘোষণার পর কেটে গেছে তার মেয়াদ। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে মহানগরীতে কিছু চাকচিক্যকরণ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেই ২৩ দফার অন্তত ৯৫ ভাগই বাস্তবায়ন করতে পারেননি সদ্য পদত্যাগী সাবেক মেয়র লিটন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে উঠেছে নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ। এরই মধ্যে আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য রাসিক নির্বাচনের জন্য আবার নতুন করে আসছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। সেই সঙ্গে থাকবে গতবারের ব্যর্থতাগুলো আবার সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি। আগামী দুই একদিনে মধ্যেই সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র লিটনের পক্ষে এবারও নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার ঘোষণা করবেন নাগরিক কমিটির নেতাকর্মীরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ডা. সৈয়দ সাফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, গত নির্বাচনের আগে দেয়া ২৩ দফার মধ্যে অনেক কিছুই বাস্তবায়ন হয়েছে। কিছু কাজ চলমান রয়েছে। আবার কিছু প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। তার ব্যর্থতার কারণ এবার নির্বাচনী অঙ্গীকারে তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে সাফল্যের বিষয়গুলোও তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হবে।
সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন গতবারের ইশতেহার প্রসঙ্গে বলেন, ২৩টি প্রতিশু্রতির মধ্যে অনেকই বাস্তবায়ন হয়েছে। এর সুবিধা এরই মধ্যে নগরবাসী পেতে শুরু করেছে। এখনও কিছু অসম্পন্ন আছে। সেগুলো বাস্তবায়নে এবারও জনগণের সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। জনগণের সহায়তা পেলে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করে সেই অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করব।
২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে দেয়া সাবেক মেয়র লিটনের ২৩ দফার মধ্যে অন্যতম ছিল পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত গ্যাস সংযোগ প্রদানের ব্যবস্থা করা, শহরের উপকণ্ঠে কাটাখালিতে বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রে গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে বিদেশি এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতায় ৫০-৬০ মেগাওয়াটা বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উত্সাহিত করে নতুন নতুন কলকারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ, রাজশাহীতে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ জোন (ইপিজেড) নির্মাণ করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগনির্ভর শিল্প ও কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া, দরিদ্র রিকশা ও ভ্যানচালকদের অতি স্বল্পমূল্যে রাতযাপন, চিকিত্সা ও ওষুধ প্রদানের ব্যবস্থা করা, নগরীতে উন্নতমানের বালক ও বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা ও বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে রাজশাহীকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলা, সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে ও পরিচালনায় যুবসমাজের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা, রাজশাহীতে একটি ইনফরমেশন টেকনোলজি ভিলেজ গড়ে তোলা, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে পার্ক, রেস্টুরেন্ট, কটেজ, বাগান ইত্যাদি নির্মাণ করা, রাজশাহী থেকে অপসারিত বিভাগীয় পর্যায়ের সব সরকারি অফিস ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করা, ক্রিকেট খেলার উন্নয়নে টেস্ট ভেন্যু উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে মহানগরীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা, জাতীয় ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের স্মৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণ করা, সাহেববাজার বড় মসজিদের অসমাপ্ত নির্মাণ কাজ এবং সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প সম্পন্ন করা, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বাসস্থানের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।
জাপা কমিটি নিয়ে দু’গ্রুপের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে : রাজশাহী মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন গ্রুপের সঙ্গে জোহা সরকার গ্রুপের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে মহানগর জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মহানগরীর গণকপাড়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম স্বপন অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে গণকপাড়ার দলীয় কার্যালয়ে আহ্বায়ক কমিটির প্রস্তুতি সভা চলছিল। এ সময় জোহা সরকার গ্রুপের কিছু লোকজন দলীয় কার্যালয়ে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে দলীয় কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা বের হয়ে যুব সমাজের সভাপতি শাহীনকে মারধর করে অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি জিয়াউর রহমান জিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
বরিশালে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অনড়, একাট্টা বিএনপি নেতাকর্মীরা : সরকারি দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে দলের হাইকমান্ড ব্যর্থ হলেও বিসিসি নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই একাট্টা হচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এরই মধ্যেই বিদ্রোহী প্রার্থী এবায়দুল হক চাঁনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে। ফলে ২-১ দিনের মধ্যেই সরকারবিরোধী পক্ষ এককভাবে জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের ব্যানারে মেয়র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় মত্স্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন।
বরিশালের শীর্ষ বিএনপি নেতা ও নির্বাচন পটু হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এমপির নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে মেয়র ও অধিকাংশ কাউন্সিলর পদে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন বলে আশা করছেন দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা।
১৫ জুন বিসিসির তৃতীয় নির্বাচন। প্রথম নির্বাচনে ২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি। দ্বিতীয় নির্বাচনে সরোয়ার কারাগারে থাকায় প্রার্থী হতে পারেননি। আওয়ামী ঘরানার একমাত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন হিরনের বিপক্ষে আওয়ামী বিরোধী শিবিরের তিন প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচন করেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস সরফুদ্দিন আহমদে সান্টুকে মাত্র ৫০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন হিরন।
তবে ওই নির্বাচনে অপর দুই প্রার্থী প্রায় ৪৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচন বিএনপি দলীয়ভাবে বয়কট করা সত্ত্বেও নির্বাচিত ৩০ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২১ জনই ছিলেন বিএনপির। এছাড়া জাপা থেকে ২ জন এবং জায়ামাতের ১ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। বাকি ৬ জন স্বতন্ত্র ও আওয়ামী লীগ হতে জয়লাভ করেন। তাছাড়া সংরক্ষিত কাউন্সিলরের মধ্যে ৫ জন বিএনপির ৩ জন আওয়ামী লীগের ও ২ জন স্বতন্ত্র।
তবে পরে সংসদ নির্বাচন শেষে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বিএনপির আকতারুজ্জামান হিরু, শেখ আবদুস সোবহান, শহীদুল্লাহ কবির, সুলতান আহমেদ, নাসির উদ্দিন, আইউব আলী, আলমতাজ বেগমসহ ৯ কাউন্সিলর যোগ দেন ক্ষমতাসীন দলে।
আসন্ন নির্বাচনে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মেয়র প্রার্থী হলেন, সদ্য পদত্যাগ করা মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন হিরন। কিন্তু মেয়র প্রার্থী হিসেবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন ৫ বছর নগরজুড়ে নানান সমাজসেবামূলক কাজ করেন প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে। এবারের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেও সফল হয়নি ক্ষমতাসীন দলটি। প্রার্থী থাকতে অনড় মামুন নগরজুড়ে প্রতিদিন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। ফলে তিনি দলের মূল প্রার্থী হিরনের জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
অপরদিকে বিএনপি থেকে ৩ প্রার্থীর মেয়র পদে মনোনয়ন দাখিল করলেও এরই মধ্যে মহানগর সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহিন নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ঢাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এমপির উপস্থিতিতে ৩ প্রার্থী নিয়ে বৈঠক শেষে শাহিন এ ঘোষণা দেন।
ওই বৈঠকে দল থেকে কেন্দ্রীয় মত্স্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামালকে একক প্রার্থী ঘোষণা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত ওই সময় মেনে নিলেও পরে প্রার্থী থাকার ঘোষণা দেন চান। তবে গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি বদলে গেছে অনেক।
একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হাইকমান্ড ঢাকায় তলব করেছে চানকে। সূত্র আরও জানায়, এরই মধ্যে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেছে চানের নির্বাচন না করার বিষয়ে। এছাড়া বিসিসি নির্বাচনে কামালের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বরিশাল সদর আসন থেকে বহুবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক সিটি মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। প্রায় ১ যুগ পর সরোয়ার-কামাল এক হওয়ায় নগরজুড়ে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। এক হয়ে সবাই নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে গত নির্বাচনে হারানো মর্যাদাপূর্ণ বিসিসি মেয়র পদটি ফিরে পাওয়ার আসা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদ গঠন : দলীয়ভাবে নির্বাচন না করায় বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন করছেন জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের ব্যানারে। বৃহস্পতিবার বিএনপি কার্যালয়ে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নাগরিক পরিষদের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। ১০১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটির প্রধান হলেন অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। কমিটিতে ৯ জন সমন্বয়ক হলেন, মহানগর বিএনপির সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহিন, জেলা বিএনপি সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, বিএনপি নেতা এইচএম সালেহ আহমেদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুল হক আক্কাস, অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল, মনিরুজ্জামান ফারুক, অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান নান্টু, অ্যাডভোকেট আলী আহমেদ, অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু ও শেখ আবদুর রহিম।
ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিতে হবে ফ্যাসিস্ট সরকারকে—সেলিমা রহমান : জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের পক্ষে গতকাল বিভিন্ন সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান।
তিনি গতকাল বিকালে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদের এক সমাবেশে বলেন, আওয়ামী শাসন আমলে দেশজুড়ে নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে সব ধরনের অপকর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। এসব অপকর্মের সঙ্গে সরকার দলের নেতাকর্মীরা জড়িত থাকায় যার একটিরও বিচার হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেনা সমর্থনে ক্ষমতায় এলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছে। আমার দেশসহ সমালোচনায় মুখর গণমধ্যমের ওপর চালানো হচ্ছে নির্যাতন। বিরোধী দলের ওপর হামলা মামলা নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। দেশের এ ক্রান্তিকালে আসন্ন সিটি নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রার্থীকে জয়যুক্ত করে সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় ১নং যুগ্ম মহাসচিব বিলকিস জাহান শিরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মী সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন আহসান হাবিব কামাল, অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহিন, শামিমা আকবর, আফরোজা আলম প্রমুখ।
সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে হিরনের মতবিনিময় : নগরীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তাকে ফের মেয়র নির্বাচিত করার আহ্বান জানালেন সদ্য বিদায়ী মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন হিরন। গতকাল দুপুরে বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
হিরন বলেন। এর আগে যারা ৩০ বছর ধরে পৌর চেয়ারম্যান ও মেয়র হয়েছিলেন, তারা কেউই তাদের ওয়াদা পূরণ করতে পারেননি। কিন্তু তিনি মেয়র হিসেবে রাস্তাঘাট-ড্রেন বিদ্যুত্ থেকে শুরু করে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন করেছেন। আর উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে তাকে আবারও মেয়র নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব মাহাবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রম, বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুছ, জনতা ব্যাংকের পরিচালক বলরাম পোদ্দার উপস্থিত ছিলেন।
আহসান হাবিব কামাল : জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামাল বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পৌর কমিশনার, পৌর চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সব সময়ই জনগণের জন্য কাজ করেছি। নির্বাচিত হলে আগামীতেও একইভাবে জনসেবায় কাজ করে যাব। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জনগণের পাশে ছিলাম, থাকব—মামুন : আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন নগরজুড়ে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে মাঝ রাত পর্যন্ত ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
গণসংযোগকালে মামুন বলেন, আমি সব সময় জনগণের পাশে ছিলাম এবং থাকব। নগরীর উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানিতে হাঁটতে হয় আমাদের। মেয়র নির্বাচিত হলে উন্নয়ন ও নগর সুবিধাবঞ্চিত বর্ধিত এলাকার সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ : বিসিসি নির্বাচনে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন হিরন, আহসান হাবিব কামাল ও মাহমুদুল হক খান মামুনকে সতর্ক করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী ২১ দিন আগে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর নিয়ম না থাকলেও প্রার্থীরা তা মানছেন না। শুরু থেকেই ব্যাপক শোডাউন, মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে মহড়া, রঙিন হ্যান্ডবিল এবং ভোট চেয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে রঙিন বিজ্ঞাপনও দেয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে নির্বাচন আচরণবিধি পর্যবেক্ষণ কমিটি। রিটার্নিং অফিসার মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিতে অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন—মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক, এলজিইডির নির্বাহী পরিচালক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, তথ্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক ও বেসরকারি সংস্থা সুজন সভাপতি।
খুলনায় খালেকের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ মনির, সেনা মোতায়েন দাবি : খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ফের সেনা মোতায়েনের দাবি করেছেন মেয়র প্রার্থী ও মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি।
এছাড়া সদ্য সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক জেতার জন্য ভোটকেন্দ্র দখলের সব আয়োজন সম্পন্ন করে রেখেছেন এবং প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় অস্ত্র নিয়ে শোডাউন করতে নগরবাসী দেখেছে তাদের। টেন্ডার ও জমি দখলসহ সব ক্ষেত্রে তারা নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই নির্বাচনের মাঠেও তারা যে ব্যবহৃত হবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। নগরীর অস্ত্রধারীরা কেউ গ্রেফতার হয়নি। তাদের হাতে অস্ত্র আছে। কিন্তু সেগুলো উদ্ধার করা হয়নি। বহালতবিয়তে সরকারি দলের ছত্রছায়ায় রয়েছে তারা।
দৈনিক আমার দেশকে নির্বাচন নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এসব আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রকাশ্যে দিনের বেলায় ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলামকে গুলি করে হত্যার পর চরমপন্থীরা ই- মেইল বার্তা পাঠিয়ে দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
জাতীয়তাবাদী নাগরিক ফোরামের এই প্রার্থী বলেন, নির্বাচন কমিশনে আমি খালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি। তার ছবি সংবলিত রঙিন বিলবোর্ড রয়েছে নানা জায়গায়। আমি জানি, নির্বাচন কমিশন থেকে এসব ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। নগরবাসী এসব নিজের চোখে দেখেছে। তিনি আরও বলেন, খুলনায় আইনের শাসন না থাকায় ক্ষমতা ও শক্তির শাসন চলছে। সে কারণে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন জরুরি।
মনিরুজ্জামান বলেন, আসলে আওয়ামী লীগ ভোটকেন্দ্র দখল করার সব আয়োজন সম্পন্ন করে রেখেছে। সে কারণে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে (বিশেষ করে খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ক্যাডারদের), তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেখেছে।

শেয়ার করুন