বসিকে মেয়র পদে দুই বহিরাগতের লড়াই!

0
115
Print Friendly, PDF & Email

জন্মসূত্রে শওকত হোসেন হিরন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা। আর আহসান হাবীব কামালের জন্মস্থান বরিশাল নগরীতে হলেও তার দাদার বাড়ি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায়। তবে দু’জনেই দীর্ঘদিন ধরে বরিশালে অবস্থান করছেন।

এদিকে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বসিক) মেয়র পদে এ দু’জনের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে ধারণা করছেন নগরবাসী।

নগরীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে কিছুটা সুবিধা পাবেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন। থাকেন নগরীর ওবায়দুর রহমান মস্তফা সড়কের হিরন পয়েন্টে।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরেও বরিশালেই ছিলেন হিরন। তবে অভিযোগ রয়েছে, গত একবছর ধরে তিনি কিছুটা জনগণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বেশির ভাগ সময়ই কাটান ঢাকায় বা দেশের বাইরে। বিষয়টি নির্বাচনে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।

আর সপরিবারে ঢাকায় অবস্থানের কারণে কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হতে পারে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আহসান হাবীব কামালকে। নগরীর হযরত কালুশাহ রোডে তার বাড়ি থাকলেও সপরিবারে থাকেন ঢাকায়। সেখানেই তার বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

জানা গেছে, বিগত নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয় হলে বরিশাল ছাড়েন কামাল। অনেকদিন আর বরিশালমুখো হননি। ২০১১ সালের ২৩ জুন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বরিশালে  আসা-যাওয়া শুরু করেন।

হরতালসহ বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে বরিশালে আসতেন। তবে কর্মসূচির শেষেই আবার ফিরে যেতেন ঢাকায়। ফলে, বরিশালের সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টি হয়।

তার বরিশাল শহরে অবস্থানের বিষয়টি এক শ্রেণীর ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এক রিকশাচালক বলেন, “মোর নাম ফ্লাস করা যাইবে না। কামাল ভোড নিয়া ঢাকা যাইবে। মোর কাম লাগলে হেরে পামু কই। যারে কাছে পামু, হেরেই ভোট দিমু।”

এক শ্রেণীর ভোটার রয়েছেন, তারা মনে করেন মেয়র বরিশালে থাকলে বিপদে পড়ে দ্বারস্থ হলে সাহায্য পাওয়া যাবে। আর যদি ঢাকায় থাকেন, তাহলে পাওয়া কঠিন হবে। মূলত এই শ্রেণীর ভোটারদের পছন্দের তালিকায় হিরন এগিয়ে থাকবে।

আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, “বসন্তের কোকিলদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবেন। যিনি জনগণের পাশে থেকে উন্নয়ন করেছেন, তাকেই জনগণ বেছে নেবেন।”

কিন্তু, বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না।

বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান ফারুক বাংলানিউজকে বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও দলের সমর্থন রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা প্রার্থীর জন্য মাঠে কাজ করছেন। জনগণ দেখবে দল কাকে সমর্থন দিচ্ছে।”

অপর বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, “কার নানা বাড়ি-দাদা বাড়ি কোথায় এসব দেখে ভোটাররা ভোট দেবেন না।”

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুল করিম বলেন, “বিগত চারবছর সাত মাসে শওকত হোসেন হিরন বরিশালের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। জনগণের পাশে ছিলেন সব সময়। তাকেই ভোটাররা নির্বাচিত করবেন।”

প্রসঙ্গত, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তৃতীয় এই নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরা হলেন- বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সদ্য বিদায়ী মেয়র শওকত হোসেন হিরণ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, জেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবীব কামাল, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান শাহীন ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবায়দুল হক চাঁন।

ঘোষিত তফসিল অনুসারে মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয় ১২ মে পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয় ১৫ ও ১৬ মে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ রয়েছে ২৬ মে। ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জুন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ভোটার আছেন দুই লাখ ১০ হাজার ৫শ ৩০ জন।

শেয়ার করুন