সরকারকে বাধ্য করা হবে: খালেদা

0
54
Print Friendly, PDF & Email

এই দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

অনির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা দিতে আপত্তি জানিয়ে আসা সরকারকে উদ্দেশ্য করে বৃহস্পতিবার রাতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন এই হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন কেবল নিরপেক্ষ নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনে হতে হবে। এটি এখন শুধু বিএনপি নয়, দেশের ৯০ ভাগ মানুষের দাবি। আমরা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করবো।”

আগামী নির্বাচন নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বিপরীত অবস্থানে দেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে অনির্বাচিতদের ক্ষমতায় বসানোর কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে বিরোধী দল বলছে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। তাই নিদর্লীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগের কর্মী-গুণ্ডা বাহিনীর হাতে অস্ত্র।  যত জনমতই আমাদের থাকুক না কেন, ওই গুণ্ডাবাহিনী নির্বাচনের সময়ে ভোট কেন্দ্র দখল করে নেবে। কোনো ভোটার ভোট কেন্দ্র যেতে পারবে না।”

বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের কোনো চেষ্টা না করতে সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “সরকার যদি ওই দাবি না মেনে জোর-জুলুম করে নির্বাচন করতে যায়, তা কীভাবে প্রতিরোধ করা হবে তা দেখতে পাবেন।”

মহাজোটের দেশ পরিচালনার সমালোচনা করে বিরোধী নেতা বলেন, “খুনি ও দুর্নীতিবাজ সরকারের হাতে জনগণ নিরাপদ নয়। মানুষ এই সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়।”

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক দাবি করে তিনি বলেন, বিদেশিরা এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলছে। অ্যমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনও দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে।

“এরপর সরকারের মুখ কোথায়,” বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

গণমাধ্যমও সরকারের ‘দলীয়করণের’ শিকার দাবি করে তিনি বলেন, “চ্যানেল ও পত্রিকাকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। দুটি টেলিভিশনের সম্প্রচার তারা বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার কোনো বিরোধী মতামতকে সহ্য করতে পারে না।”

হেফাজতে ইসলামের ৫ মে মতিঝিলের সমাবেশে অনেককে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসন; যদিও সরকারের বক্তব্য, ওই অভিযানে কেউ নিহত হয়নি, আর হলে তার দাবি নিয়ে স্বজনরা আসতো।

বুদ্ধপূর্ণিমায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন খালেদা জিয়া।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ওই অনুষ্ঠানে বৌদ্ধদের পক্ষ থেকে একটি ক্রেস্ট বিরোধীদলীয় নেতার হাতে তুলে দেয়া হয়।

খালেদা জিয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, গত বছরে টেকনাফ, উখিয়া ও রামুতে হাজার বছরের বৌদ্ধ বিহার ও মঠে হামলার পেছনে ক্ষমতাসীন দল জড়িত ছিলো।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন,  “আমি সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুতে বিশ্বাস করি না। আমরা সবাই মানুষ। কাউকে ছোট বা বড় হিসেবে আমি বিবেচনা করি না। আমরা বিশ্বাস করি, সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে এক সঙ্গে ধর্ম পালন করবে।”

বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলার সভাপতি দীপেন দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এম মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, গৌতম চক্রবর্তী, আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া প্রমুখ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়ার নেতৃত্বে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলে ছিলেন রবীন্দ্র লাল চাকমা, উদয় কুসুম বড়–য়া, সুশীল কুমার বড়–য়া, প্রবীণ চন্দ্র চাকমা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মওদুদ আহমদ, আ স ম হান্নান শাহ, আবদুল মঈন খান, ওসমান ফারুক, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আবদুস সালাম, মাসুদ আহমেদ তালুকদারও ছিলেন।

শেয়ার করুন