শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য বিপজ্জনক পৃথিবী

0
109
Print Friendly, PDF & Email

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বজুড়ে থাকা শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য ক্রমেই পৃথিবী বিপজ্জনক স্থানে পরিণত হচ্ছে বলে বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। অ্যামনেস্টি বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো অভিবাসীদের অধিকারের তুলনায় নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতেই বেশি আগ্রহী। সিরিয়ায় যে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হচ্ছে, তা বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেও অভিযোগ এনেছে অ্যামনেস্টি। ওই রিপোর্টে বলা হয়, সিরিয়ায় চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ স্থান বা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৫ লাখ সিরীয় দেশের অভ্যন্তরে ও ১৫ লাখ সিরীয় দেশের বাইরে বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। মানবেতর পরিস্থিতিতে কাটছে তাদের দিন। দেশটিতে গত ২ বছরের সহিংসতায় ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অ্যামনেস্টির সেক্রেটারি জেনারেল সলিল শেঠি বলেছেন, যে সিরীয়রা সহিংসতা এড়াতে পালাচ্ছেন, তাদের অধিকার সুরক্ষিত নয়। তিনি বলেন, বেশ কিছু দেশের সরকার অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। অ্যামনেস্টির বার্ষিক ওই রিপোর্টে শরণার্থী ও অভিবাসন ইস্যুতে নানা অসঙ্গতির কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে উত্তর কোরিয়া থেকে মালি, সুদান থেকে কঙ্গো সব স্থানেই মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তাদের ঘরবাড়ি ছাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা অবলম্বন করেছে। এতে অভিবাসী ও আশ্রয় প্রার্থীদের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যারা যুদ্ধ থেকে পালিয়ে নিরাপত্তা চায় তাদেরকে নিরাপত্তা দিতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। এতে বলা হয়, সারা বিশ্বেই অভিবাসী ও আশ্রয় প্রার্থীদের বন্দিশিবিরে আটক রাখা হয়। বিশ্বের ২১ কোটি ৪০ লাখ অভিবাসী তার ঘরে অথবা রাষ্ট্রে নিরাপদ নন। তাদেরকে দিয়ে জোর করে শ্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে। কারণ, সরকারগুলো তাদেরকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করে।

শেয়ার করুন