চাঁনকে নিয়ে বিপাকে বরিশাল বিএনপি

0
106
Print Friendly, PDF & Email

জিয়া শাহীন, বরিশাল থেকে: জেলা সভাপতির পদ থেকে আহসান হাবিব কামাল পদত্যাগ করায় বরিশাল বিএনপিতে একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। এর পরপরই বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চাঁনকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করাতে নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রস্তাব দেয়া হয়েছে জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করার। কয়েক দফা আলোচনার পর চাঁন এখন ঢাকায়। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে তিনি ঢাকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ নতুন করে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। নির্বাচন করার ব্যাপারে তিনি অনড় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চাঁন।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র দু’জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে জেলা সভাপতি আহসান হাবিব কামাল দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আশীর্বাদ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। অপরদিকে নাগরিক ফোরামের ব্যানারে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি’র অপর নেতা এবায়েদুল হক চাঁন। নগরীর উত্তরাঞ্চল তথা কাউনিয়া, আমানতগঞ্জ এলাকায় চানের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। সরোয়ারপন্থিদের একাংশ এখনও চাঁনের সঙ্গে যোগযোগ রেখে চলেছেন বলে জানা গেছে। চাঁনের সমর্থকরাও সরোয়ারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে কামালের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের জন্য। আর তাই চাঁনকে মাঠে রেখে বিএনপি’র নির্বাচনে সুফল আসবে না এটি এরই মধ্যে দলের শীর্ষ নেতারা বুঝে গেছেন। আর এ জন্যই চাঁনকে বসাতে শুরু হয়েছে নানামুখী তৎপরতা। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ২০০৮ সালে চাঁনের ওপর থেকে দলীয় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর তাকে তার জেলা সম্পাদকের পদ ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। পদবিহীন চাঁনকে একটি সম্মানজনক পদ দেয়ার প্রস্তাব উঠেছে। সূত্রটি জানায়, তবে চাঁনের দাবি জেলা সভাপতির পদ। এদিকে গত মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় সৈয়দা মজিদুন্নেছা বিদ্যালয়ে সরোয়ারপন্থিরা বৈঠকে বসেন চাঁন সমর্থকদের সঙ্গে। এ সভায় উপস্থিত যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আকন সম্রাট জানান বৈঠকে এবায়েদুল হক চানকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ত্যাগী এ বিএনপি নেতাকে সম্মানজনক একটি পদ দেয়া হতে পারে। এদিকে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী জেলা বিএনপি সভাপতি আহসান হাবিব কামাল বুধবার তার পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। এ অবস্থায় এবায়েদুল হক চাঁনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদ দিয়ে সমঝোতার একটি ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এ অবস্থায় চাঁনকে ঢাকায় ডেকে পাঠান হয়েছে। জানা গেছে এ সমঝোতার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহকে। তবে মোবাইলে চাঁন এ তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমি কোন কিছুর প্রলোভনে নির্বাচনে আসিনি। মনোনয়ন জমা দিয়েছি, নির্বাচনও করবো। অনড় চাঁনকে নিয়ে তাই বিপাকে বিএনপি। সাবেক জেলা সম্পাদক মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন হিরণের সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কুলিয়ে ওঠা সম্ভব নয় এটি নেতাকর্মীরা বুঝতে পারছে। আর এ কারণেই চাঁনের মনোনয়ন প্রত্যাহারে নানামুখী চেষ্টা শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন