পোশাক শ্রমিকদের জন্য আন্তর্জাতিক মজুরি কাঠামোর আহ্বান ইউনূসের

0
70
Print Friendly, PDF & Email

পোশাক শ্রমিকদের মৌলিক জীবনধারা নিশ্চিত করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক ন্যূনতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেল  বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের অব্যবস্থাপনার দোহাই দিয়ে ক্রেতাদের বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে চলবে না। পোশাক শ্রমিকদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত দেশী-বিদেশী সকলের দায়িত্ব। মঙ্গলবার বিবিসি’র নিউজ নাইট অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন জেরেমি পেক্সম্যান। ড. ইউনূস বলেন, রানা প্লাজার দুর্ঘটনা বাংলাদেশের পোশাক খাতের সমস্যা নিয়ে দেশী-বিদেশী সবার চোখ খুলে দিয়েছে। কাজেই এ দুর্ঘটনা থেকে সংশোধনের সুযোগ সকলকে নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখনও প্রাথমিক ধাপে রয়েছে। এ খাতে অনেক সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে ক্রেতাদেরও দায়িত্ব নেয়া জরুরি। ক্রেতারা ৫ ডলারে কাপড় বানিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে ৩৫ ডলারে বিক্রি করছে। অথচ প্রতি পোশাকের জন্য শ্রমিকরা পাচ্ছেন ৫ সেন্ট। শ্রমিকদের মজুরি ৫ সেন্টের স্থলে ৫০ সেন্ট করে দিলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ বিষয়ে সমঝোতার মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা যেতে পারে বলে মত দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পোশাক তৈরির জন্য খুবই ভাল স্থান। ভাল মানের পোশাক তৈরির জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ৪০ লাখ নারী শ্রমিক এ শিল্পে কাজ করছে। বাংলাদেশ থেকে দূরে সরে আসা কোন সমাধান নয়। সমস্যা সমাধানে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বলছি না শ্রমিকদের জন্য পশ্চিমা ধাঁচের মৌলিক জীবন নিশ্চিত করতে, তাদের জন্য বাংলাদেশের অবস্থা অনুযায়ী মৌলিক জীবন ধারণের ব্যবস্থা করে দিলেই যথেষ্ট। তাছাড়া, ৫০ সেন্ট করা হলেও মজুরি সস্তা থাকবে। তিনি বলেন, সমপরিমাণ মজুরিতে পশ্চিমা দেশের কোন লোক কাজ করবে না। তাছাড়া, এই পরিমাণ মজুরি বৃদ্ধির জন্য পোশাকের দামেও খুব বেশি  হেরফের হবে না।

শেয়ার করুন