পোশাক শিল্পের মজুরি বোর্ড ‘আগামী সপ্তাহে’

0
90
Print Friendly, PDF & Email

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে আগামী সপ্তাহেই বোর্ড গঠন করতে যাচ্ছে সরকার।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর একথা জানান মন্ত্রী শাহজাহান খান।

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন-কাঠামো নিয়ে বৈঠক করেন শ্রমিক নেতা শাহজাহান খানসহ অন্য দুই মন্ত্রী।

বৈঠকের পর রাতে শাহজাহান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামী সপ্তাহেই পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন-কাঠামোর বোর্ড গঠন সংক্রান্ত গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করা হবে। ওই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে শ্রমিকদের মজুরি কত হবে এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে।”

তিনি আশা করছেন, এই প্রক্রিয়া আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে।

গার্মেন্ট কর্মীদের বেতন-ভাতা ও কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিরূপ আলোচনার প্রেক্ষাপটে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণে বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

গত ১২ মে সংসদীয় কমিটি, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং পোশাক খাতের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী জানান, এই মজুরি বোর্ড ১ মে থেকে কার্যকর বলে ধরা হবে।

শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও গার্মেন্ট মালিকরা বোর্ড কার্যকরের তারিখ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন।

নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ড যখনই নতুন মজুরি কাঠোমো  সুপারিশ করুক না কেন, নতুন সেই কাঠামোতে বেতন পরিশোধ করতে হবে  ১ মে থেকে।

এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালের  ২৭ জুলাই পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

গত তিন বছরে মূল্যস্ফীতির কারণে ওই কাঠামো পর্যালোচনা করার দাবি জানিয়ে আসছিল শ্রমিক সংগঠনগুলো।

প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্পে ৩৬ লাখের বেশি শ্রমিক জড়িত, যাদের অধিকাংশই নারী। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও আগের মজুরি কাঠামোই সব কারখানায় ঠিকমতো অনুসরণ করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন এবং গত ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের স্বল্প মজুরির বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে আসে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি পোশাক বর্জনেরও হুমকি দেয়া হয়।

এরপর পোশাক কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি করে সরকার যার প্রধান করা হয় বস্ত্রমন্ত্রীকে।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে অস্থিরতা নিরসন, কারখানা চালু রাখা এবং উৎপাদনের স্বার্থে শ্রম আইন অনুযায়ী এই মজুরি বোর্ড গঠন করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন