সংলাপ তো হতেই হবে

0
64
Print Friendly, PDF & Email

সংলাপ তো হতেই হবে বিরোধী দলের ‘নির্দলীয় সরকারের’ দাবির বিপরীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের’ কথা বললেও এর রূপরেখা গতকাল রোববারও খোলসা করেনি দলটি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, অনির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে না। নির্বাচিত একটি সরকার পরবর্তীকালে নির্বাচিত আরেকটি সরকারের কাছে কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

গতকাল ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সৈয়দ আশরাফ বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে কোনো অসাংবিধানিক ব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আলোচনা করেই ঠিক করা হবে। সংলাপ তো হতেই হবে। ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের’ প্রধান থাকছেন’Ñ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ ‘সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনার কথা’ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বিষয়টি এড়িয়ে যান আশরাফ।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী আগামী দশম সংসদ নিবাচন হবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এর বিরোধিতায় আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ‘নির্দলীয়’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা না ফেরালে নির্বাচন বয়কটেরও হুমকি রয়েছে তাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বলেছেন, নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার হলে তা মানতে তার আপত্তি নেই। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, আগে নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিলেই সংলাপে রাজি আছেন তারা। সৈয়দ আশরাফ বলেন, আমাদের ডেমোক্রেসির ফান্ডামেন্টালই হলোÑ একটি জনগণের নির্বাচিত সরকার, আরেকটি জনগণের নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে মিডিয়ার মাধ্যমে আলোচনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা তো নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার কথা বলেছি। এখানে তো কোনো ব্যক্তির নাম নেই। আমরা তো কারো নাম বলিনি। তাহলে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান কে হচ্ছেনÑ জানতে চাইলে আশরাফ হেসে পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, কেন আমি হলে অসুবিধা আছে? এসব বিষয় চূড়ান্ত করতে বিরোধী দলকে সংসদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সৈয়দ আশরাফ বলেন, পত্র-পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যমগুলোকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানাব। গণতন্ত্র না থাকলে কারোই স্বাধীনতা থাকবে না। গত ১৫ মে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বর্ধিত সভায় নেওয়া রাজনৈতিক প্রস্তাব ও সিদ্ধান্তগুলো জানাতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের মুখপাত্র। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে মধ্যআয়ের দেশে পরিণত হবে। বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট, উন্নয়ন ও সাংবিধানিক ধারাকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় দেশকে চরম নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। বর্ধিতসভার সিদ্ধান্তগুলো জানিয়ে আশরাফ বলেনÑ এ সভা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করছে, বাংলাদেশে আর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, অর্থাৎ ২০০৭-২০০৮ এর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে সংবিধান সমুন্নত রাখা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে কোনো অসাংবিধানিক ব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

সংবাদ সম্মেলন বেলা ১২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সৈয়দ আশরাফ ধানমণ্ডির কার্যালয়ে আসেন ১টা ১০মিনিটে। আরো ১০ মিনিট পর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন তিনি। দেরির জন্য শুরুতেই দুঃখ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস। দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে আশরাফ বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, দেরি হওয়ার জন্য ইতোমধ্যে আমাদের উপ-দপ্তর সম্পাদক ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। সপ্তাহের প্রথম দিন অনেক কাজ থাকে। এজন্য দেরি হয়ে গেছে।

বিরোধী দল ও সংলাপ বিষয়ে সৈয়দ আশরাফ সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইতিমধ্যে বিরোধী দলকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন। সংসদে এসে তিনি তাদের দাবি পেশ করার কথা বলেছেন। সৈয়দ আশরাফ যোগ করে বলেনÑ একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ বলেছেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে আলোচনা হবে। আমাদের জানামতে, সেখানে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নেই যে বসে কোনো আলোচনা করা যাবে।

‘সংসদে গিয়ে আমরা কোনো ফর্মুলা পেশ করব না। কারণ, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেটা সরকার বাতিল করে দেবে’Ñ বিরোধী দলের এমন অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ আশরাফ বলেন, তাদের প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে আলোচনা হবে। এ আলোচনা ভোটাভুটির মাধ্যমে বাতিল করা হবে, সেটা তো বলা হয়নি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শর্তহীন সংলাপে রাজি হয়েছেন। তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সাড়া মিলছে না কেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেনÑ একবার তিনি (খালেদা জিয়া) বললেন, তলে-তলে আলোচনা হয় না। আমাদের আলোচনার আহ্বানকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি আলটিমেটাম দিয়ে আমাদের সংলাপের প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন। তার কোনো প্রস্তাব দেওয়ার আগে নিকট অতীতে কী হয়েছে, সেটা মনে রাখতে হবে।

বাংলাদেশে আর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয় কথাটি জোরের সঙ্গে উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে আর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা ২০০৭-২০০৮ সালের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে সংবিধান সমুন্নত রাখা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে কোনো অসাংবিধানিক ব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আশরাফ আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভা দৃঢ়ভাবে মনে করেÑ বর্তমান সংবিধানের আওতায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কেবল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই করা সম্ভব। বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থাই হলো সংসদীয় গণতন্ত্রের অপরিহার্য অনুকরণীয় পথ। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা এগিয়ে নেওয়ার জন্য দেশের সব গণতান্ত্রিক দলকে এগিয়ে আসতে তিনি আহ্বান জানান।

সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত সবার ওপরই কার্যকর হবে সভা-সমাবেশের ওপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মাসের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সব সময় সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়ন হয় না। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে মৃত্যুর হার বেশি না হলেও অনেক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সেখানে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রয়োজন। এ জন্য এক মাস সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি শুধু বিরোধী দলের ওপর নয়, সরকারি দলের ওপরও কার্যকর হবে।

গণভবনে বর্ধিতসভার উল্লেখ করে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার তাগিদ রয়েছে এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেনÑ দলের বর্ধিত সভায় বিএনপি-জামায়াত জোটের হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যেসব জেলা ও উপজেলায় সম্মেলন অসমাপ্ত রয়েছে, অবিলম্বে সেসব জেলা ও উপজেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া, সর্বস্তরের দলীয় সংগঠন এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে অবিলম্বে আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। সারা দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সাংগঠনিক সফর করবেন বলে তিনি জানান। পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে দুর্যোগপীড়িত এলাকার মানুষের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হবে বলেও তিনি জানান। সৈয়দ আশরাফ বলেনÑ বিগত প্রায় সাড়ে ৪ বছর অত্যন্ত দক্ষতা, সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রপরিচালনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অভূতপূর্ব সাফল্য ও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, সেজন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের বর্ধিতসভা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশবাসীকে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকারই কেবল বাস্তবায়িত করেননি, শেখ হাসিনা প্রিয় মাতৃভূমিকে বিশ্বসভায় এক মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। বিশ্বমন্দা মোকাবিলা করে অর্থনীতির চাকা কেবল সচলই রাখা হয়নি, বিশ্বের গুটি কয়েক দেশের মধ্যে বাংলাদেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে অগ্রণী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে আত্মনির্ভরশীল। দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্যের কারণে বাংলাদেশকে সুপারস্টার আখ্যা দিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সৈয়দ আশরাফ বলেনÑ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধান, শিল্পের প্রসার, রপ্তানি আয় প্রায় ৪১ শতাংশে উন্নীত করণ, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, প্রায় ১ কোটি মানুষের নতুন কর্মসংস্থান, স্মরণকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়, সর্বোপরি জনগণের মাথাপ্রতি আয় প্রায় ৯শ ডলারে উন্নীত করা এবং জীবনযাত্রার মানউন্নয়নসহ অর্থনীতির ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, এজন্য বিশ্বব্যাংকসহ পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অভিহিত করেছে বিস্ময় অর্থনীতি ‘মিরাকল ইকনোমি’ হিসেবে। শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রেও সরকারের সাফল্য ঈর্ষণীয়। একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, দশম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে মাধ্যমিক পর্যন্ত সময়মতো বই বিতরণ, প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার শতভাগ অর্জন, শিক্ষার মান উন্নয়নের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ সমূহের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের সাফল্য জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃতি অর্জন করেছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। দেশে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন এবং গড় আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরে। কোটি কোটি মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের মানবিক মর্যাদায় বেঁচে থাকা নিশ্চিত করা হয়েছে।

দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেন, রাজধানী ঢাকায় দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বেশ কয়েকটি দীর্ঘ উড়াল সেতু নির্মাণ ও কমিউটার রেল চালু প্রভৃতি যুগান্তকরী সাফল্য বাংলাদেশের দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে। ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, নতুন নতুন রাস্তাঘাট, রেলপথ সম্প্রসারণ, সেতু, ওভারব্রিজ নির্মাণ, হাজার-হাজার গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের গ্যাস সরবরাহ, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল নির্মাণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়। তথ্য-প্রযুক্তি এখন জনগণের দোরগোড়ায়, প্রতি ইউনিয়নে স্থাপিত তথ্য কেন্দ্রে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ই-সেবা, ৩ কোটি মানুষের হাতে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশিÑ প্রায় ৯ কোটি মোবাইল সীম ব্যবহার, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছে। বন ও পরিবেশ রক্ষা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ, ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাফল্য, সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকায়ন এবং শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ‘সমুদ্র বিজয়’ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কেবল সাফল্যের স্মারক নয়, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সম্প্রসারণেরও প্রতীক উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেনÑ গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের সামনে রোলমডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত থাকলে নিশ্চিতভাবে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে।

ওই সভা দেশ পরিচালনায় উল্লিখিত সাফল্যের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে। একইসঙ্গে যেকোনো মূল্যে উন্নয়ন, গণতন্ত্র সাংবিধানিক সরকারের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কৃতিত্ব যে দেশবাসীর তাদের প্রতিও এই সভা আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে।

দলের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেনÑ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বর্ধিতসভা গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে, বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট, উন্নয়ন ও সাংবিধানিক ধারাকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার লক্ষ্যে আন্দোলনের নামে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উপর্যুপরি হরতালসহ ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিয়ে অগণিত সাধারণ মানুষ হত্যা, পুলিশ হত্যা, রেলগাড়ি, বাস, দোকানপাট ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, সংখ্যালঘুদের মন্দির, প্যাগোডাসহ বসতবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, রেললাইন উপড়ে ফেলা, হাজার হাজার বৃক্ষ নিধন, বিদ্যুৎকেন্দ্র পুড়িয়েছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিশ্বের ইতিহাসের তুলনাহীন বর্বরতা নিয়ে বায়তুল মোকাররম ও পুরানা পল্টন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পবিত্র কোরআন শরিফ ও হাদিস শরিফসহ ধর্মগ্রন্থ আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেনÑ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ উল আলম লেনিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, আহমদ হোসেন, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক ভুঁইয়া, ডা. বদিউজ্জমামান খান ডাব্লিউ, আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, মৃণাল কান্তি দাস, অসীম কুমার উকিল, সুজিৎ রায় নন্দী, নাজমা আক্তার ও অধ্যাপিকা অপু উকিল প্রমুখ।

শেয়ার করুন