কড়া নজরে এরশাদ

0
41
Print Friendly, PDF & Email

ক্ষমতার লোভে পেয়ে বসেছে সাবেক সেনাশাসক জাতীয় পার্টির (জাপা) এইচ এম এরশাদকে। মহাজোট সরকারের কাছে নানাভাবে বঞ্চিত হওয়া সাবেক স্বৈরাচারী এই শাসকের কাছে ক্ষমতায় যাওয়াটাই এখন মূখ্য বিষয়। তাই যেনতেন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। ইতোমধ্যে বিরোধি জোটের সঙ্গে তার আঁতাত এবং সবশেষ হেফাজতে ইসলামের প্রতি বাড়তি অনুরক্তি এ সত্যকে আরো স্পষ্ট করেছে। এছাড়া ঘনঘন বিদেশ সফরসহ বিএনপির সঙ্গে গোপন আতাত করার কারনে সরকারের কড়া নজরদারিতে রয়েছে এরশাদ।

দলীয় সূত্র জানায়, সরকারের অংশ হয়েও গত সাড়ে ৪ বছরে ক্ষমতার সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার কারণে মহাজোটের প্রতি নাখোশ এরশাদ। বিশেষ দলের নেতারা আরো বেশি এগিয়ে এক্ষেত্রে। যেকারণে সরকার গঠনের পর থেকেই দলের বেশিরভাগ নেতাই পার্টির চেয়ারম্যানকে মহাজোটের সঙ্গ ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

কিন্তু ক্ষমতালোভী এরশাদ ক্ষমতা পাওয়ার আশাতে অনেক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। অবশেষে কিছু না পেয়ে তিনি আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের সঙ্গ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর সরকারের শেষ সময়ে এখন ঝোপ বুঝে কোপ মারার জন্য ১৮ দলীয় জোটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। বিশেষ করে জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে চলছে এরশাদের নিবিড় যোগাযোগ।

ইতিমধ্যে জাপার সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ দূত হয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ নিয়ে পার্টির মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে আগামী নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে না পারলে সে ক্ষেত্রে এরশাদের সহায়তা চাইবে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনে বিএনপি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দিয়ে সরকার গঠন করাতে আহ্বান জানাবে।

এজন্য আগামী নির্বাচনে এরশাদ তার দলের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে হেফাজত ইসলাম চরমোনাই শরসিনাসহ অন্যান্য ইসলামিক ছোট দলগুলো নিয়ে পৃথক নির্বাচনী জোট করারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির সূত্রগুলো বলেছে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচনী জোট করে যেসব আসনে বিএনপির পার্থী দুর্বল থাকবে সেসব আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দিবে ১৮ দলীয় জোট।

আবার জাতীয় পার্টির যেসব আসনে প্রার্থীর দুর্বল থাকবে সেসব আসনে ১৮ দলীয় জোটকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সমর্থন দিবে। বৃহত্তর রংপুরের ২২টি আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিলে ১৮ দলীয় জোট জাপাকে সমর্থন দিবে। ইতিমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে ১৮ দলীয় জোটের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে জাপার শীর্ষ নেতাদের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে ।

এ প্রসঙ্গে জাপার একজন সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য পার্টিতে কোনঠাসা এবং বহিষ্কার হবার ভয়ে নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, পার্টির একাধিক প্রেসিডিয়াম বৈঠকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, মহাজোট সরকারের অন্যতম শরিক দল হয়েও তার হাত পাও বাধা রয়েছে। এ কারণে এই মুর্হূতে মহাজোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। কারণ তার বিরুদ্ধে এখনও কয়েকটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। এই মুর্হূতে মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসলে এরশাদ সাহেবের জামিন বাতিল হতে পারে। এই বয়সে জেলে যাওয়ার ভয়ে বিভিন্ন কৌশল নিয়ে সামনের দিকে এগুচ্ছেন তিনি।

এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে বলেন ‘আমি আপনার পাশে আছি’। অপরদিকে ভোট কৌশলের জন্য ইসলামিক দলগুলোকেও বলছে ‘জাতীয় পার্টি আপনাদের পাশে আছে’। ওই নেতার মতে পার্টির চেয়ারম্যানের এই দ্বিমুখী নীতির কারণে জনগণসহ পার্টির নেতা-কর্মীরা আস্থা রাখতে পারছেন না।

অপরদিকে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশ্বস্থ সহচর জিয়াউদ্দিন বাবলু জানায়, ক্ষমতায় যেতে কে না চায়। জাতীয় পার্টিও ক্ষমতায় যেতে সুযোগ পেলে যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে। ক্ষমতায় যেতে হলে এবং রাজনীতি করতে অনেক কথাই বলতে হয়। সেজন্য হয়তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন ‘আপনার উন্নয়নশীল কার্যক্রমে আমি আপনার পাশে আছি’। আবার হেফাজতকেও বলেছে ‘জাতীয় পার্টি হেফজতের পাশে আছে এবং থাকবে।’ মূলত পার্টির চেয়ারম্যানের মনের কথা হচ্ছে যে কোনো কৌশলে ক্ষমতায় যেতে হবে।

এরশাদের অপর এক উপদেষ্টা এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জানান, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করতে হবে। তবে এতটুকু বলতে পারি আমরা বর্তমান সরকারের সঙ্গে আছি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেই। এমনকি হেফাজতের ১৩ দফার সঙ্গে আমরা আছি।

শেয়ার করুন