দুর্গত মানুষের পাশে

0
114
Print Friendly, PDF & Email

হানিফ সংকেত
বাংলাদেশের যেকোনো দুর্যোগ দেখলে আমাদের খারাপ লাগে। আমরা যা করি, সেটা নিজেদের দায়বোধ থেকেই করি। আমাদের নিজেদের অতটা সাধ্য বা সামর্থ্য নেই, তার পরও ব্যক্তিগত কিংবা সমষ্টিগতভাবে চেষ্টা করি। আমি একটি মাত্র টিভি অনুষ্ঠান করে থাকি। আর ব্যক্তি হিসেবে আমি একা চাইলেও, অনেক কিছু করতে পারিনি। তার পরও যতটুকু পারা যায়, নিজের দায়বোধ থেকে, অনুভূতি থেকে বিভিন্ন দুর্যোগ কিংবা বড় ধরনের সমস্যায় সহমর্মিতা জানানোর জন্য যতটুকু পারা যায় ততটুকু দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তবে বিষয়টা কখনোই জানানোর চেষ্টা করিনি।
১৯৯৮ সালে বন্যার সময় আমরা একটি দল নিয়ে মানিকগঞ্জে ত্রাণ দিয়েছিলাম। নিজেদের পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও সাহায্য নিয়ে সে সময় বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এ কাজগুলো অনেক বেশি আনন্দের।
কিছুদিন আগে সাভারের রানা প্লাজার ঘটনাটাও আমাকে অনেক বেশি মর্মাহত করেছে। ঘটনার তৃতীয় দিন কয়েকজন অভিনয়শিল্পী, সহকর্মী ও ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানের কয়েকজনসহ সাভারে যাই। সেখানে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে অনেকক্ষণ সময় কাটাই। এ ছাড়া অন্যভাবেও সাভার ট্র্যাজেডিতে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

জাহিদ হাসান সমাজের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে অর্থ দিয়ে হোক, রক্ত দিয়ে হোক কিংবা তাঁদের সঙ্গে সহমর্মিতা জানিয়ে হোক সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করি। তবে এ বিষয়গুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করতে কখনোই ভালো লাগে না। নিজ অবস্থান থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।
১৯৮৪-৮৫ সালের দিকে আমি সিরাজগঞ্জে থাকি। বন্যায় সেবার সিরাজগঞ্জে অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা বন্ধুবান্ধ মিলে উদ্যোগী হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ঠিক করে দিই।
২১ আগস্ট যখন ঢাকায় গ্রেনেড হামলা হয়, তখনো আমি ঢাকা মেডিকেলে চলে যাই। তখন প্রচুর রক্তের দরকার পড়ে।
সাভার ট্র্যাজেডির দিন আমি সিরাজগঞ্জে নাটকের শুটিং করে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকায় ফিরেছি। ঢাকায় ফেরার পথেই সাভার ঘটনার অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। বাসায় ঢুকে আবার বের হওয়ার সময় মৌ জিজ্ঞেস করল, ‘কোথায় যাও, খাওয়াদাওয়া করবে না?’ তাকে বললাম, সাভারের আহতদের চিকিৎসার জন্য রক্ত দিতে পিজি হাসপাতালে যাচ্ছি।
হাসপাতালে গিয়ে দেখি অনেক ভিড়। রক্ত দিয়ে বাসায় ফিরতে রাত সাড়ে ১১টা বেজে যায়। শুধু দুর্যোগ কিংবা অন্য কোনো ঘটনার সময় নয়, কারও রক্তের দরকার পড়েছে জানলে ব্যক্তিগতভাবেও আমি নীরবে গিয়ে রক্ত দিয়ে আসার চেষ্টা করি। এটা আমার কাছে অনেক বেশি আনন্দের, অনেক বেশি তৃপ্তির। এসব আসলে কখনোই কাউকে জানাতে চাইনি।

শেয়ার করুন