এখনও লেখা শেষ হয়নি একাদশ শ্রেণীর বই

0
214
Print Friendly, PDF & Email

শুধু ভর্তি নয়, নতুন বই নিয়েও দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছুদের৷ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণরা নতুন কারিকুলামের পাঠ্যবই পড়বে৷ আর এই বই রচিত হবে নয়া শিক্ষানীতি অনুযায়ী৷ কিন্তু নতুন বইয়ের খবর হচ্ছে- তা এখন পর্যন্ত লেখাই শেষ হয়নি৷ জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) সোমবার পর্যন্ত বইয়ের খসড়া পাণ্ডুলিপি জমা পড়েছে৷ এখন তা মূল্যায়নসহ ৭-৮টি ধাপ পেরিয়ে ছাপানোর অনুমোদন মিলবে৷
উচ্চ মাধ্যমিকের বইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুরবস্থায় রয়েছে বাংলা ও ইংরেজি বিষয় দুটি৷ মোট ৩৫টি বইয়ের মধ্যে এ দুটি সরকার বা এনসিটিবি ছাপে৷ বাকিগুলো বেসরকারিভাবে অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার ছাপানোর অনুমোদন দেয়৷ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাধীন ওই বই দুটি কারা লিখবেন- সে সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়নি৷ এ অবস্থায় কবে লেখক প্যানেল ঠিক হবে আর তারা বই লিখে সম্পাদনা শেষে জমা দেবেন এবং কারিগরি কাজ শেষে ওই বই আলোর মুখ দেখবে- এ নিয়ে ঘোরতর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে৷
দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পাঠ্যবই নিয়ে এই অনিশ্চয়তার জন্য মন্ত্রণালয় এবং এনসিটিবির একটি সংঘবদ্ধ চক্র দায়ী৷ প্রায় ৫ মাস আগে বইয়ের কারিকুলাম লেখা হলেও তা রহস্যজনক কারণে ফাইলবন্দি করে রাখা হয়৷ বিলম্বে তা অনুমোদন দেয়ার কারণে পাণ্ডুলিপি আহ্বানও পিছিয়ে যায়৷
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাংলা-ইংরেজি বই লেখার কাজ পিছিয়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে এনসিটিবিতে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি৷ অভিযোগ রয়েছে, সরকারের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজের পছন্দের লোককে এনসিটিবির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের জন্য গোটা প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে দেন৷ পাঠ্যপুস্তকে ইসলামবিরোধী ও যৌনতানির্ভর তথ্য সনি্নবেশিত হওয়ার দায়ে প্রকাশ্যে দুই মন্ত্রী বিদায়ী চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তফা কামালউদ্দিনের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়ার ঘোষণা দেন৷ কিন্তু এরপরও তাকে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয় ফাইল পাঠায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে৷ ফলে তা নাকচ হয়ে নতুন প্রস্তাব যাওয়াসহ গোটা প্রক্রিয়ায় ১ মাসেরও বেশি দিন সময় নেয়৷ এ সময়কালে ওই পদ শূন্য ছিল৷ বৃহস্পতিবার নতুন চেয়ারম্যান যোগদানের পর তড়িঘড়ি করে ফাইল তৈরি করা হয়৷ তা এখনও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি বলে জানা গেছে৷
জানতে চাইলে এনসিটিবির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিকুর রহমান বলেন, ১ জুলাই ক্লাস শুরু হবে নতুন ব্যাচের৷ তা এখনও ৫০ দিনেরও বেশি দূরে৷ তার আগে সব বই বাজারে যাবে৷ এ নিয়ে কোন সংকট হবে না বলে তিনি জানান৷ একপ্রশ্নের জবাবে বলেন, দু’দিন আগে তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন৷ এ কারণে নতুন বইয়ের পরিস্থিতি বিস্তারিত তার জানা নেই৷ উল্লেখ্য, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পাস করেছে ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৮ জন৷ কারিকুলাম বগলদাবা : নতুন বইয়ের কারিকুলাম প্রণয়ন শেষ হয় গত বছরের ২১ নভেম্বর৷ কিন্তু তা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি৷ তিন মাসেরও বেশি সময় কারিকুলাম ছিল বগলদাবা৷ আবার অনুমোদনের একসপ্তাহ পর ৬ মার্চ বিভিন্ন সংবাদপত্রে নতুন পাঠ্য বইয়ের পাণ্ডুলিপি আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়৷ কারিকুলাম অনুমোদন বিলম্বিত করার পেছনে ‘বই দখলে নেয়া’র একটিমাত্র কারণই বিদ্যমান৷ অর্থাত্‍, কম সময় দিয়ে পাণ্ডুলিপি আহ্বান করা হলে অনেকেই এ সময়ের মধ্যে বই লেখা শেষ করতে পারবেন না৷ ফলে কারিকুলাম প্রণেতাদের মধ্যে বা এনসিটিবির কর্মকর্তাদের মধ্যে অথবা এনসিটিবি থেকে যেসব প্রকাশক ও লেখক গোপনে কারিকুলাম সংগ্রহে নিয়েছেন, কেবল তারাই বই জমা দিতে পারবেন কিংবা বেশি সময় পেয়ে তারা মানের বিচারে ভালো বই রচনা করে অনুমোদন বাগিয়ে নেবেন৷ এভাবে বইয়ের বাজারও দখলে নিতে পারবেন তারা৷
অনুমোদন প্রক্রিয়া : সূত্র জানায়, পাণ্ডুলিপি জমা নেয়ার পর তা এনসিটিবিতে তিন সদস্যের কমিটিতে মূল্যায়ন, এরপর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, প্রকাশকের তা সংশোধন, ফের তা এনসিটিবিতে নিরীক্ষা শেষে ছাপার অনুমতি মিলবে৷ এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে ছাপার সময় কম মিলবে৷
আরও ষড়যন্ত্র : অভিযোগ উঠেছে, এনসিটিবির একটি চক্র বিষয়প্রতি ৩ থেকে ৫টি করে বই অনুমোদন দেয়ার পাঁয়তারা করছে৷ কিন্তু এটি করা হলে শিক্ষাথর্ীরা ‘মনোপলি’ (একচেটিয়া) ব্যবসার শিকার হবেন৷ এছাড়া সিন্ডিকেটের বই অনুমোদন পাওয়ার আশংকাও করছেন অনেকে৷ তাই লেখক-প্রকাশকরা তাদের বই অনুমোদন পাবে কিনা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন৷ তারা মানসম্মত সব বই অনুমোদন দেয়ার দাবি করেছেন৷
নতুন বইগুলো : নতুন শিক্ষানীতির আলোকে এবার সরকার উচ্চ মাধ্যমিকে মোট ৩৫টি বই প্রবর্তন করার চিন্তাভাবনা করছে৷ এর মধ্যে দুটি একেবারেই নতুন পাঠ্য হবে৷ ওই দুটি হচ্ছে- টু্যরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি এবং ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা৷ সিলেবাস থেকে বাদ দেয়া সাচিবিক বিদ্যা ফিরিয়ে আনা হয়েছে৷ বাকি বিষয়গুলোর মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি চারটি পত্র৷ এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, পরিসংখ্যান, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, অর্থনীতি, যুক্তিবিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, ভূগোল, ইসলাম শিক্ষা, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, উত্‍পাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন, শিশুর বিকাশ, খাদ্য ও পুষ্টি, গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন, লঘু সঙ্গীত, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত, কৃষি শিক্ষা, মনোবিজ্ঞান, গার্হস্থ্যবিজ্ঞান, শিল্পকলা ও বস্ত্র পরিচ্ছদ৷ প্রত্যেকটি বিষয়ের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর জন্য যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র থাকবে৷

শেয়ার করুন