সৌরবিদ্যুতের আলোয় কোটি মানুষ

0
97
Print Friendly, PDF & Email

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর রাতের আঁধার আলোঝলমলে হয়ে উঠছে সূর্যালোক থেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংগৃহীত সৌরবিদ্যুতে। ইতিমধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আওতায় এসেছে সৌরবিদ্যুতের প্যানেলের (সোলার হোম সিস্টেম) মাধ্যমে।
শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে। এখন প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি বাড়িতে স্থাপিত হচ্ছে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল। ২০ লাখ প্যানেল স্থাপনের মাইলফলক ছোঁয়া হয়ে গেছে কয়েক দিন আগেই। সে উপলক্ষে গতকাল রোববার যখন এক উদ্যাপন অনুষ্ঠান চলছিল, তখন স্থাপিত প্যানেলের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২২ লাখ।
উদ্যাপন অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২২ লাখ প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৯০ মেগাওয়াট। লক্ষ্য ২০১৫ সালের মধ্যে ৪০ লাখ বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন। তখন সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ১৭০ মেগাওয়াট। প্রায় দুই কোটি মানুষ তখন এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা ভোগ করবে। এসব মানুষ এমন প্রত্যন্ত এলাকা, দ্বীপাঞ্চল প্রভৃতি স্থানে বসবাস করে, যেখানে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেই।
গ্রামীণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুতের সুবিধা সম্প্রসারণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) নামের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। দেশের সব উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান পায় ইডকল। সেই অর্থ বিনিয়োগ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের কাজে। মাঠপর্যায়ে এ কাজ করছে ৪৭টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।
শুধু সৌরবিদ্যুৎ নয়, বায়োগ্যাস প্লান্ট এবং উন্নত চুলার ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ইডকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এখন পর্যন্ত স্থাপন করা হয়েছে ২৮ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট। ২০১৬ সালের মধ্যে ১০ লাখ উন্নত চুলা স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে।
এই সাফল্যের স্মারক হিসেবে রূপসী বাংলা হোটেলে গতকালের উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে বিশেষ অবদান রাখবে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালে দারিদ্র্যমুক্ত পরিবেশে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে পারব।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বর্তমান সরকার গ্রামের মানুষের উন্নয়নে বিশেষ আগ্রহী। গ্রামে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ আরও বাড়ানো হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও ইডকলের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক, বিশ্বব্যাংকের এদেশীয় পরিচালক জোহানেস সি এম জাট এবং ইডকলের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ মালিকও বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে ইডকলের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। রূপসী বাংলা হোটেল প্রাঙ্গণে তিন দিনের একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন