তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও জনমত

0
73
Print Friendly, PDF & Email

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১১ মে৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে নওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে কোয়ালিশন সরকার গঠনের পথে রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে৷ পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলা যায়৷ বিশ্ব মিডিয়ার ফোকাস গত প্রায় এক মাস ছিল পাকিস্তানের দিকেই৷ বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, বোমাবাজি, হামলা ও ১১ জনের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলো৷ তবে, তালেবান হামলা বা ব্যাপক হানাহানির যে আশঙ্কা করা হয়েছিল শেষ পর্যন্ত সে রকমটি ঘটেনি৷ ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সবাই৷ এ নির্বাচনে সবচেয়ে উলেস্নখযোগ্য বিষয়টি হলো, নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে৷ ঘাত-সংঘাত ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে৷ এতে একটি বিষয় প্রমাণ হলো যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের ফলে পাকিস্তানে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়নি; বরং বিপন্নপ্রায় গণতন্ত্র রক্ষা পেয়েছে৷ এক্ষেত্রে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়৷ কেননা, তারা নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা দলীয় স্বার্থের প্রশ্নে অটল থেকে পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে রক্ষা করেছেন৷ তারা যদি নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌছাতে ব্যর্থ হতেন, তাহলে সামরিক শাসনের ঐতিহ্যধারী পাকিস্তানের ভাগ্যে কী ঘটত তা অনুমান করা কষ্টকর নয়৷ সে হিসেবে এটা বলা বোধ করি অসঙ্গত নয় যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পাকিস্তানকে সাংবিধানিক সঙ্কট ও দেশটির গণতন্ত্রকে সমূহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে৷

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তক বাংলাদেশ, এটা নিয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়৷ স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে৷ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে তত্‍কালীন বিএনপি সরকার সংসদে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে৷ বলা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ছিল সময়ের দাবি, বিএনপি সে দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়েছে৷ তারপর তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ বিচ্ছিন্ন অভিযোগ ছাড়া ওইসব নির্বাচন মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বলেই বিবেচিত হয়েছে৷ যদিও ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্নই থেকে গেছে৷ তারপরও এটা সবাই ধরেই নিয়েছেন যে, সাংবিধানিকভাবে প্রবর্তিত তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বহাল থাকবে এবং আমাদের গণতন্ত্র একটি শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে যাবে৷

কিন্তু বর্তমান সরকার জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে হতবাক করে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা তুলে দেয়৷ এর পেছনে যে যুক্তিটি তারা দাঁড় করানোর কষ্টকর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে তা কারও কাছেই যুক্তিগ্রাহ্য মনে হচ্ছে না৷ সরকার প্রধান এবং সরকার ও সরকারি দলের অন্য নেতারা ২০০৭ সালের উদাহরণ দিয়ে বলছেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দেশে অসাংবিধানিক সরকার আসার পথ করে দেয়৷ সুতরাং সংবিধান থেকে তা তুলে দিয়ে তারা গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন৷ অথচ নিকট অতীত কিংবা আরও পেছনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সামরিক শাসন কিংবা অসাংবিধানিক সরকার আসার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার লাগে না৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতা দখল করে থাকে৷

প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ সরকারের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত৷ এমনকি আওয়ামী সরকারের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রবর্তনের পক্ষে কথা বলছে৷ কিন্তু সরকার সে দাবির প্রতি কোনো ধরনের নমনীয়তা এখনও প্রদর্শন করেনি৷ বরং রাষ্ট্রযন্ত্রের শক্তিকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের আন্দোলন দমনের নেতিবাচক পথেই হাঁটছে ৷

এদিকে দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহল বলছেন যে, রাজনীতি এখন যে পথ ধরে এগুচ্ছে, যদি তার বাঁক পরিবর্তন না হয় তাহলে শেষ পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা বলা যায় না৷ সংঘাত-সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে তো উঠবেই, গণতন্ত্রও আবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে৷ দেশের বেশিরভাগ মানুষ মনে করছেন যে, সরকার জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতির বিলোপ ঘটিয়েছে৷ বিষয়টি উঠে এসেছে পত্রপত্রিকার সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয়, নিবন্ধ, টিভি চ্যানেলের টকশো, আলোচনা ইত্যাদিতে৷ সরকার সমর্থক ছাড়া প্রায় সবাই এক বাক্যেই বলছেন যে, দেশের শান্তি-শৃক্সখলা, উন্নয়ন-অগ্রগতি অব্যাহত রাখা এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে তত্ত্বাবধাক বা নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পুনঃপ্রবর্তনের ব্যাপারে সরকারের নমনীয় হওয়া দরকার৷ তারা এটাও বলছেন যে, সরকার একই সঙ্গে দুটো ভুল করছে, যার ফলাফল শুভ হবে না৷ প্রথম ভুল জনমত ও বিরোধী দলের মতামতকে উপেক্ষা করে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল করা৷ আর দ্বিতীয় ভুল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে শক্তি দিয়ে দমন করার চেষ্টা৷ এই দুই ভুলের সমষ্টি যে সরকারের জন্য দুর্লক্সেঘয় সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে সেটা তাদের অনুধাবন করতে হবে৷

দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে৷ এটা কারো বানানো তথ্য নয়৷ বিভিন্ন জনমত জরিপে এ অভিমত পাওয়া যাচ্ছে৷ এ বিষয়ে সর্বশেষ যে জরিপ ফলাফলটি জনসমক্ষে এসেছে সেটি প্রকাশ করেছে বর্তমান সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত দৈনিক প্রথম আলো৷ গত ১১ মে পত্রিকাটি লিখেছ্তেএকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে তারা যে জরিপ চালিয়েছে, তাতে নব্বই শতাংশ মানুষ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে চায়৷ দেশের সব বিভাগের ৩০টি জেলার বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের মতামত নেয়া হয়েছে ওই জরিপে৷ এ ধরনের জরিপ প্রতিনিয়তই চলছে৷ অনেক দৈনিক পত্রিকাই এখন বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিদিন অনলাইন জরিপ চালিয়ে থাকে৷ সেসব জরিপেও তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে একই ধরনের ফলাফল আসতে দেখা যায়৷ এখানে সে রকম কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরছি৷

সরকারের চার বছর পূর্তিতে প্রথম আলো যে বিশেষ জরিপ সংখ্যা বের করেছিল তাতে স্থান পেয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্ন৷ সেখানে প্রশ্ন ছিল্ততত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি? উত্তরে ৭৬ শতাংশ মানুষ বলেছে না, আর ২২ শতাংশ বলেছে হ্যাঁ৷ আবার ৫ জানুয়ারি দৈনিক সমকাল যে জরিপ ফলাফল প্রকাশ করেছে তাতে প্রশ্ন ছিল্ততত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি? এ প্রশ্নের জবাবে ৬২ শতাংশ মানুষ বলেছে না, আর ২৬ শতাংশ বলেছে হ্যাঁ৷ গত ২০ মার্চ দৈনিক যুগান্তর যে জরিপ ফলাফল প্রকাশ করেছে তাতে প্রশ্ন ছিল্তবিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সরকারের উদ্দেশে বলেছেন্তনির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পাশ কাটানো যাবে না৷ আপনি কি তার সঙ্গে একমত? এর উত্তরে হ্যাঁ বলেছে, ৭০ দশমিক ৬০ শতাংশ, না বলেছে ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ৷ একই পত্রিকার ২ এপ্রিলের জরিপ ফলাফল ছিল নিম্নরূপ : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেছেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে৷ আপনি কি তা সমর্থন করেন ? উত্তরে ৬৭ দশমিক ৮০ শতাংশ বলেছে হ্যাঁ, ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ বলেছে না, ১২ এপ্রিলের জরিপে প্রশ্ন ছিল্তঅন্তর্বর্তী সরকার তত্ত্বাবধায়কে রূপ নিলে তবেই দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে মনে করছে বিএনপি৷ আপনিও কি তাই মনে করেন্তজবাবে হ্যাঁ বলেছে ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশ আর না বলেছে ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ৷

অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি গত মাসে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের একটি রূপরেখা উপস্থাপন করে দেশব্যাপী আলোড়ন তুলেছিল৷ টিআইবির প্রস্তাবনা নিয়েও পত্রিকাগুলো জনমত জরিপ চালিয়েছে৷ প্রথম আলোর জরিপে প্রশ্ন ছিল্তনির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে টিআইবি’র প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলোর বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে মনে করেন কি? উত্তরে ৮৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ বলেছে হ্যাঁ, আর না বলেছে ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ৷ একই দিনে দৈনিক যুগান্তর যে জরিপ ফলাফল প্রকাশ করেছে তাতেও টিআইবির প্রস্তাবনার পক্ষে মত দিয়েছে ৬৪ দশমিক ৬০ শতাংশ মানুষ৷ অন্যদিকে কালের কন্ঠের প্রশ্ন ছিল্তটিআইবির দেয়া রূপরেখার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন্তএই ফর্মুলায় গণতন্ত্র ব্যাহত হতে পারে, আপনিও কি তাই মনে করেন ? এতে হ্যাঁ বলেছে মাত্র ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, আর না বলেছে ৯৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ মানুষ৷

লক্ষণীয় বিষয় হালো্ততত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে এ পর্যন্ত যতগুলো জরিপ ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ এ পদ্ধতির পুনর্বহাল চায়৷ আর প্রথম আলোর জরিপে তো ৯০ শতাংশই তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে হ্যাঁ বলেছে৷ সুতরাং এটা বলা যায় যে, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে বর্তমান সরকার এখন যে অবস্থানে রয়েছে তা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের চিন্তা-ভাবনা কিংবা প্রত্যাশার বিপরীত৷ বলা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামতকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে সরকার একটি নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে৷ নির্বাচিত এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কোনো রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে এ ধরনের জনমত বিরোধী অবস্থান কাক্সিক্ষত নয়৷

দেশের বেশিরভাগ মানুষের মনে যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো, তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে দেশবাসীর মনোভাব জানা সত্ত্বেও সরকার কেন এ রকম একগুঁয়েমি করছে৷ অনেক চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে আসা রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের তো এটা জানা থাকার কথা যে, জনমতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে ফলাফল ভালো হয় না৷ তাহলে কেন তারা দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে?

রাজনীতি যদি দেশ ও জনগণের জন্য হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তা-ভাবনা, কর্মসূচি ও পদক্ষেপে দেশ ও জনগণের ভালো-মন্দ মত-অমতের বিষয়টি প্রাধান্য পাওয়ার কথা৷ কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কাজকর্মে তার অনুপস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করেছে৷ এটাকে অনেকেই গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত হিসেবে মনে করছেন৷ আমাদের বিক্রমপুর অঞ্চলে একটি প্রবাদ আছ্তে’জেদের ভাত কুত্তায় খায়’৷ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের জেদাজেদিতে ‘গণতন্ত্রের ভাত’ যদি অন্য কোনো পাতে যায় তাহলে সেটা হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক৷ আর সেজন্যই সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছেন, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারের উচিত নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার ব্যাপারে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতায় আসা৷ তবে জনগণের সে প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হবে তাও নির্ভর করছে সরকারের মর্জির ওপর৷

শেয়ার করুন