রাজধানীজুড়ে হরতালবিরোধী মিছিল সমাবেশ : তত্ত্বাবধায়ক হলে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষের সরকার হবে – নাসিম

0
78
Print Friendly, PDF & Email

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বাংলাদেশে নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলে তা বিএনপি-জামায়াতের পক্ষের সরকার হবে। আর তার অধীনে নির্বাচনও পক্ষপাতমূলক হবে। আমরা ওই সরকার কোনো দিন মেনে নিতে পারি না।
গতকাল রাজধানীতে হরতালবিরোধী সমাবেশে তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, সরকারকে ফাঁকা হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে আলোচনায় আসতে হবে। এর বাইরে কোনো আলোচনা নয়।
রাজধানীতে সমাবেশ, মানববন্ধন, মিছিল করে জামায়াতের হরতালের প্রতিবাদ জানিয়েছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন। শহীদ নূর হোসেন স্কয়ারে কৃষক লীগ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে নাসিম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা আপনি হতাশ, বিক্ষুব্ধ হয়েছেন, যে আপনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। খালেদা জিয়া লাশ খুঁজতে খুঁজতে আগামী নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তার দল বিএনপিই একটা লাশ হয়ে যাবে।
বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আলোচনার টেবিলে বসুন, আলোচনার টেবিলে বসে আপনাদের কী দাবি ও কী সংশয় আমাদর কাছে উপস্থাপন করুন। ঢাকার বুকে সমাবেশ ডেকে বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কাউকে আর নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না।
এর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২২টি সংগঠন। মানববন্ধন শেষে হরতালবিরোধী মিছিল বের হয়। দুপুরে মতিঝিল থেকে হরতালের বিরুদ্ধে মিছিল বের করে শ্রমিক লীগ। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
এদের ক্ষমা নেই : মহানগর যুবলীগ (দক্ষিণ) আয়োজিত হরতাল বিরোধী সমাবেশে অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সমাবেশ ও হরতালের নামে সহিংসতা করলে সেটা প্রতিরোধ করতেই হবে। এদের ক্ষমা নেই।
যুবলীগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজির রাস্তা থেকে সরে আসুন। প্রয়োজনে নিজেদের টাকা দিয়ে সংগঠন পরিচালনা করুন। আমার উপদেশ ভালো না লাগলে বয়সের গুণে ক্ষমা করে দেবেন।
সমাবেশে তিনি যুবলীগকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাস দিয়ে সন্ত্রাস দমন করা যায় না। শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতিরোধে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। যুব সমাজের প্রতি পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে হবে।
হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা করে মুহিত বলেন, আমরা এই হেফাজতে ইসলাম চাই না। এ হেফাজতে ইসলাম হলো বরবাদে ইসলাম।
তিনি বলেন, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ আর শাপলা চত্বরের হেফাজতের মঞ্চের মধ্যে পার্থক্য হলো, শাহবাগের মঞ্চ শান্তিপ্রিয় আর হেফাজতের মঞ্চ সহিংস। প্রতিবাদ সহিংস হলে সেই প্রতিবাদের পাত্তা দেয়ার প্রয়োজন নেই। সেই প্রতিবাদ দমন করা আমাদের দায়িত্ব।
অর্থমন্ত্রী বলেন, হরতাল করার সমাবেশ করার সুযোগ দেব। কিন্তু হরতাল সমাবেশের নামে বাস পোড়ালে, সহিংসতা করলে, গুপ্ত হত্যা করলে তাকে প্রতিরোধ করতেই হবে। এদের ক্ষমা নেই।
প্রতিবাদ সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে মানুষ হত্যা করছে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, যুবলীগ তাদের রুখে দাঁড়ালে পালানোর পথ পাবে না।
সরকারের মেয়াদেই রায় কার্যকর : ক্যাপ্টেন তাজ : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবিএম তাজুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকার সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে চারটা রায় দিতে সক্ষম হয়েছে এবং এ সরকারের মেয়াদেই তা কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, ৫ মে যারা কোরআন পুড়িয়েছে তাদের বিচারের জন্য তদন্ত চলছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচার হবে।

শেয়ার করুন