বাংলাদেশের মিডিয়া নীরব : আরও রক্তপাত ঘটবে

0
68
Print Friendly, PDF & Email

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ৬ মে ভোররাতের হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যার মতোই মনে হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদপত্র ইকোনমিস্ট। এ ব্যাপারে দেশের গণমাধ্যমগুলো নীরব রয়েছে বলে মন্তব্য করে পত্রিকাটি বলছে, সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশে আরও রক্তপাত ঘটবে। ‘পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স ইন বাংলাদেশ, ইন হট ব্লাড’ শিরোনামে আজ শনিবারের প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। শুক্রবারই রিপোর্টটি অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অবস্থাটা যেন এমন যে, রানা প্লাজায় ভবন ধসে ৯০০ মানুষের (প্রকৃতপক্ষে শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত ১০৩৮ জনের) মৃত্যুও যথেষ্ট ছিল না। তাই বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় আবারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ৬ মে ভোরবেলা এবং তার পরে ঢাকায় যা ঘটেছে তা গণহত্যা (ম্যাসাকার) বলেই মনে হচ্ছে।
ইউরোপিয়ান কূটনীতিকরা বলছেন, ঢাকায় কট্টর ইসলামপন্থী হেফাজতে ইসলামের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন অভিযানে প্রায় ৫০ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দেশের অন্যত্র আরও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। খ্যাতনামা মানবাধিকার সংস্থা অধিকার বলছে, ১০ হাজার পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারী সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞে শত শত লোক নিহত হয়েছেন। ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকার রাস্তায় যত্রতত্র পড়ে ছিল লাশ। ঢাকার বাইরেও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে নিহত হয়েছেন ২০ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শাপলা চত্বরে আসলেই কি হয়েছে তা অস্পষ্ট। ভীত-সন্ত্রস্ত স্থানীয় মিডিয়াকে নীরব রাখা হয়েছে। গুলি শুরুর আগে পুলিশ বাণিজ্যিক এলাকার বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ করে দেয়।
কিছুদিন আগেও স্বল্প পরিচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার কর্মী গত এপ্রিলে ঢাকায় লংমার্চ করে। যেখানে তারা ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করে তা পূরণের জন্য সময় বেঁধে দেয়। যেসব দাবির মধ্যে ইসলাম অবমাননার জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ব্লাসফেমি আইন প্রণয়নের কথাও রয়েছে। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে নারী উন্নয়ন নীতি বাতিল করা এবং প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা বন্ধ করা।
এসব দাবি বাংলাদেশের বেশিরভাগ উদারপন্থী মুসলিম এবং প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর বিপক্ষে যায়। যদিও বিএনপি হেফাজতকে সমর্থন দিয়েছে। বিএনপির ইসলামঘেঁষা নীতি স্পষ্ট হয়েছে। বিএনপির শরিক জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে সৌদি আরবের আদলে ইসলামী শাসন চায়। এপ্রিলে খালেদা জিয়া আরব কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটাকে বিএনপির প্রতি এসব দেশের সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আওয়ামী লীগকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে মনে করা হলেও নির্বাচনের আগে দলটি ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়ে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ খেলাফতে মজলিস নামের একটি কট্টর ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্য করেছিল। তবে তখন নির্বাচন বাতিল হওয়ায় ওই চুক্তির পরিণতি দেখা যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নির্বাচন, যেটি ২০১৪ সালের জানুয়ারি মধ্যে অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে, সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সতর্কতার সঙ্গে ইসলামপন্থী সাজার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে চার (নাস্তিক) ব্লগারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হেফাজতে ইসলামের আমিরকে গ্রেফতার না করে বিমানে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
ইকোনমিস্ট বলছে, সামনের দিনগুলো হবে আরও কঠিন। যুদ্ধাপরাধ মামলায় রায় দেয়া অব্যাহত থাকবে। অভিযুক্তদের সবাই জামায়াতের নেতা। ফেব্রুয়ারিতে একটি রায়ের পর (মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী) সহিংসতায় অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জামায়াত নেতা মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের জন্য আরও রক্তপাত অপেক্ষা করছে।

শেয়ার করুন