নেতাদের আটক রাখলে সংলাপ হবে কীভাবে: বিএনপি

0
115
Print Friendly, PDF & Email

শনিবার সকালে শেখ হাসিনার আহ্বানের পর দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান এই কারণ দেখান।

তিনি বলেন, “আমরা সংলাপের বিপক্ষে নই, সংলাপের পক্ষে। এ জন্য পরিবেশ থাকতে হবে। নেতাদের আটক রেখে সংলাপ হবে কীভাবে?

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, পরিবেশ ঠিক করে আপনি সংলাপের কথা বলুন। আমাদের আপত্তি থাকবে না। কীসের জন্য সংলাপ যাবো, তা স্পষ্ট করে বলুন।”

নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দাবি করে আসা বিএনপিকে গত ২ মে সংলাপের আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এর প্রতিক্রিয়ায় ৪ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দেন, তবে তা প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ।

এরপর শেখ হাসিনা শনিবার বলেন, সংলাপে বসতে এখনো প্রস্তুত তার দল।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “আমাদের নেত্রী (খালেদা জিয়া) তার বাসায় প্রধানমন্ত্রীকে চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন। এরকম আমন্ত্রণ এই শতাব্দিতে নজিরবিহীন।”

 “প্রধানমন্ত্রী সংলাপের কথা বলছেন। কোথায় কীভাবে সংলাপ হবে, জানাতে হবে। বিয়ের দাওয়াতে যাবো, পথে যদি চোর-ডাকাত থাকে, তাহলে তো সব কিছু নিয়ে যাবে। তাই আগে পরিবেশ তৈরি করতে হবে।”

“দলের নেতারা সব কারাগারে। সভা-সমাবেশের কোনো অধিকার নেই। কথা বলার অধিকার নেই। এরকম অবস্থায় সংলাপ হবে কীভাবে,” সরকারকে প্রশ্ন করেন বিএনপি নেতা।

সংলাপের এই আলোচনার মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন।

এর মধ্যে রয়েছেন মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল্লাহ আল নোমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, বরকতউল্লাহ বুলু, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।

তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এখনো কারাবন্দি।

এছাড়া সাদেক হোসেন খোকা, এম কে আনোয়ারকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ।  

শামসুজ্জামান বলেন, “সরকার নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। আমরা শুনতে পেরেছি, তাদেরকে (খোকা, এম কে আনোয়ার) ৫ মে’র ঘটনায় সঙ্গে জড়িত করা হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে ১৫, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি আজিজুল বারী হেলালের বিরুদ্ধে ১২টি, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে ১৫টি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর বিরুদ্ধে ১২টি, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরবের বিরুদ্ধে ১২টি, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের বিরুদ্ধে ১৫টি, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিবের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা করেছে পুলিশ।

তাণ্ডবের পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিএনপি নেতাদের দায়ী করে পরিবেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে শামসুজ্জামান বলেন, “মন্ত্রীরা এসব মিথ্যাচার করে দেশকে সংঘাতের দিকে উস্কে দিচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন।”

সোমবার নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে কোনো ধরনের বাধা না দিতে সরকারকে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

“হস্তক্ষেপ করলে এর পরিণতি শুভ হবে না। আমরা কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো,” বলেন শামসুজ্জামান।

নয়া পল্টনে ১৮ দলের সোমবারের সমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার কথা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর একথা জানানো হয়।

শেয়ার করুন