স্কুল ছাত্র রাজন বাদামের ফেরিওয়ালা…

0
88
Print Friendly, PDF & Email

 

বাবার সংসারে ঠাঁই হয়নিমা আর ছোট ভাইকে নিয়েই রাজনের(১২) সংসারতার পরও থেমে থাকেনি পড়া লেখাসংসার আর পড়ালেখার খরচ যোগাতে এক বেলা বাদাম বিক্রি করতে হয় রাজনকেএভাবে চলছে রাজনের জীবন…

 

রাজনের বাবার নাম তফিজ সরদারপেশায় কুলিনাটোরের গুরুদাসপুর পৌর শহরের খলিফাপাড়া মহল্লায়  তাদের বাসএক খন্ড ভিটেমাটিতে দুইটি টিনের ছাপড়া ঘরে তারা থাকেরাজন যখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রতখন বাবা তফিজ দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা সংসার শুরু করেবিপাকে পড়েন রাজনের মা রেজেনা খাতুনকারণ, রেজেনার কোলে আরেক শিশু রাহুল (৪)

 

রাজন জানায়,- সে আনন্দ নগর সরকারি প্রাথমিক স্কুলের চতুর্থ শ্রেনিতে পড়েসংসার আর পড়ার খরচ চালাতে শুক্রবারসহ শনিবার ও মঙ্গলবার শহরের চাঁচকৈড় বাজারে ফেরি করে বাদাম বিক্রি করেঅন্যদিনে এক বেলা স্কুল আরেক বেলায় বাদাম বিক্রি করে থাকেবাদাম বিক্রি করে প্রতিদিন ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা আয় হয়ওই টাকা মায়ের হাতে তুলে দেয় রাজনতবে ছোট ভাই রাহুল নিয়মিত স্কুলে যায়সে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে

 

রাজন জানায়,- তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সংসারে অভাব শুরু হয়কারনে অকারনে মায়ের সাথে বাবার ঝগড়া হতোসেই সাথে মারধরনিরুপায় হয়ে তার মা বাবার সংসার ছাড়েএখন স্কুলের অদুরে সড়কের পাশে এক আত্মীয়ের জায়গায় একটি টিনের ছাপড়া তুলে দুই ভাই ও মা কষ্টে থাকেসংসার চালাতে মা রেজেনা খাতুন মাঠে দিন মজুরির কাজ করেরাজন বলে,- দুই ভাই পড়ালেখা শিখে মায়ের কষ্ট লাঘব করবে

 

রাজনের স্কুলের প্রধান শিক মো. আফতাব উদ্দিন জানান,- রাজন অনিয়মিত হলেও পড়ালেখায় ভালতার ছোট ভাই রাহুলও মেধাবীস্কুলের পথেকে তাদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়তবে সুযোগ পেলে তার পড়ালেখায় আরো ভাল করতে পারবে

 

শেয়ার করুন