বায়ার্নে চূর্ণ বার্সা

0
106
Print Friendly, PDF & Email

২০১০ সালের জুলাইয়ে কেপটাউনে যখন উল্লাসে মাতোয়ারা মুলাররা, লিওনেল মেসি তখন কী করছিলেন? সেই দৃশ্যটাই গত পরশু ফিরে এল মিউনিখেহাঁটুতে ভর দিয়ে উবু হয়ে আছেন লিওনেল মেসিসেই ৪-০’-সেবার মেসির আর্জেন্টিনাকে জার্মানি ছিটকে দিয়েছিল বিশ্বকাপ থেকেএবার মুলারের বায়ার্ন মিউনিখ বিদায়ের দুয়ার দেখিয়ে দিল বার্সেলোনাকেদুটি গোল করে এবং একটি করিয়ে নায়ক সেই মুলার
ফিরতি লেগের ৯০ মিনিট এখনো আছেএসি মিলানের বিপক্ষে বার্সার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিও টাটকাকিন্তু অলৌকিকব্যাপারটা পাইকারি বাজারে হররোজ মেলে নাসেমিফাইনাল থেকে কার্যত বিদায়ই নিয়ে নিল বার্সাযে পেপ গার্দিওলার হাত ধরে নবযুগের এক যাত্রা শুরু হয়েছিল, চার বছর পর গার্দিওলার ভবিষ্য দলের হাতেই যেন সমাপ্তি ঘটল সেই বৃত্তেরবার্সার দায়িত্ব নিয়ে তাঁর প্রথম মৌসুমে গার্দিওলা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে বায়ার্নকে নিজেদের মাঠেই ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিলেনসেটির পুনরাবৃত্তিই কেবল পারে বার্সাকে বাঁচাতেসম্ভব? জাভি-পিকেরাই যে তা বিশ্বাস করেন না!
ম্যাচটা দেখে থাকলে একটা সংশয় হয়তো আপনার মনেও খেলা করেছেআসলে কতজন নিয়ে খেলেছে বায়ার্ন মিউনিখ? মাঠে তো শুধুই লাল জার্সি! যেন ১১ জনের বদলে বায়ার্নের হয়ে খেলছে ১৫ জন! বিদায়ী কোচ ইয়ুপ হেইঙ্কেসের সার্থকতা এখানেইতিনি জানতেন, বার্সাকে বধ করার সরল মন্ত্র দুটিগতি এবং শূন্যে খেলাবায়ার্ন এতটাই গতিশীল ছিল যে রক্ষণ-মাঝমাঠ কি আক্রমণ, সব খানে তাদেরই খেলোয়াড়বার্সার আসল যে শক্তি তাদের মাঝমাঠ, বাস্তিল দুর্গের মতো সেটার পতন ঘটালেন বাস্তিয়ান শোয়েনস্টেইগারমেসিকে বলতে গেলে অদৃশ্য করে রাখলেন দান্তেআর বার্সার রক্ষণ? পিকেকে মনে হয়েছে রীতিমতো শিক্ষানবিশ! গোলরক্ষক ভিক্টর ভালদেসও বুঝিয়ে দিলেন, তিনি চলে যাচ্ছেন বলে বার্সেলোনার হাহাকার করার কিছু নেই
শূন্যে বার্সার চিরায়ত দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে হলে চাই সেট পিসপ্রথমার্ধেই বায়ার্ন পেল আটটি কর্নারএর ৬ নম্বরটা থেকেই গোল২৫ মিনিটের এই গোলই প্রথমার্ধকে বার্সার নাগালের মধ্যেই রাখলদ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটের মাথায় আবার কর্নার থেকে গোলমারিও গোমেজ হয়তো অফসাইডে ছিলেনসেটা ধরতে না পারা লাইন্সম্যানের যতটা ব্যর্থতা, বার্সা রক্ষণ এবং গোলরক্ষক ভালদেস যেভাবে গোলটা হতে দিলেন; সেটা আরও বড় ব্যর্থতা
৭৩ মিনিটে আরিয়েন রোবেনের গোলটাও বিতর্কিতরোবেনের পিছু ধাওয়া করা জর্ডি আলবাকে যেভাবে মুলার শরীর দিয়ে আটকে ফেলে দিয়েছেন, সেটা ফুটবলীয় নীতির মধ্যে পড়ে নাকিন্তু সেই মুলারই হ্যামস্ট্রিংয়ে টান নিয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে যেতেও থেকে গিয়ে ৮২ মিনিটে কফিনে ঠুকেছেন শেষ পেরেকম্যাচটা যখন ৪-০ হয়ে যায়, তখন বিতর্কিত গোলশব্দবন্ধটাকেই বড্ড খেলো লাগেতা ছাড়া ভুলের দাক্ষিণ্য তো শুধু বায়ার্নই পায়নি, বক্সের মধ্যে পিকের হ্যান্ডবল চোখ এড়িয়ে গেছে রেফারির
বায়ার্নের জন্য স্বপ্নের এক রাতে বার্সেলোনা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর একসময় শেষ বাঁশি বাজলরোবেন-রিবেরিদের বাঁধভাঙা উল্লাসটাই বলে দিল, উল্লাস ম্যাচ জয়ের নয়, টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পৌঁছানোর! এএফপি, রয়টার্স

 

(২৫ এপ্রিল/২০১৩) নিউজরুম.

 

শেয়ার করুন