৪০তম জন্মদিনে উদার হলেন শচীন

0
72
Print Friendly, PDF & Email

তাঁর একান্ত ইন্টারভিউ পাওয়া আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতোই৪০তম জন্মদিনে বেশ উদার হলেন শচীন টেন্ডুলকারদীর্ঘ এক সাক্ষাকার দিয়েছেন ভারতের দুটি দৈনিক পত্রিকাকেসেই দুই সাক্ষাকারের চুম্বক অংশ
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে সতীর্থদের কাছে নিজেকে কীভাবে দেখেন, একজন সিনিয়র নাকি সতীর্থ?l
শচীন টেন্ডুলকার: আমি সিনিয়র অবশ্যই, আবার ওদের সতীর্থওদলকে ঘিরেই সব সময় সবকিছুআমি সব সময়ই ভালো একজন মানুষ হতে চাইসিনিয়র শুধু অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার ক্ষেত্রেসেটাই আমার কাজ, দল ও সতীর্থদের প্রতি দায়িত্বওদের সঙ্গে মিশে নিজেকেও আমার তরুণ মনে হয়
 দীর্ঘ এই পথচলায় ড্রেসিংরুমের আবহ কতটা বদলেছে?l
টেন্ডুলকার: খুব বেশি নয়ড্রেসিংরুমে সবাই দুষ্টুমি করতে পছন্দ করে, সেটা চলছেইবয়সের ব্যবধানটা এখন ভিন্ন, কিন্তু তরুণ হলেও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ দারুণচমকার রসবোধের তরুণেরা আছেএই হালকা মুহূর্তগুলোই দলকে চাঙা রাখেমাঠেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে
 অন্য সিনিয়রদের অবসরের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিয়েছেন?l
টেন্ডুলকার: এত দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলেছি, ওদের অভাব তো অনুভূত হয়ইওদের জায়গায় তরুণ প্রজন্ম এসেছে ড্রেসিংরুমেসৌভাগ্যক্রমে এই তরুণরা আগেই ওয়ানডে খেলেছে, ওদের আগে থেকেই জানতামটেস্ট স্কোয়াডের অংশ হওয়ার আগে থেকেই আমরা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছিওরা আমার কাছে নতুন নয়তার পরও অনিল, সৌরভ, রাহুল, লক্ষ্মণদের মতো গ্রেটদের আমি মিস করি
 গত এক দশক মতো সময়ে ব্যাটিং কতটা বদলে গেছে?l
টেন্ডুলকার: স্ট্রোক খেলায় উন্নতি হয়েছেটি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারদের মানসিকতা বদলে দিয়েছেব্যাটসম্যানরা এখন অনেক ঝুঁকি নিয়ে খেলে, চাপে পড়লেই নানা ধরনের শট খেলার চেষ্টা করেএটাই টি-টোয়েন্টির প্রভাবনানা ধরনের শট অনুশীলনের সুযোগ করে দিয়েছে টি-টোয়েন্টিমাঝেমধ্যে এসব আলগা শট মনে হতে পারে, কিন্তু দারুণ কার্যকরও
 এসব কি ব্যাটিং টেকনিকে প্রভাব ফেলে না?l
টেন্ডুলকার: টেকনিক তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণতবে টেকনিকের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সমন্বয়টাই কাউকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়
 আপনি কি মনে করেন না, সংক্ষিপ্ত সংস্করণের আগ্রাসন থেকে টেস্ট ক্রিকেটকে রক্ষা করা প্রয়োজন?l
টেন্ডুলকার: জোর করে কি কাউকে কিছু ভালো লাগানো যায়? এটা ভেতর থেকেই আসেটেস্ট ক্রিকেট খেলায় যার আগ্রহ, সংক্ষিপ্ত সংস্করণে খেলে সে মোটেও তৃপ্তি পাবে নাআমার ধারণা, টেস্ট ক্রিকেট সব সময়ই চূড়ান্ত ব্যাপার হয়ে থাকবেক্রিকেটের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সংস্করণ এটাই
 সাবেক তারকাদের সমালোচনা কি আপনাকে ব্যথিত করে?l
টেন্ডুলকার: লেখাটেখা আমি পড়ি নাকেউ যদি আমার ব্যাটিং নিয়ে, খুঁত শোধরানো নিয়ে বা উন্নতির জন্য সত্যিকার অর্থেই কিছু করতে চায়, তাহলে ফোন করতে পারেপ্রায়ই একই হোটেলে, একই মাঠে আমরা থাকিআমার কাছে এসেও বলতে পারে
 ক্রিকেটার হিসেবে কোন দিকটা নিয়ে এখনো কাজ করতে চান?l
টেন্ডুলকার: ব্যাটিং নিয়ে আমি সব সময়ই কাজ করতে পছন্দ করিবিশেষ কোনো দিক নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু অনুশীলননির্দিষ্ট কোনো উইকেটে খেলা বা নির্দিষ্ট ধরনের বোলিং খেলা, এমন কিছুএভাবেই আমি প্রস্তুতি নিইএই প্রস্তুতি পর্বটা দারুণ এক প্রক্রিয়াএকাগ্র থাকা এবং উন্নতির আকাঙ্ক্ষাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ
 ভারত ছাড়া অন্য কোনো দলের টেস্ট বা ওয়ানডে সর্বশেষ কবে দেখেছেন?l
টেন্ডুলকার: খুব বেশি দেখিনিকোনো দলের বিপক্ষে আমাদের খেলা থাকলে খানিকটা দেখিসর্বশেষ দেখেছি অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওদের সিরিজখুব বেশি নয়, গোটা দুই সেশন
 ক্রিকেট ছাড়ার পর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ছাড়া আর কোন ইচ্ছাটা প্রথমে পূরণ করতে চান?l
টেন্ডুলকার: এসব ভাবিনি১৩ বছর বয়স থেকে নিয়মিত ক্রিকেট খেলছিপরিবার থেকে এত সময় দূরে থেকেছি, ওদেরই সময় দিতে চাইব
 ক্যারিয়ারের স্মরণীয়তম মুহূর্ত?l
টেন্ডুলকার: বিশ্বকাপ জয়ের ধারেকাছেও কিছু নেইমুম্বাইয়ে জয়ের পর সেই মাঠ প্রদক্ষিণই স্মরণীয়তম মুহূর্ত
 সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস?l
টেন্ডুলকার: ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে ১০৩ওটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, পারিপার্শ্বিকতার কারণে ইনিংসটা আমার হূদয়ের খুব কাছের (২৬/১১-তে মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার পর)
 কার সঙ্গে ব্যাটিং ওপেন করাটা সবচেয়ে উপভোগ করেছেন?l
টেন্ডুলকার: বীরু এবং দাদাদুজনের সঙ্গে ব্যাটিং করাই আমি উপভোগ করেছি, অনেক স্মরণীয় স্মৃতিও আছেআইপিএলের সৌজন্যে সনা (জয়াসুরিয়া) ও রিকির (পন্টিং) সঙ্গে ওপেন করার সুযোগও হলো
 বাবা এখনো খেলে যাচ্ছে, ১৩ বছর বয়সী ছেলে অর্জুন এটাকে কীভাবে দেখে?l
টেন্ডুলকার: আগে ও বেশি কিছু জানত না, কারণ ক্রিকেট নিয়ে খুব একটা আলোচনা করতাম নাআমি বাড়িতে না থাকলে মন খারাপ করতপরে যখন আমার সঙ্গে নানা জায়গায় যাওয়া শুরু করল, লোকের প্রতিক্রিয়া দেখল…লোকে আমাকে কীভাবে দেখে বা মাঠে নামতে কীভাবে চিকার করে, এসব ওর ভাবনা বদলে দিয়েছেবুঝতে পেরেছে কেন আমি এত বাড়ির বাইরে থাকি
 মানুষ হিসেবে কতটা বদলেছেন?l
টেন্ডুলকার: এখনো আমি ওই একই শচীন১৬ বছর বয়সের মতোই খেলাটার সঙ্গে একই রকম একাত্মযত দিন খেলছি, এমন একাত্মই রয়ে যাব
 মাঠের ভেতরে-বাইরে এতটা শান্ত-সুস্থির থাকেন কীভাবে?l
টেন্ডুলকার: পরিবার থেকে শিখেছিক্রিকেট ও অন্যান্য দিক থেকে আমার ওপর যত চাপ এসেছে, ওরাই সব নিয়ে নিয়েছেএ কারণেই আমি স্রেফ খেলায় মন দিতে পেরেছিএত এত দায়িত্ব-প্রতিশ্রুতি, সময়ের সঙ্গে এসবে মানিয়ে নিতে শিখেছি
 কখনো রেগে যান?l
টেন্ডুলকার: না, আমার স্বভাবে এটা নেইহ্যাঁ, কখনো কখনো হতাশ হইকিন্তু রাগ? না
 জীবন থেকে পাওয়া কোন শিক্ষাটা ভাগাভাগি করতে চাইবেন?l
টেন্ডুলকার: ভালো মানুষ হওয়া জরুরিএটা হওয়া সহজ, কিন্তু ধরে রাখাটাই কঠিনআপনি মানুষ ভালো হলে বাকি সব এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়নিজের পেশার প্রতি আবেগ থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ, তাহলেই এগিয়ে যাওয়া এবং আরও পরিশ্রমের তাড়নাটা আসেস্বপ্ন দেখা, স্বপ্নকে তাড়া করা জরুরিস্বপ্নকে তাড়া করে বাস্তবে রূপ দিতে শৃঙ্খলা জরুরিখেলা ও জীবনে শর্টকার্ট বলে কিছু নেই

 (২৫ এপ্রিল/২০১৩)নিউজরুম.

শেয়ার করুন