মিয়ানমারে ‘নৃগোষ্ঠী নিধন’ চলছে: এইচআরডব্লিউ

0
78
Print Friendly, PDF & Email

মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নৃগোষ্ঠী নিধন অভিযানেনেমেছে বলে অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)সংস্থাটি বলেছে, হত্যা, নির্যাতন, নির্বাসন, জোর করে স্থানান্তরসহ নানা অপরাধের শিকার হচ্ছে রোহিঙ্গারাএসব অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দেশটির কর্মকর্তা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতা ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা সরাসরি জড়িততাঁরাই এসব অপরাধে নেতৃত্ব কিংবা উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে উসকে দিচ্ছেন
নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি গতকাল সোমবার একটি প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ করেছেতারা বলেছে, মুসলমানদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার সময় নিরাপত্তা বাহিনী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেকখনো কখনো উচ্ছৃঙ্খল জনতার সঙ্গে মিলে অপরাধ করছেএইচআরডব্লিউ বলেছে, রাখাইন রাজ্যে চারটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছেনিরাপত্তা বাহিনী হত্যার প্রমাণ মুছে ফেলতে নিহত ব্যক্তিদের এসব কবরে পুঁতে ফেলে
এইচআরডব্লিউর এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং তাদের সহযোগিতা বন্ধের মাধ্যমে মিয়ানমারের সরকার নৃগোষ্ঠী নিধন অভিযানে নেমেছে
তবে রাখাইন রাজ্যের সরকারি মুখপাত্র উইন মিয়াং বলেন, এইচআরডব্লিউর তদন্তকারীরা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেননিসরকার হামলার বিষয়টি আগে জানতে পারেনিঅস্থিতিশীলতা রোধে সরকার নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছিলমিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, সরকার এ রকম একপেশে প্রতিবেদনে পাত্তা দেবে না
রবার্টসন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সব দাতাগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন আনায়নে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানানতিনি বলেন, রাখাইন পরিস্থিতি জিইয়ে রাখলে তা শেষ পর্যন্ত দেশটির গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে
এইচআরডব্লিউ বলেছে, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য সোয়া লাখ মুসলমানকে বিতাড়িত করা হয়েছেতারা কোনো মানবিক সাহায্য পাচ্ছে না, আবার বাড়িতেও ফিরতে পারছে নাসরকারি তথ্যমতে, ২০১২ সালের জুনে রাখাইনে বৌদ্ধ-মুসলিমদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর এ পর্যন্ত ২১১ জন নিহত হয়
শতাধিক ব্যক্তির সাক্ষাকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে এইচআরডব্লিউতাঁরা বলেছেন, রাখাইনে চারটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে
সহিংসতার ভিডিও প্রকাশ: বিবিসি গতকাল একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছেএতে দেখা গেছে, মিকতিলা এলাকায় মুসলমানদের ওপর হামলা চালাচ্ছে বৌদ্ধরাতাতে ভিক্ষুরাও অংশ নিয়েছেনএ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল পুলিশ
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, উচ্ছৃঙ্খল জনতা এক মুসলিম ব্যক্তির মালিকানাধীন সোনার দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করছেপরে তাঁর বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেসেই আগুনের মাঝখানে এক ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছেদাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছেন পুলিশ সদস্যরা সময় পাশের লোকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘তাঁকে কেউ পানি দিও না, মরতে দাও
আরেকটি দৃশ্যে দেখা যায়, একদল দুর্বৃত্তের হাতে ধরা পড়ার পর এক যুবক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেনদুর্বৃত্তদের দলে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুও রয়েছেনওই যুবককে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়ওই যুবক মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছেনএকপর্যায়ে এভাবেই তিনি মারা যানএএফপি

 (রুপশী বাংলা নিউজ) ২৩ এপ্রিল /২০১৩.

শেয়ার করুন