আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রাজশাহীতে

0
102
Print Friendly, PDF & Email

রাজশাহী: আমের রাজধানী বলা হয় রাজশাহীকে। যার সুখ্যাতি দেশজুড়ে। যেদিকে তাকানো যায় চোখে পড়ে সারি সারি আম বাগান। ফাগুনের আগুন ঝরা মাসে সেখানে এখন হলুদ আর সবুজ রঙের সম্মিলন। গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ। এরইমধ্যে মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ ৮০ ভাগ গাছে।

আগাম জাতের কিছু গাছে আমের গুটিও এসেছে। আবহাওয়াও অনুকূলে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে রাজশাহীর কৃষি বিভাগ।

প্রায় আড়ইশ’ জাতের আম উৎপন্ন হয় রাজশাহীতে। তবে এবার ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাত, বোম্বাই, হিমসাগর, ফজলি, আম্রপালি, আশ্বিনা, ক্ষুদি, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ, কালীভোগ, তোতাপরী, দুধসর, লকনা ও মোহনভোগ জাতের আম বেশি চাষ হয়েছে।

গাছে গাছে বাহারি জাতের আম এখন দেশের কোটি কোটি মানুষের রসনা মেটাতে প্রস্তুত হচ্ছে। সব ভেবে আম চাষীদের মনে এখনই উঁকি দিচ্ছে মুনাফার আগাম বার্তা।

রাজশাহী উপ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী অঞ্চলে ৪৮ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। যা থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিকটন আম। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ছাড়িয়ে যাবে ১৩ মেট্টিক টন।

তথ্য মতে, রাজশাহী অঞ্চলে ৪৮ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমিতে মোট আম বাগানের প্রায় অর্ধেকই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। এ জেলায় ২৩ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান। যা থেকে উৎপাদিত আমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ মেট্রিকটন। এ ছাড়াও রাজশাহী জেলায় ৮ হাজার ৬৬৭ হেক্টর জমির আমবাগানে উৎপাদন ধরা হয়েছে ৯০ হাজার ৩শ’ ৫০ মেট্রিকটন।

অপরদিকে, নওগাঁ জেলায় ৪ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমির বাগানে আমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ২শ’ মেট্রিকটন, নাটোর জেলায় ৩ হাজার ৭শ’ হেক্টর বাগানে ৪২ হাজার ৮৪৬ মেট্রিকটন, বগুড়া জেলায় ৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমির বাগানে ৩১ হাজার ২৩০ মেট্রিকটন, জয়পুরহাটে ৬২২ হেক্টর বাগানে ৪ হাজার ১৩৬ মেট্রিকটন, পাবনা জেলায় ১ হাজার ৯০৪ হেক্টর জমিতে ১৫ হাজার ৩৭৮ মেট্রিকটন এবং সিরাজগঞ্জে ২ হাজার ৫৫ হেক্টর জমির আমবাগানে ২০ হাজার সাড়ে ৫শ’ মেট্রিকটন।

এদিকে, রাজশাহীর গাছে গাছে যখন মুকুলের সমারোহ তখন বসে নেই এ অঞ্চলের আমচাষীরাও। কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে বহুগুণ। আরও এক মাস আগে থেকেই আম চাষীদের এ ব্যস্ততা। ভালো ফলনের আশায় গাছ পরিচর্যায় বেশিরভাগ সময় কাটছে তাদের।

আম গাছে কীটনাশক ও ছত্রাক নাশক প্রয়োগ, সার ও সেচ প্রদানসহ আম গাছের পরিচর্যা নিয়ে আমচাষীরা এখন ভীষণ ব্যস্ত। বছরের এ সময়টা তাদের অন্য কাজের ফুরসত নেই।

রাজশাহীর পবা উপজেলার মথুরা গ্রামের আমচাষী রেজাউল ইসলাম বলেন, “আম বাগানে সারা বছর কোনো কাজ থাকে না। তবে মুকুল আসার আগে এর পরিচর্যার অভাব হয়না। কারণ ভালো ফলনের জন্য এ সময় আম চাষীরা উঠে পড়ে লাগেন।

এছাড়া যারা বাগান ইজারা নিয়েছেন, তারা গাছের পরিচর্যায় আরও বেশি মনোযোগী। কারণ নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে তাদের বাগানের ইজারার টাকা লাভসহ উঠানোর চেষ্টাও থাকে এসময়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল আমীন বাংলানিউজকে বলেন, “এবার আম উৎপাদনের উপযোগী বছর। এখন আর অফ ইয়ার, অন ইয়ার নেই। চাষীরা আম গাছের নিয়মিত পরিচর্যা এবং যত্ন নেওয়ায় প্রতি বছরই ভালো ফলন হয়।

তিনি বলেন, “আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে। হুট করে গরম আসেনি। হালকা হালকা শীতের পর গরম আসছে ধীরে ধীরে। এটা আমের ভালো ফলনের জন্য খুবই উপযোগী আবহাওয়া।

নুরুল আমীন আরও বলেন, “বর্তমানে আমের জন্য ক্ষতিকর শোষক পোকার আক্রমণও নেই। এখন রাজশাহী অঞ্চলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হালকা বৃষ্টিপাত হলে আমের জন্য সেটা আরো ভালো হবে। হালকা বৃষ্টিতে আমের গুটি টিকবে বেশি। যা ফলনের জন্য উপকারী।”

প্রসঙ্গত, রাজশাহীর বাজারে মে মাসের শেষ দিক থেকে আম উঠতে শুরু করবে। প্রথমে উঠবে গোপালভোগ ও রানীপছন্দ জাতের আম। এর এক সপ্তাহের মধ্যেই লকনা, খিরসাপাত, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ, দুধসর, মোহনভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমে ভরে উঠবে বাজার। এরপর চলতি মৌসুমের আকর্ষণীয় ফজলি এবং সবশেষ বাজারে উঠবে আশ্বিনা আম।

 মার্চ ২৫, ২০১৩

শেয়ার করুন