চলনবিলে বিষমুক্ত করলা চাষ

0
88
Print Friendly, PDF & Email

চলনবিলের এঁটেল মাটিতে চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত করলাপরিবেশ জন¯^াস্থ্য মাটির গুনাগুণ রা আর আর্থিক অপচয়রোধ করতে কৃষক কীটনাশক ছাড়াই করলা উপাদন করছেচলনবিলের তাড়াশ সদর ইউনিয়নের কোহিত গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক কৃষক গত ৩ বছর ধরে বিষমুক্ত করলা আবাদ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছেনএজন্য সেক্স ফেরোবন (জাদুর বাক্স) পদ্ধতি ব্যবহার করেছে কৃষি বিভাগ

কৃষক ও কৃষি বিভাগের সাথে কথা বলে জানাগেছে,- বর্ষায় থৈ থৈ পানি আর শুকনায় ইরি-বোরো আবাদ হয়-চলনবিলের ওই গ্রামটিতেকিন্তু ফিবছর ইরি-বোরো চাষে আর্থিকভাবে তির শিকার হন কৃষক৩ বছর আগে কোহিত গ্রামের কয়েকজন কৃষক ¯^ল্প পরিসরে ইরি-বোরো ধানের পরিবর্তে করলা আবাদ শুরু করেনতারা কম খরচে বেশী লাভবান হনতাদের দেখাদেখি পরের বছর আরো কৃষক ধানের জমিতে করলা আবাদ করেনতারাও লাভবান হন

কিন্তু ফ্রুটফ্লাই (মাছি পোকা) নামে এক ধরনের পোকা করলার জন্য তিকর হয়ে উঠেকৃষক এসব পোকা দমন করতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার শুরু করেএজন্য বিঘাপ্রতি প্রায় ৫ থেকে ৮ হাজার টাকার কীটনাশক লাগতওই বিষ ছিটানোর পর খেতের করলা বিষযুক্ত হয়ে বাজারজাত হতোতার পরও মাছি পোকার আক্রমনে নষ্ট হচ্ছিল খেতের করলাপরে কৃষি বিভাগ করলা চাষিদের নিয়ে সচেতনতা মুলক সভা করেপরে ওই গ্রামের সকল করলা চাষি ফ্রুটফ্লাই (মাছি পোকা) নিধনে জাদুরবাক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে উপকৃত হয়বাড়তে থাকে করলার উপাদন

তাড়াশ কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে,- ৩ বছর আগে ১০ হেক্টর জমিতে পরীা মুলক ভাবে করলা চাষ শুরু হয়ইরি-বোরো আবাদের চেয়ে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষক এবছর ৩০ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত প্রক্রিয়ায় করলার চাষ হচ্ছেবিঘাপ্রতি জমিতে করলা চাষে খরচ হয়ে গড়ে ১৩ হাজার টাকাবিঘাপ্রতি গড়ে উপাদন হচ্ছে ৩৫ মন করলামাঠ থেকে প্রতি কেজি করলা (পাইকারি) ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছেওই হিসাবে ৫৬ হাজার টাকার করলা বিক্রি হয়খরচ বাদে লাভ হয় ৪৩ হাজার টাকাকিন্তু ইরি-বোরো ধান চাষ করে কৃষক তেমন লাভবান হচ্ছে না

ওই গ্রামের কৃষক- এন্তাজ আলী, মজিদ, বুলবুল জানান,- ১০০-১২০ দিনের মধ্যে করলা উপাদন শুরু হয়ধান চাষেরমত ঝুঁকি নেইআর বিষমুক্ত প্রক্রিয়ায় করলা চাষ করায় ক্রেতার অপোয় থাকতে হয় নাবরং ক্রেতারাই করলা কিনতে কৃষকের মাঠে এসে ভিড় জমায়একারনে কৃষকের পরিবহন খরচ ও খাসজনার টাকা গুনতে হয়নালাভ হয় বেশীতাছাড়া সার-কীটনাশক ব্যবহার না করায়  করলার উপাদন বেশী হচ্ছেজমির মাটির গুনাগুন নষ্ট হচ্ছে নাশরীর সুস্থ্য থাকছেএজন্য কৃষিবিভাগ তাদের সহযোগিতা করছে

কৃষক শিহাব আলী জানান,-  বিষমুক্ত করলা উপাদন হওয়ায় প্রতিদিন ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, ট্ঙ্গাাইল ও বগুড়া থেকে ক্রেতারা মাঠে এসে ট্রাক ভরে করলা নিয়ে যাচ্ছেদামও ভাল মিলছেপ্রতিদিন গড়ে ৩০০ মন থেকে ৫০০ মন করে করলা বেচা-বিক্রি হচ্ছেএই করলা বিক্রিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে স্থায়ী আড়তএ বছর করল¬ার বাম্পার ফলন ও দাম বেশী পাওয়ায় তাদের মুখে হাঁসি ফুটে উঠেছে

সরেজমিন গিয়ে দেখাগেছে,- তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কি.মি. দূরে কোহিত গ্রামটির অবস্থানমাঠের পর মাঠ করলা খেতকেউ জমি পরিচর্চা করছেন আবার কেউ মাঠ থেকে করলা তুলতে ব্যস্ততাদের সাথে যোগ দিয়েছে কৃষান বধুরাওমাঠের পাশ দিয়ে চলে গেছে গ্রামীণ পাকা সড়কওই সড়কের পাশেই গড়ে উঠেছে করলা বিক্রির অস্থায়ি আড়পাইকারী দরে কৃষক নিজেই বিক্রি করছেনরাতে দুর -দুরান্ত থেকে আসা মহাজনরা শত শত মণ করল¬া কিনে ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে

করলার পাইকারি ক্রেতা বগুড়ার হাফিজুর রহমান ও ঢাকার খোরশেদ আলম জানান, তারা জানতে পেরেছেন এখানকার করলা বিষমুক্ত পদ্ধতিতে চাষপ্রথমে তারা বিশ্বাস করতে চাননিপরে ¯^ে কৃষকের করলা খেত দেখেনকিছু নমুনা সংগ্রহ করে শহরে নিয়ে পরীার পর বিষয়টি নিশ্চিত হনএখন এসব করলা ঢাকার নামীদামি দোকানে সরবরাহ করছেনলাভও হচ্ছে ভাল

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান,- ফ্রুটফ্লাই (মাছি পোকা) নামে এক ধরনের পোকার আক্রমনে করলার ব্যাপক তি হচ্ছিলকৃষকরা প্রতিকারের পরামর্শ নিতে কৃষি অফিসে ধর্ণা দিতোঅনেকে আবার এসব পোকা দমন করতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার শুরু করেপরে কীটনাশক মুক্তভাবে করলা চাষ পদ্ধতি নিয়ে ওই গ্রামের কৃষকদের সাথে দিনের পর দিন উঠান বৈঠকের মাধ্যমে উসাহিত করা হয়এখন চলনবিলের অনেক কৃষক উসাহিত হচ্ছে

২৪ মার্চ/২০১৩/নিউজরুম.

শেয়ার করুন