স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পাচ্ছেন ৫ পাকিস্তানি

0
155
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা: স্বাধীনতাযুদ্ধে অনেক বিদেশি আমাদের সাহায্য করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখায় স্বাধীনতা দিবসে এবার যেসব বিদেশি নাগরিককে সম্মাননা দেওয়া হবে, তাদের মধ্যে কয়েকজন পাকিস্তানিও রয়েছেন।

শনিবার আগারগাঁও এলজিডি মিলনায়তনে চাইল্ড পার্লামেন্ট অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি একথা বলেন।

পাকিস্তানের একটি অনলাইন পত্রিকা সম্মাননা পেতে যাওয়া পাঁচজনের নাম প্রকাশ করেছে। তারা হলেন কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, কবি ও অ্যাক্টিভিস্ট হাবিব জালিব, লেখক ও বুদ্ধিজীবী প্রফেসর ওয়ারিস মীর, বেলুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী নেতা মীর গাউস বক্স বিজেনজো এবং আইনজীবী ও অ্যাক্টিভিস্ট মালিক গুলাম গিলানি।

সম্মাননা পেতে যাওয়া সবাই প্রয়াত। তাদের সন্তানরা পুরস্কার নিতে আসবেন। এর মধ্যে বিশিষ্ট আইনজীবী ও অ্যাক্টিভিস্ট আসমা জাহাঙ্গীর আসছেন তার বাবা মালিক গুলাম জিলানির পক্ষে এবং সাংবাদিক হামিদ মীর আসছেন তার বাবা ওয়ারিস মীরের পক্ষে সম্মাননা নিতে।

পাকিস্তানিদের সম্মাননা দেওয়া প্রসঙ্গে দীপু ‍মনি বলেন, “স্বাধীনতাযুদ্ধে অনেক বিদেশি আমাদের সাহায্য করেছেন। তাদের মধ্যে অনেক পাকিস্তানিও আছেন। তারা তখন প্রশাসনের ভেতরে এবং বাইরে থেকে আমাদের সহায়তা করেছেন। তাদের রোববার বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে। সম্মাননা দেওয়ার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।”

সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক হত্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, “সীমান্তে রাতের অন্ধকারে বেশির ভাগ শিশু নিহত হয় পাচারের মতো কোনো অপরাধ সংঘটনের সময়। সীমান্তে মানুষ যে সময়ই নিহত হোক না কেন আমরা চাই হত্যা বন্ধ হোক। সেজন্য দু’দেশকেই আন্তরিক হতে হবে। ভারতকে আমরা বারবার অনুরোধ করছি, সীমান্তে হত্যা না করে অপরাধের সময় অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।”

তিনি বলেন, ‌‌‌‌হত্যাকাণ্ডকে পরিহার করতে হবে। সীমান্তে শিশুদের মাদকপাচার ও অন্যান্য অপরাধে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে আইনের যথার্থ প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা আনতে হবে। শিশু পাচার রোধে সরকার অত্যন্ত তৎপর। এ বিষয়ে আঞ্চলিকভাবে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি সরকার হাতে নিয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে ২৯ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে। অন্যদিকে প্রায় ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ শরণার্থী আছে অনিবন্ধিত। অনিবন্ধিত শরণার্থীরা শিশু নিবন্ধনের জন্য অবৈধ পথ অবলম্বন করে। তারা ভুয়া সনদপত্র গ্রহণ করছে। আমি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলব।”
এ পর্যন্ত আড়াই লাখ শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানান দীপু মনি। তিনি বলেন, “৩০ বছর যাবৎ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা চলছে। সব শরণার্থীকে তাদের নিজ দেশে পাঠানোর জন্য আলোচনা চলছে। শরণার্থী শিবিরের শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের জন্য যে দু’টি শিবির আছে, সেখানে শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া অন্য শিশুদের শিক্ষার জন্যও কাজ চলছে।”

বাল্যবিয়ের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, “এখনো দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাল্য বিয়ের বিষয়ে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন, অভিভাবক ও  সমাজের সবাইকে সচেতনতার সাথে কাজ করতে হবে।  আমাদের সীমিত সম্পদ। এই সীমিত সম্পদ দিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।”

পথশিশুদের নির্দিষ্ট ডাটাবেজ ও শিশুদের বিভিন্ন অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে সচেতনতার ওপর জোর দেন দীপু মনি।

বর্তমান সরকার নির্বাচন পদ্ধতি অবাধ ও সুষ্ঠু করতে পেরেছে । এ সরকারের আমলে এ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ হাজার নির্বাচন হয়েছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে ৬৩ হাজার ১২৯জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানান তিনি। অধিবেশনটির সভাপতিত্ব করেন এস এম শাহরিয়ার সিফাত।

 মার্চ ২৩, ২০১৩

শেয়ার করুন