চাকরিতে সিজিপিএ

0
108
Print Friendly, PDF & Email

আজকাল প্রায়ই দেখা যায়, চাকরির ক্ষেত্রে সিজিপিএ বা ডিভিশন নির্ধারণে একেক প্রতিষ্ঠান একেক রকমভাবে নির্ধারণ করে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেকোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সিজিপিএ ২.০-কে দ্বিতীয় শ্রেণী হিসেবে গণ্য করে আবার কেউ বা ২.৫০-কে দ্বিতীয় শ্রেণী হিসেবে গণ্য করে
আজকাল অধিকাংশ চাকরির ক্ষেত্রে দেখা যায় এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ঢালাওভাবে ২.৫০-কে দ্বিতীয় শ্রেণী হিসেবে গণ্য করা হয়অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ডিভিশন নির্ধারণে সিজিপিএ ৪.০-এর ক্ষেত্রে সিজিপিএ ২.২৫ বা ৪৫% মার্কস এবং ৫.০-এর ক্ষেত্রে ২.৮ কিংবা বা ৪৫% মার্কস দ্বিতীয় শ্রেণী হিসেবে গণ্য করা হবে
উল্লেখ্য, এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ২.৫০ বা ৩.০ পাওয়া যত সহজ, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তা পাওয়া তত সহজ নয়আবার স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধিকাংশ প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে ৩.০ পাওয়া যত সহজ, অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩.০ পাওয়া তত সহজ নয়আবার স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই মানবিক বিভাগ থেকে ৩.০ পাওয়া যত সহজ, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩.০ পাওয়া তত সহজ নয়
আমি এ কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে, বিশেষ করে পদার্থ, গণিত, পরিসংখ্যানসহ অন্য কিছু বিষয়ে ৫০% মার্কস তুলতে যত পড়াশোনা করার প্রয়োজন হয়, মানবিক বিভাগ থেকে ৬০% মার্কস বা ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার জন্য তত পড়াশোনার প্রয়োজন হয় নাস্নাতক পর্যায়ের বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী যদি ৪৯% মার্কস বা ২.৫০-এর চেয়ে কম সিজিপিএ প্রাপ্ত হয়, তবে সেই শিক্ষার্থী কি একেবারে মেধাহীন এবং মূল্যহীন! চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে তো তাই-ই মনে হয়
কাজেই, বিভ্রান্তি দূরীকরণে সব বিষয় বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পুনরায় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার

শেয়ার করুন